Logo

এনসিপির গায়েবানা জানাজায় পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ, আহত ২০

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ নভেম্বর, ২০২৬, ২০:১২
এনসিপির গায়েবানা জানাজায় পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ, আহত ২০
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় শ্রমিক আন্দোলনে নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক শেখের গায়েবানা জানাজায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ সময় পুলিশ ও বিজিবির সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ২০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দলটি।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত তৌফিক শেখের আত্মার মাগফেরাত কামনায় চান্দনা চৌরাস্তায় গায়েবানা জানাজার আয়োজন করে এনসিপি। পূর্বঘোষিত এ কর্মসূচিতে দলটির পাশাপাশি জাতীয় শ্রমিক শক্তির নেতারাও অংশ নেন। সেখানে কয়েকজন নেতা বক্তব্য দেন। পরে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আলী নাসির খানের বক্তব্য শেষ হলে জানাজা আদায়ের প্রস্তুতি শুরু করেন নেতাকর্মীরা।

এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের বাধা দেন বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপি নেতারা। বাধা উপেক্ষা করে জানাজা আদায়ের চেষ্টা করলে পুলিশ ও বিজিবি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে সমবেত নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় বলে তাঁদের দাবি।

বিজ্ঞাপন

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আলী নাসির খান বলেন, ‘পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে। আমরা পোশাকশ্রমিক তৌফিক শেখের মৃত্যুর বিচার দাবি করছি এবং তার রুহের মাগফেরাত কামনায় গায়েবানা জানাজার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই। কিন্তু আমাদের জানাজা আদায় করতে না দিয়ে হামলা করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহার ফকির, গাজীপুর জেলা এনসিপির সদস্যসচিব আবুল কাশের মাস্টার, জাতীয় শ্রমিক শক্তির যুগ্ম সদস্যসচিব শেখ রায়হান, গাজীপুর মহানগর যুব শক্তির মুখ্য সংগঠক জিল্লুর রহমান, শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সদস্য শেখ সাহানা, যুব শক্তির কোনাবাড়ী থানার মুখ্য সংগঠক রকিবুল ইসলাম জয়, কালিয়াকৈর উপজেলা এনসিপির সদস্য আকরাম হোসেন এবং কোনাবাড়ী থানা যুব শক্তির সদস্যসচিব জামান ঢালি। আহত ২০ জনের বেশি নেতাকর্মী বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছে দলটি।

নিহত তৌফিক শেখের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামে। তিনি তবিবর রহমান তবির ছেলে। জীবিকার প্রয়োজনে গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তৌফিক স্থানীয় লায়লা স্টাইলস লিমিটেড পোশাক কারখানার কাটিং বিভাগে জুনিয়র লে-ম্যান হিসেবে কাজ করতেন। গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের সময় হামলায় আহত হন তিনি। পরে রাজধানীর উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তৌফিকের মৃত্যুর বিচার এবং শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবিতে গায়েবানা জানাজার আয়োজন করেছিল এনসিপি। তবে কর্মসূচিতে বাধা ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের অভিযোগ ঘিরে চান্দনা চৌরাস্তায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD