Logo

আখতারুজ্জামানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে মুক্তি দিন

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫:২৫
আখতারুজ্জামানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে মুক্তি দিন
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কথা বলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। তিনি এ মামলা প্রত্যাহারের পাশাপাশি রিমান্ডের আদেশ বাতিল করে আখতারুজ্জামানকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ১ অক্টোবর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিমানবন্দরে অব্যবস্থাপনার কারণে যাত্রীদের একটি অংশকে দীর্ঘ সময় লাগেজ, জমজমের পানি ও ট্রলির জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য, ভিআইপি যাত্রী হিসেবে ক্ষোভ প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষকে কঠোর কথা বলা নাগরিক অধিকারের মধ্যেই পড়ে এবং আখতারুজ্জামান সেই অধিকার প্রয়োগ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার ঘটনায় দুজনকে বরখাস্ত করার মধ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষ সেখানে অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তার দাবি, সেই পরিস্থিতির প্রতিবাদ করার কারণেই আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, এজাহারে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে গায়ে হাত দেওয়া, আঘাত ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে ওই সময় উপস্থিত থাকা এমপি কামাল হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, আখতারুজ্জামান কাউকে আঘাত বা নাজেহাল করেননি। ঘটনাটির ভিডিওতেও বিষয়টি দেখা যায় বলে দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

গোলাম পরওয়ার বলেন, আখতারুজ্জামান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তিনি স্বেচ্ছায় নিজের বাসা থেকে পুলিশের সঙ্গে গেছেন। তার প্রশ্ন, যদি তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা না করেন, তাহলে তাকে হেলমেট পরিয়ে আদালতে নেওয়ার প্রয়োজন হলো কেন।

তিনি দাবি করেন, আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার এবং রিমান্ড বাতিল করে তাকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে ‘গুপ্ত’ এবং ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করার সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়েও কথা বলেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে একসঙ্গে ছিল এবং ১৯৯১ সালে জামায়াতের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠন করেছিল।

তার দাবি, অতীতে বিএনপি ও জামায়াতের রাজনৈতিক সহযোগিতার সময়ে জামায়াতকে যেভাবে আখ্যায়িত করা হয়নি, এখন ভিন্ন ভাষায় বক্তব্য দেওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি ১৯৭১ সালের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জনগণের ওপর সিদ্ধান্ত ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতকে ‘স্বাধীনতাবিরোধী’, ‘রাজাকার’ বা ‘গণহত্যাকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করার রাজনৈতিক দায় সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জামায়াতের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের ভাষায় বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, বিএনপির বক্তব্যের সঙ্গে আওয়ামী লীগের বক্তব্যের মিল কেন তৈরি হচ্ছে এবং এ নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই।

বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতকে ‘গুপ্ত’, ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ বা ‘গণহত্যাকারী’ হিসেবে ট্যাগ দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। ১৯৭১ সালের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জনগণই চূড়ান্ত বিচার করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, জাতিকে বিভক্ত করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করলে জনগণ তার জবাব দেবে। দেশের স্বার্থে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সরকার ভালো উদ্যোগ নিলে জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতা করবে, আর দেশবিরোধী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে তার বিরোধিতা করা হবে।

বিজ্ঞাপন

গোলাম পরওয়ারের ভাষ্য, জামায়াতে ইসলামী অপরিণত কোনো রাজনৈতিক দল নয়; তারা দেশের স্বার্থে রাজনীতি করছে। সরকারের কোনো কর্মকাণ্ড ফ্যাসিবাদী রাজনীতি বা ভারতের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তার বিরোধিতা করা হবে বলেও তিনি জানান।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD