জ্বালানি সংকটে মধ্যেও ৪৫০ গাড়ির লংমার্চ কেন, প্রশ্ন রিজভীর

জ্বালানি সংকটের মধ্যে রংপুরমুখী লংমার্চে প্রায় ৪৫০টি গাড়ি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়ে সরকারের ওপর সংকটের দায় চাপিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন রিজভী।
তিনি বলেন, দুর্নীতি ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজনৈতিক দলগুলো কর্মসূচি পালন করতে পারে। তবে রংপুরে যাওয়ার জন্য ৪৫০টি গাড়ি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
রিজভীর ভাষ্য, ‘এই জ্বালানি সংকটের সময় এই ৪৫০ গাড়ি ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলে গেল। ৪৫০ গাড়ির যে জ্বালানি পুড়ল, তা হতে দিলেন কেন? বরং ওটা যদি না পুড়ত, তাহলে আমাদের অনেক সাশ্রয় হতো।’
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি দাবি করেন, যমুনা সেতুর টোল প্লাজার হিসাব অনুযায়ী লংমার্চের প্রায় ৪৫০টি গাড়ি সেতু পার হয়েছে। এর আগে টোল প্লাজা সূত্রও লংমার্চের ৪৩০ থেকে ৪৫০টি গাড়ি সেতু পার হওয়ার তথ্য জানিয়েছিল।
জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের প্রসঙ্গে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন রিজভী। তিনি দাবি করেন, আমেরিকা-ইরান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এই বৈশ্বিক সংকটের কারণে আজ এই যে মূল্যবৃদ্ধি, সেটা বিবেচনায় আপনারা নিচ্ছেন না। না নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।’
বিজ্ঞাপন
রিজভীর দাবি, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রতি লিটার ডিজেল কিনতে সরকারের প্রায় ২০৫ টাকা খরচ হচ্ছে। আগের ১১৫ টাকা বিক্রয়মূল্যের তুলনায় প্রতি লিটারে বড় অঙ্কের লোকসান হচ্ছিল এবং মূল্য সমন্বয়ের পরও সরকারকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। মঙ্গলবারের বক্তব্যে তিনি বিভিন্ন দেশের ডিজেলের দামের তুলনাও তুলে ধরেন।
রিজভী বলেন, বিরোধী দল গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করবে—এতে আপত্তি নেই। তবে কর্মসূচির কারণে জনদুর্ভোগ বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলে তার দায়ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর নিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র আছে, কথা বলবেন, জোরালো সমালোচনা করবেন। পার্লামেন্টের ভেতরেও করতে পারেন, বাইরেও করতে পারেন।’
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তার দাবি, সাম্প্রতিক লংমার্চসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে সরকার বা সরকারের পক্ষের কোনো দল বাধা দেয়নি। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি বাস-ট্রেনে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনার সমালোচনা করেন। এসব ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
বক্তব্যে রিজভী জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ভূমিকারও সমালোচনা করেন। পাশাপাশি ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত এবং সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন।
আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়কারী ব্যারিস্টার নাসিম খান, জোটের মুখপাত্র এস এম শাহাদাতসহ অন্য নেতারা বক্তব্য দেন।








