চাপ ও মতবিরোধের মুখেই এনসিপি ছেড়েছেন সামান্তা শারমিন!

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে নেননি বলে জানিয়েছেন দলটির সদ্য পদত্যাগী যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। তাঁর দাবি, দল ছাড়ার জন্য অভ্যন্তরীণ ও বাইরের বিভিন্ন পক্ষ থেকে চাপ তৈরি হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে দলের রাজনৈতিক অবস্থান, নেতৃত্ব নির্বাচন, জোটনীতি এবং অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিয়ে মতবিরোধের পর তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন সামান্তা। তাঁর অভিযোগ, যে লক্ষ্য ও আদর্শ সামনে রেখে এনসিপির যাত্রা শুরু হয়েছিল, দলটি সেখান থেকে সরে গিয়ে প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর মতো হয়ে উঠেছে। প্রায় এক বছর ধরে দলের ভেতরে নিজের অবস্থান তুলে ধরে পরিবর্তনের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত কার্যকর কোনো সাংগঠনিক ফোরাম না থাকায় তাঁকে দল ছাড়তে হয়েছে।
সামান্তা শারমিন বলেন, ‘দলের হাত ছেড়ে দিয়ে পদত্যাগ করা, এটার পক্ষপাতি আমি কখনোই ছিলাম না।... কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে যে, আমার যতটুকু সাধ্য, সামর্থ্য, শক্তি ছিল, ততটুকু আসলে ফুরিয়েছে এই পার্টিকে আসলে ওই পথ থেকে টেনে বের করে আনার জন্য।’
তিনি জানান, আপাতত নতুন কোনো রাজনৈতিক দল গঠনের পরিকল্পনা নেই। আগামী দুই থেকে তিন মাস বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, প্ল্যাটফর্ম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
বিজ্ঞাপন
নিজের হাতে গড়া দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না
এনসিপির প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক প্রক্রিয়া থেকেই যুক্ত ছিলেন সামান্তা শারমিন। দল গঠনের আগে নাগরিক কমিটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তাঁর মতে, নাগরিক কমিটির রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই এনসিপির ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। সেই ইতিহাস উপেক্ষা করলে দলটির প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপটও অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
দল ছাড়ার অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নিজের হাতে গড়ে তোলা দল কেউই ছাড়তে চায় না, এটা আসলে আমার জন্য কোনো সুখকর অনুভূতি না। আর প্লাস এনসিপি তো আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে।’
বিজ্ঞাপন
সামান্তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির জোট গঠনের সিদ্ধান্ত থেকেই দলের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তবে শুরু থেকেই পদত্যাগকে সমস্যার সমাধান মনে করতেন না তিনি। বরং দলের ভেতরে থেকেই রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা চালিয়ে গেছেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নিজের রাজনৈতিক বোঝাপড়া ও যুক্তি প্রয়োগের সক্ষমতা যত দিন ছিল, তত দিন দলকে ভুল পথ থেকে ফেরানোর চেষ্টা করেছি। পদত্যাগ কোনো সমাধান নয়। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও যখন পদত্যাগের কথা ভেবেছেন, তখন তাদের নিরুৎসাহিত করেছি। তবে দল পুনর্গঠনের পর ভিন্নমত তুলে ধরার মতো ফোরাম আর অবশিষ্ট ছিল না। এখন যখন আর কোনো ফোরাম নেই, তো মানে আমি আসলে কোথায় ফাইটটা করব?’
তিনি জানান, আগে সাধারণ সভা, নির্বাহী কমিটির বৈঠক এবং রাজনৈতিক পর্ষদে নিজের মতামত তুলে ধরার সুযোগ ছিল। কিন্তু তাঁর আপত্তিগুলো দলীয় নেতৃত্ব আর ভুল হিসেবে বিবেচনা করছিল না। সাধারণ সভা আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
নেতৃত্ব ও পদ বণ্টনে স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ
এনসিপির সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সামান্তা শারমিন। তাঁর অভিযোগ, কমিটিতে কারা কোন দায়িত্ব পাবেন, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রকাশ্য ও নির্দিষ্ট যোগ্যতার মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি।
নাহিদ ইসলাম কীসের ভিত্তিতে আহ্বায়ক হয়েছেন, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, দলের অনেক নেতার সাংগঠনিক গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের যোগ্যতা নির্ধারণের ভিত্তিও পরিষ্কার করা হয়নি।
বিজ্ঞাপন
সামান্তার বক্তব্য, ‘একজনকে কোনো দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে কী কী যোগ্যতা প্রয়োজন, তা দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা উচিত। কিন্তু এনসিপিতে দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে এমন কোনো প্রকাশ্য মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি। রাজনৈতিক পর্ষদ নিজেদের বিবেচনা মতো পদ বণ্টন করেছে। কোনো দায়িত্ব আপনি যখন কাউকে অর্পণ করেন, আপনি যখন নিয়োগ দেন, তখন কিন্তু সেটার ক্রাইটেরিয়াটা একটা প্রকাশ্য ক্রাইটেরিয়া থাকে।... কিন্তু এরকম কোনো ক্রাইটেরিয়া দলের পক্ষ থেকে ওপেন করা হয়নি।’
সামনে কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও তার আগেই আহ্বায়ক কমিটিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তাঁর ভাষ্য, ‘একদম টপ টু বটম পুরোটাই পরিবর্তন করে ফেলা হলো, কীসের ভিত্তিতে পরিবর্তন করে ফেলা হলো? কোনো ধরনের জবাবদিহিতা নেই।’
বিজ্ঞাপন
১৯৬ সদস্যের কমিটিতে ১৬০ জনকে পদায়নের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ছিল না বলেও অভিযোগ করেন সামান্তা। নিজের পদ নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আমার যুগ্ম আহ্বায়ক পদ, আমি কেন যুগ্ম আহ্বায়ক, আমি তো সদস্যও থাকতে পারতাম, কীসের ভিত্তিতে আমাকে যুগ্ম আহ্বায়ক পদ দেওয়া হলো? আমাকে সদস্য কেন করা হলো না?’
তিনি আরও প্রশ্ন করেন, যিনি আহ্বায়ক হয়েছেন, তাঁর ক্ষেত্রে কোন যোগ্যতা বা নির্বাচনী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। তাঁর মতে, দলীয় দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে একই প্রশ্ন সবার জন্য প্রযোজ্য।
দলের ভেতরে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ কমেছে
বিজ্ঞাপন
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা এনসিপি পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্য থেকে সরে এসেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সামান্তা বলেন, দলটি শেষ পর্যন্ত প্রচলিত রাজনীতির ধারার দিকে ঝুঁকেছে।
এ বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে এনসিপির প্রস্তাবের সঙ্গে দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার তুলনা করেন তিনি।
সামান্তার বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টা পরিষদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার প্রস্তাব দিয়েছিল এনসিপি। এ জন্য সাত বা আট সদস্যের একটি ফোরাম গঠনের ধারণাও তুলে ধরা হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘লাইক মাইন্ডেড পিপল দিয়ে গণতন্ত্র এস্টাব্লিশ করা যায় না, বিরোধী মতকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র এস্টাব্লিশ করতে হয়। কিন্তু দলের ভেতরে কমিটি পুনর্গঠনের সময় বিরোধী মতের প্রতি একই ধরনের মনোভাব দেখা যায়নি। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বিরোধী দলের মতামতকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্ত করার কথা বললেও নিজেদের দলের ভেতরে ভিন্নমতকে উপেক্ষা করেছে এনসিপি। এনসিপি তার যে রাষ্ট্রীয় প্রস্তাবনা, সেখানে তার প্রস্তাবনা একরকম, নিজের পার্টির ভিতরে অন্যরকম।’
ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দলটি বিরোধী মতের প্রতি একই ধরনের অসহিষ্ণুতা দেখাতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
দলের নেতৃত্বের সমস্যা শুধু একজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়নি বলেও মনে করেন সামান্তা। তাঁর মতে, এনসিপির মধ্যে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক চিন্তাধারার প্রভাব ক্রমেই শক্তিশালী হয়েছে। দলের শেষ পর্যায়ে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের রাজনৈতিক অবস্থানের বিপরীতে তিনি ও নাহিদা সারোয়ার নিভা অবস্থান নিয়েছিলেন।
বিজ্ঞাপন
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পার্টির মধ্যে একটা প্রচণ্ড প্রেশার আছে যে একমত হওয়ার, বাধ্য করা হবে একমত হতে।’
নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন
এনসিপির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীদের মতামত যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন সামান্তা শারমিন। তাঁর মতে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নারীরা সামনের সারিতে থাকলেও পরবর্তী সময়ে দলীয় নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাঁদের অংশগ্রহণ প্রত্যাশিত মাত্রায় নিশ্চিত করা হয়নি।
বিজ্ঞাপন
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদে মোট ১০ জন সদস্য ছিলেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন নারী—তাসনিম জারা, নাহিদা সারোয়ার নিভা ও সামান্তা শারমিন। বাকি সাতজন ছিলেন পুরুষ। তাঁর দাবি, তিন নারী সদস্যই ওই জোটের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু তাঁদের আপত্তিকে বৃহত্তর নারীসমাজের প্রতিনিধিত্বকারী মতামত হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।
সামান্তা বলেন, ‘যখন আমরা ৩ জন নারী একই বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করছি, আমাদের কথাটাকে নারী সমাজের একটা বড় অংশের প্রতিনিধিত্ব এবং কণ্ঠস্বর হতে পারে, ৫০ শতাংশ মানুষের কণ্ঠস্বর হতে পারে, এটার অর্থে বিবেচনায় করা হয়নি।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে তাঁদের বোঝানো হয়েছিল যে তাঁরা ওই পর্ষদে নারী প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং নিজ নিজ যোগ্যতায় সদস্য হয়েছেন। তাঁর মতে, এভাবে নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘এটা একটা পুরুষতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত, নারী বনাম পুরুষ হয়ে গেছে এটা এবং আমাদের কণ্ঠস্বরকে নারী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।’
জামায়াতের সঙ্গে জোট নিয়ে আপত্তির কারণ ব্যাখ্যা
এনসিপির জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের বিরোধিতা করায় তিনি দলের মধ্যে একঘরে হয়ে পড়েছিলেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সামান্তা বলেন, তাঁর আপত্তিকে শুধু জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতা হিসেবে দেখলে বিষয়টি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
তাঁর মূল বক্তব্য, সংস্কারবিরোধী পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক দলের জোট গঠন করলে নতুন দলের নিজস্ব সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, ‘পুরোনো দলের স্ট্রাকচার আছে এমন কোনো দলের সাথে নতুন দলের স্ট্রাকচার একসাথে জোট হতে পারে না। তাহলে আর নতুন দলটি পুরাতন সংস্কারের পুরাতন দলের বা পুরাতন ব্যবস্থার সংস্কারের বিরোধী, মানে সংস্কারের রাজনীতি আর করতে পারবে না।’
এই অবস্থানের কারণে দলীয় সভা ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাঁকে চাপের মুখে পড়তে হয়েছে বলে দাবি করেন সামান্তা। একটি সাধারণ সভায় কমিটি পুনর্গঠনের বিরোধিতা করে তাঁদের দেওয়া প্রস্তাব ৭১-১৫ ভোটে পরাজিত হয়। এরপর বিরোধী অবস্থানে থাকা ১৫ জনের ভোট নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
সামান্তার ভাষ্য, ‘আমাকে বলা হয়েছে, আপনি কি থামবেন, নাকি আপনাকে বহিষ্কার করব, এ ধরনের কথাও বলা হয়েছে। তবে একঘরে হয়ে পড়ার চেয়েও বড় হতাশার বিষয় হলো, এত চাপের মধ্যেও দলের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে না পারা।’
জামায়াতের রাজনৈতিক আদর্শ ও রাষ্ট্রচিন্তা নিয়েও নিজের আপত্তির কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, কোনো দলের প্রকৃত রাজনৈতিক পরিচয় বুঝতে হলে শুধু নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি দেখলে হবে না; দলটির গঠনতন্ত্র, ঘোষণাপত্র ও সামগ্রিক কার্যক্রম বিশ্লেষণ করতে হবে।
সামান্তা বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকৃত রাজনৈতিক পরিচয় বুঝতে হলে দলটির গঠনতন্ত্র, ঘোষণাপত্র ও কার্যক্রম দেখতে হয়। শুধু নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করলেই একটি দলকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রকল্পের ধারক বলা যায় না।’
জামায়াতের রাষ্ট্রচিন্তা সম্পর্কে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তার যে রাজনৈতিক প্রকল্প, তার গঠনতন্ত্র এবং তার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী, এক ধরনের ধর্মীয় শাসন কায়েম করাই তার উদ্দেশ্য। যদি এটা হয় তাহলে আসলে মানে তাকে গণতন্ত্রকে সে কীভাবে দেখে, সেটার কোনো ব্যাখ্যা, পরিষ্কার ব্যাখ্যা আজ পর্যন্ত আপনি জামায়াতের কাছ থেকে পাবেন না।’
তবে এনসিপিকে জামায়াতের ‘বি টিম’ হিসেবে অভিহিত করার পক্ষেও নন সামান্তা। তাঁর মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর আদর্শ ও অবস্থান বিশ্লেষণ না করে এ ধরনের পরিচয় দেওয়া হলে রাজনৈতিক বিতর্কের মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুই দলের মধ্যে কোথায় মিল এবং কোথায় অমিল, তা যুক্তির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।
এনসিপিতে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে যা বললেন সামান্তা
জামায়াতের সঙ্গে জোটের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করা হলে এনসিপিতে ফিরে যাবেন কি না, এমন প্রশ্নের সরাসরি ইতিবাচক কোনো ইঙ্গিত দেননি তিনি।
সামান্তার মতে, এনসিপি তাঁর দীর্ঘদিনের শ্রম ও রাজনৈতিক প্রচেষ্টার ফসল। তাই দলটির প্রতি তাঁর শুভকামনা রয়েছে। তবে প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার অংশ হয়ে যাওয়ার পর সেখান থেকে বেরিয়ে এসে আবার আগের বিপ্লবী অবস্থানে ফিরে যাওয়া কঠিন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এরকম কোনো উদাহরণ নেই, আমি পৃথিবীতেও এরকম কোনো উদাহরণ দেখিনি, একবার পুরনো সিস্টেমের মধ্যে ফাংশন করে, পরে সে বিপ্লবী হয়ে গেছে। তারপরে সে একেবারেই আগের কোনো মানে পুরাতন সিস্টেমকে সে উৎখাত করেছে, এটা আমি দেখিনি। এ কারণে এনসিপি আগের অবস্থানে ফিরে আসবে, এমন আশা আপাতত দেখছি না। তবে তাদের প্রতি শুভকামনা রয়েছে।’
আগামী দুই-তিন মাস রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা
এনসিপি ছাড়ার পর নিজের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান কী হবে, সে বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চান না সামান্তা শারমিন। পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কার এবং প্রচলিত ঔপনিবেশিক রাজনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তনকে নিজের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের মধ্যে রাখছেন তিনি।
তাঁর মতে, রাজনৈতিক দলগুলোকে সংস্কারের পথে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে জনগণের চাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে নতুন রাজনৈতিক শক্তির সাংগঠনিক কাঠামো ও আদর্শিক অবস্থান কেমন হওয়া উচিত, সে বিষয়ে এখনো সব প্রশ্নের উত্তর তাঁর কাছে নেই।
সামান্তা বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কার এবং ঔপনিবেশিক রাজনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে নতুন রাজনৈতিক শক্তির সাংগঠনিক ও আদর্শিক কাঠামো কেমন হবে, তার সব উত্তর আমার কাছে নেই।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘আগামী দুই-তিন মাস নতুন ও পুরোনো রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম এবং ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করব। এমনকি এনসিপির সঙ্গেও আবার বসতে চাই। আমার এখন পথ ওপেন, আমি সবার সাথেই কথা বলতে চাই।’
সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নির্ধারণ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। পদত্যাগের সিদ্ধান্তের পেছনে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও চিন্তাভাবনার কথা তুলে ধরে সামান্তা বলেন, ‘আমি হুট করে কোনোকিছুই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষপাতি না, আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত হুট করে নিইনি।’








