Logo

জিয়া-খালেদার পর তারেক, বিএনপির সামনে নতুন রাজনৈতিক পরীক্ষা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৪
জিয়া-খালেদার পর তারেক, বিএনপির সামনে নতুন রাজনৈতিক পরীক্ষা
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছর পূর্ণ করছে। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত দলটি দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় কখনো রাষ্ট্রক্ষমতায়, আবার কখনো প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় ছিল। এই দীর্ঘ সময়ে দলের নেতৃত্বে ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, তার স্ত্রী খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে তাদের ছেলে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিজ্ঞাপন

তিন প্রজন্মের নেতৃত্বে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান ও সাংগঠনিক কাঠামোয় এসেছে নানা পরিবর্তন। দীর্ঘদিন বিরোধী রাজনীতিতে থাকার পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে দলটি আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরেছে। ফলে সরকারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণ, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের মতো নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে।

জিয়াউর রহমানের হাতে বিএনপির প্রতিষ্ঠা

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরতার ধারণাকে সামনে রেখে দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন কর্মসূচিতে ১৯ দফা অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বিভিন্ন রাজনৈতিক মত ও পথের মানুষকে একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার মধ্য দিয়ে অল্প সময়েই বিএনপিকে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন জিয়াউর রহমান।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তবে ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর দলটি নেতৃত্বের সংকটে পড়ে। পরবর্তী সময়ে তার সহধর্মিণী খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন।

খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণভিত্তি বিস্তার

বিজ্ঞাপন

১৯৮২ সালে বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন খালেদা জিয়া। পরের বছর তিনি দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে কাউন্সিলের মাধ্যমে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় ৪২ বছর দলটির শীর্ষ নেতৃত্বে ছিলেন খালেদা জিয়া।

দলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনবার প্রধানমন্ত্রীও নির্বাচিত হন তিনি। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তার নেতৃত্ব বিএনপিকে দেশের বড় রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করে।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার নেতৃত্বে বিএনপি দীর্ঘ আন্দোলন, নির্বাচন এবং সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জন করে।

বিজ্ঞাপন

তারেক রহমানের রাজনৈতিক উত্থান

বিএনপির মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তারেক রহমান তার মায়ের সঙ্গে রাজপথের আন্দোলনে যুক্ত হন। ১৯৮৮ সালে তিনি বগুড়ার গাবতলী উপজেলা ইউনিটে সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগ দেন।

১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন তিনি। ১৯৯৩ সালে বগুড়া জেলা ইউনিটে একটি সম্মেলন আয়োজন করেন, যেখানে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। ওই সম্মেলনের পর অন্যান্য জেলা ইউনিটকেও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নেতৃত্ব নির্বাচনে উৎসাহিত করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

২০০২ সালে বিএনপির স্থায়ী কমিটি তাকে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক পদে মনোনীত করে। ২০০৫ সালে দেশব্যাপী তৃণমূল সম্মেলনের আয়োজন এবং বিভিন্ন উপজেলা ইউনিটের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারেক রহমান।

২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের সময় গ্রেপ্তারের পর চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান তিনি। ২০০৯ সালে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। এরপর ২০২৬ সালে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির চেয়ারম্যান পদ শূন্য হলে স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তে তিনি দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে জিয়া পরিবারের তৃতীয় প্রজন্ম বিএনপির সর্বোচ্চ নেতৃত্বে আসে।

বিজ্ঞাপন

তিন নেতৃত্বে বিএনপির তিন অধ্যায়

বিএনপির ৪৮ বছরের ইতিহাসকে মোটাদাগে তিনটি নেতৃত্বপর্বে ভাগ করা যায়। জিয়াউর রহমানের সময় দলটির প্রতিষ্ঠা ও রাজনৈতিক ভিত্তি নির্মিত হয়। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি গণভিত্তিসম্পন্ন নির্বাচনী শক্তিতে পরিণত হয়। আর তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ বিরোধী রাজনীতির পর দলটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এখন মূল প্রশ্ন, ক্ষমতায় ফিরে বিএনপি কতটা সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

বিজ্ঞাপন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রয়াত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রেখে যাওয়া শূন্যতা অপূরণীয়। তবে তার রাজনৈতিক নীতি ও আদর্শকে ধারণ করেই বর্তমান নেতৃত্ব একটি আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার পথে এগিয়ে যেতে চায়।

তিনি বলেন, ৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় বিএনপির আন্দোলন, নির্বাচন, সরকার পরিচালনা এবং বিরোধী রাজনীতির অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরে এসে দলটির সামনে এখন নতুন ধরনের পরীক্ষা।

“সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলীয় ঐক্য, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, তৃণমূলের প্রত্যাশা এবং জনগণের আস্থা ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।”

বিজ্ঞাপন

সরকার ও দলের মধ্যে ভারসাম্য

ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের জন্য সরকার ও দলীয় সংগঠনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা অন্যতম বড় পরীক্ষা। বিরোধী দলে থাকা অবস্থার রাজনৈতিক কৌশল সরকার পরিচালনার সময় একইভাবে কার্যকর নাও হতে পারে।

সরকারের সিদ্ধান্তের দায় যেমন সরকারের ওপর বর্তায়, তেমনি দলীয় নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডের প্রভাবও দলের ভাবমূর্তিতে পড়ে। স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় প্রভাব বিস্তার, সরকারি প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ কিংবা দলীয় পরিচয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হলে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তাই প্রশাসন ও দলীয় সংগঠনের মধ্যে প্রয়োজনীয় দূরত্ব বজায় রেখে রাজনৈতিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা তারেক রহমানের নেতৃত্বের অন্যতম বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

তৃণমূলে গ্রুপিং ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব

দীর্ঘ সময় বিরোধী রাজনীতিতে থাকার পর ক্ষমতায় এলে দলের ভেতরে পদ-পদবি, মনোনয়ন, প্রভাব ও বিভিন্ন সুযোগকে ঘিরে প্রতিযোগিতা বাড়ার আশঙ্কা থাকে। একই এলাকায় একাধিক নেতার আলাদা অনুসারী গড়ে উঠলে সাংগঠনিক বিভাজনও তৈরি হতে পারে।

এর প্রভাব স্থানীয় সরকার নির্বাচন থেকে জাতীয় নির্বাচন এবং দলের নিয়মিত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও পড়তে পারে। এ কারণে তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্ব নির্বাচনে যোগ্যতা, জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনগ্রহণযোগ্যতার পাশাপাশি গ্রুপিং নিয়ন্ত্রণেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

পুরোনো-নতুন নেতৃত্বের সমন্বয়

বিএনপির সামনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অভিজ্ঞ ও নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মও বর্তমানে দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে প্রজন্মগত পরিবর্তনের সঙ্গে সাংগঠনিক কৌশলেও পরিবর্তন আসছে। ফলে প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শ ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ধরে রেখে নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশার সঙ্গে সংগঠনকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দলীয় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি

ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দলের নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়ে। কোনো নেতার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড বা অনিয়মের অভিযোগও শেষ পর্যন্ত পুরো দলের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

এ কারণে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, সাংগঠনিক কাঠামোর প্রতি আনুগত্য এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা দেখানো জরুরি। দলীয় জবাবদিহি দুর্বল হলে সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পাশাপাশি সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

রাষ্ট্র পুনর্গঠনও বড় পরীক্ষা

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মতে, বর্তমান সময়ে দলটির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেশকে নতুন করে পুনর্গঠন করা।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক শূন্যতার সময়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন ধারার সূচনা করেছিলেন। বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি জিয়াউর রহমানের চিন্তা ও আদর্শ।

নিতাই রায় চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময়ে দেশের অর্থনীতি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকেও দুর্বল করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীন, কার্যকর ও জনবান্ধব করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আরও পড়ুন

অর্থনীতি পুনর্গঠনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে অপসংস্কৃতি ও মৌলবাদী চিন্তার বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করার ওপর জোর দেন তিনি।

তার মতে, রাষ্ট্র পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক জাগরণের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর বাংলাদেশ গড়ে তোলা এখন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

জনগণের আস্থা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ

রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখাও বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধী দলে থাকার সময় যে জনসম্পৃক্ততা দলটির রাজনৈতিক শক্তির অন্যতম ভিত্তি ছিল, ক্ষমতায় যাওয়ার পর সেটি একইভাবে ধরে রাখা সহজ নয়।

দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে তার প্রভাব সরকারের পাশাপাশি বিএনপির জনপ্রিয়তার ওপরও পড়তে পারে।

সামনে নতুন রাজনৈতিক পরীক্ষা

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী তাই শুধু অতীতের রাজনৈতিক ইতিহাস স্মরণের উপলক্ষ নয়; দলটির জন্য এটি নতুন অধ্যায়ের সূচনাও। জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত বিএনপি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রক্ষমতা ও বিরোধী রাজনীতির অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। এখন তৃতীয় প্রজন্মের নেতৃত্বে দলটি প্রবেশ করেছে ভিন্ন এক রাজনৈতিক বাস্তবতায়।

ক্ষমতায় ফিরে বিএনপির সামনে মূল পরীক্ষাগুলো হবে সরকার ও দলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা, তৃণমূলের দ্বন্দ্ব নিয়ন্ত্রণ, অভিজ্ঞ ও নতুন নেতৃত্বের সমন্বয়, দলীয় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করা।

সবশেষে জনগণের আস্থা ধরে রাখাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি। ৪৮ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি কতটা কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক সরকার পরিচালনা করতে পারে, সেটিই আগামী দিনের রাজনীতিতে বিএনপির নেতৃত্বের বড় মূল্যায়ন হয়ে উঠবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD