ঢাকা উত্তর সিটিতে আসিফ ও দক্ষিণে প্রার্থী হচ্ছেন পাটওয়ারী

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী নিয়ে অবস্থান পরিবর্তন করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলীয় সূত্র ও নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এর আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব এবং দক্ষিণে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম ঘোষণা করেছিল এনসিপি। তবে সেই প্রাথমিক সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে নতুন করে প্রার্থী নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে দলটি।
এনসিপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংশোধিত প্রার্থী তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হতে পারে।
প্রার্থী পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, ‘এটা আমরা দুই এক দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি প্রেস বিফ্রিং করবো। সেখানে জানানো হবে।’
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
এর আগে চলতি বছরের ২৯ মার্চ স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির জরুরি সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সেই ঘোষণায় ঢাকা দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা উত্তরে আরিফুল ইসলাম আদীবের নাম ছিল।
বিজ্ঞাপন
তবে বর্তমানে দক্ষিণ সিটিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং উত্তরে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে প্রার্থী করার বিষয়টি দলীয় পর্যায়ে গুরুত্ব পাচ্ছে।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, ‘হ্যাঁ, এরকম একটা পরিকল্পনা আছে কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা দ্রুতই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবো।’
দলীয় সূত্র বলছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রায় ছয় মাস আগে নেওয়া প্রার্থীসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করছে এনসিপি। শীর্ষ পর্যায়ের দুই নেতাকে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ দুই সিটি করপোরেশনে মাঠে নামানোর বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এরই মধ্যে দুই নেতার ভোটার এলাকা পরিবর্তনের বিষয়টিও সামনে এসেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজেদের নির্বাচনি এলাকার ভোটার হওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন বলে জানা গেছে।
এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও আন্তর্জাতিক সেলের ইনচার্জ আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেন, ‘আমরা ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণে একটি ইনিশিয়াল প্রার্থিতা দিয়েছিলাম। তো সেই জায়গায় এখন সময়ের প্রয়োজনে আমরা মনে করছি যে এটা পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা ফাইনাল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যারা নেতৃত্ব আছেন, তারা নিজেরা নিজেদের মতো করে ভোটার হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায়। এটা ইঙ্গিতবহ। বাট এটা এখনো চূড়ান্ত না। চূড়ান্ত হলে ইনশাআল্লাহ আমরা জানাবো।’
বিজ্ঞাপন
প্রার্থী পরিবর্তনের সুযোগ সম্পর্কে আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেন, ‘এ ধরনের হতে পারে এবং এটা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্বে, চূড়ান্ত মনোনয়ন দাখিলের পূর্ব পর্যন্ত কিন্তু এটা পরিবর্তন হতে পারে।’
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, এনসিপির রাজনীতি কেবল নির্বাচনকেন্দ্রিক নয়। নির্বাচনকে দলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করা এবং তৃণমূলের সংগঠন শক্তিশালী করার একটি মাধ্যম হিসেবে দেখছে দলটি।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারের তথ্য অনুযায়ী, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হয়েছেন। অন্যদিকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দক্ষিণ থেকে উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার এলাকা স্থানান্তর করেছেন।
আসিফ মাহমুদ আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরম-১৩-এর মাধ্যমে আবেদন করে তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন আফতাবনগর এলাকায় ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে তার আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উত্তরা এলাকার ভোটার ছিলেন। নতুন করে তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনে ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। ফরম-১৩-এর মাধ্যমে করা তার আবেদনও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশন অনুমোদন করেছে।
দুই নেতার ভোটার এলাকা পরিবর্তনের ঘটনাকে এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন দলটির নেতারা। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি চূড়ান্ত নয় বলেও জানিয়েছেন তারা।








