Logo

নতুন করে আরেকটি বিপ্লবের প্রস্তুতি নিতে হবে: মাহমুদুর রহমান

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৮:৫১
নতুন করে আরেকটি বিপ্লবের প্রস্তুতি নিতে হবে: মাহমুদুর রহমান
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটলেও রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। তাঁর মতে, জুলাই বিপ্লবের অর্জন ধরে রাখতে এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নতুন করে আরেকটি বিপ্লবের প্রস্তুতি নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৪ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) আয়োজনে ‘বছর পেরিয়ে জুলাই সনদ: গণ-অভ্যুত্থানের তরুণ অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়’ শীর্ষক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহমুদুর রহমান বলেন, জেন-জি ফ্যাসিবাদের আইকনকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে রাষ্ট্র সংস্কারের যে স্বপ্ন নিয়ে তারা আন্দোলনে নেমেছিল, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। জুলাই বিপ্লবের পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরি হলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব কোনো এক দিনের ঘটনা নয়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, তা টিকিয়ে রাখতে আরও একটি বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

জুলাই সনদ প্রণয়নের প্রক্রিয়া ও পদ্ধতির সমালোচনা করে আমার দেশ সম্পাদক বলেন, সনদ তৈরির প্রক্রিয়াটিই ভুল ছিল। রাজনৈতিক পরিপক্বতা থাকলে জুলাই সনদ প্রণয়নের আগে নির্বাচন আয়োজন করা হতো না। নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে স্বাক্ষরের প্রক্রিয়াও প্রশ্নবিদ্ধ। যারা এতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন, তাঁরা কার্যত জুলাই সনদের চেতনাকে স্বীকার করতে চান না। এমনকি বিপ্লব শব্দটি উচ্চারণ করতেও তাঁদের অস্বস্তি রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে সমস্যা ছিল। তরুণেরা রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশা করলেও সরকার তা যথাযথভাবে বুঝতে পারেনি। তবে তাঁর ভাষায়, ওই সরকার ছিল জুলাইয়ের বন্ধু সরকার। অনভিজ্ঞতার কারণে সরকার বিভিন্ন চাপের মুখে পড়েছিল। জুলাইয়ের অনেক তরুণ সংগঠন সহযোগিতার পরিবর্তে অসহযোগিতা করেছে। বিএনপিও সরকারকে সহযোগিতা করেনি। সব মিলিয়ে সরকারটি দুর্বল ছিল।

নির্বাচনের পর জুলাইয়ের পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে বিভক্তির সমালোচনা করে মাহমুদুর রহমান বলেন, এখন কে দেশের ভেতর থেকে কিংবা দেশের বাইরে থেকে আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিলেন, তা নিয়ে কৃতিত্ব নেওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে। অথচ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা জরুরি। বিভাজনমূলক বক্তব্যের দায় সরকারকে নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

জুলাইয়ের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এবি পার্টিসহ সব বাংলাদেশপন্থি দলকে একই জায়গায় আসতে হবে। এ জন্য জাতীয় কনভেনশন আয়োজন করা যেতে পারে। বিভাজন অব্যাহত থাকলে দেশের স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, আবু সাঈদ শুধু বাংলাদেশের নন, গোটা বিশ্বের আইকন। জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের কারণেই বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। তাই জুলাইয়ের চেতনা ও অর্জনকে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, বর্তমান সংবিধান এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। রাষ্ট্র মেরামতের জন্য নতুন করে একটি সনদ তৈরি করতে হবে। সেই সনদে চার কোটি মানুষের স্বাক্ষর নেওয়ার উদ্যোগ প্রয়োজন। রাষ্ট্র সংস্কারের ক্ষেত্রে জনগণকেই প্রকৃত অংশীজন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, অদক্ষতা ও অনভিজ্ঞতার কারণে ড. ইউনূসের সরকারকে উপহাস করে ‘এনজিওগ্রাম সরকার’ বলা হতো। একইভাবে অব্যবস্থাপনা ও অযোগ্যতার কারণে বর্তমান সরকারকে অনেকে ‘লন্ডনী-গো’ সরকার বলে অভিহিত করছেন।

মঞ্জু আরও বলেন, ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায় গণ-অভ্যুত্থানের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বিপ্লবও প্রয়োজন—এ কথা মাহমুদুর রহমান অনেক আগেই বলেছিলেন। সৈনিকদের একটি যুদ্ধের পর আরেকটি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হয়। আমাদেরও সেই প্রস্তুতি নিতে হবে। গণ-অভ্যুত্থান কিংবা নির্বাচন—কোনোটির মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান হয়নি। বরং সংকট আরও গভীর হচ্ছে। সীমান্তের ওপার থেকে ফ্যাসিবাদী শক্তি উল্লসিত হচ্ছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর তরুণদের বলা হচ্ছে, তারা বিপ্লব করেছে, এখন রাষ্ট্র নিয়ে আর ভাবার প্রয়োজন নেই, পড়ার টেবিলে ফিরে যেতে হবে। কোনো কোনো রাজনীতিবিদ বিপ্লবীদের ফার্মের মুরগির সঙ্গে তুলনা করছেন। তরুণদের অবদানকে যারা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছেন, তাঁরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেননি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ১৭ বছর ধরে যে জগদ্দল পাথর সরানো সম্ভব হয়নি, তরুণেরা তা সরিয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসকগোষ্ঠীকে লক্ষ্মণ সেনের মতো দুপুরের খাবার ফেলে পালিয়ে যেতে হয়েছিল। এটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম সেরা পলায়ন।

জুলাই সনদের গুরুত্ব তুলে ধরে তাজুল ইসলাম বলেন, প্রচলিত সংবিধান ও আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে জুলাই বিপ্লব হয়নি। এটি ছিল আইনি সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে জনগণের অভ্যুত্থান। এখন ভাড়াটে লোক দিয়ে নানা ধরনের বয়ান তৈরির চেষ্টা চলছে। আইন ও সংবিধানের দোহাই দিয়ে জুলাই সনদ অমান্য করা যাবে না। জুলাই সনদ আমাদের রেড লাইন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

দৈনিক ওয়াদা-এর সম্পাদক ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, জুলাই এখনো হারিয়ে যায়নি। একে শুধু রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতেও ছড়িয়ে দিতে হবে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদ যাতে আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য সাংস্কৃতিক আন্দোলন জোরদার করা জরুরি।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদ কীভাবে তৈরি হয় এবং এর পেছনে কারা রসদ জোগায়, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করতে হবে।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান, এবি যুব পার্টির সদস্যসচিব হাদীউজ্জামান খোকন, তারুণ্যের জুলাই ফাউন্ডেশনের নেতা সাগর উদ্দিন, পুসাবের সংগঠক তালহা বিন আমীন, জুলাই ঐক্যের নেতা রিয়াদুস ইসলাম জুবা এবং জুলাই যোদ্ধা লাবিবসহ অনেকে।

সভা সঞ্চালনা করেন এবি যুব পার্টির সদস্যসচিব হাদীউজ্জামান খোকন। এতে এবি পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD