Logo

গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি ছাত্রশক্তির

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭:৪২
গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি ছাত্রশক্তির
ছবি: সংগৃহীত

সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে গণভোটের রায় অনুযায়ী অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। একই সঙ্গে সংসদে গঠিত সংশোধন কমিটি বাতিল এবং এর সুপারিশের ভিত্তিতে কোনো সংশোধনী বিল না আনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি আবু বাকের মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরী এসব দাবি তুলে ধরেন।

বিবৃতিতে নেতারা সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির গঠন ও কার্যক্রম নিয়ে আপত্তি জানান। তাঁদের ভাষ্য, এই কমিটি গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত জনমতের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই কমিটির কার্যক্রম, প্রস্তাব কিংবা সুপারিশের কোনো কিছুই তাঁরা গ্রহণ করছেন না।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাদের দাবি, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে জনগণ স্পষ্টভাবে সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত গেজেট অনুযায়ী, ওই গণভোটে ৪ কোটি ৭২ লাখের বেশি ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। সংগঠনটির মতে, এই রায় ছিল জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-এর প্রতি জনগণের সম্মতি। ওই আদেশে সংবিধান পরিবর্তনের প্রক্রিয়া হিসেবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কথা বলা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সংবিধান কীভাবে পরিবর্তন হবে, তা জনগণ ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারণ করেছে। ফলে এ বিষয়ে নতুন করে আলোচনা বা দর-কষাকষির সুযোগ নেই।

বিজ্ঞাপন

ক্ষমতাসীন দল গণভোটের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সংসদে সংশোধন কমিটি গঠন করেছে বলেও অভিযোগ করেন ছাত্রশক্তির নেতারা। তাঁদের প্রশ্ন, জনগণ যখন সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, তখন নতুন করে সংশোধন কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হলো কেন? তাঁদের অভিযোগ, গণরায়ের পরিবর্তে দলীয় স্বার্থ বিবেচনায় সংস্কারের বিষয়বস্তু সীমিত করার চেষ্টা জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

কমিটির সদস্য কারা, কতটি বৈঠক হয়েছে কিংবা সেখানে কী ধরনের প্রস্তাব এসেছে—এসব বিষয় তাঁদের কাছে মুখ্য নয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। নেতাদের বক্তব্য, যে প্রক্রিয়ার ভিত্তিই গণভোটের রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সেই কাঠামোর মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে তাঁরা বলেন, ‘ভুল ঘরে বসে সঠিক সংবিধান বানানো যায় না’।

জাতীয় ছাত্রশক্তি তাদের দাবিগুলো তিনটি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে। প্রথমত, সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কোনো সংশোধনী বিল উত্থাপন করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, গণভোটের রায় ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুসারে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকতে হবে। তৃতীয়ত, ওই পরিষদের মাধ্যমেই জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

বিবৃতির শেষাংশে সংগঠনটির নেতারা জানান, জাতীয় ছাত্রশক্তি সংশ্লিষ্ট কমিটির কোনো মতবিনিময়, শুনানি কিংবা পরামর্শ সভায় অংশ নেবে না।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD