Logo

জাত ও সিফাতের আলোচনা

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
২৭ আগস্ট, ২০২৬, ২০:৫৭
জাত ও সিফাতের আলোচনা
ছবি: সংগৃহীত

হযরত খাজাবাবা ফরিদপুরী (কূঃছেঃআঃ) ছাহেবের নসিহত ‘জাত ও সিফাত’ بسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ জাত ও সিফাতের আলোচনাঃ

বিজ্ঞাপন

আল্লাহ্ ও বান্দা স্রষ্টা ও সৃষ্টি। আল্লাহ ও বান্দার মধ্যে সম্পর্ক কেমন? আল্লাহ বলেন, 'মানুষকে তিনি পৃথিবীতে তাহার প্রতিনিধিত্ব করিবার জন্য বা তাহার খলিফা হিসেবে সৃষ্টি করিয়াছেন।' আল্লাহ বলেন, 'আমি মানুষের ভেদ, মানুষ আমার ভেদ।' আল্লাহপাক ইহাও ফরমান, 'আমি ছিলাম গুপ্ত ধনভান্ডার। পরিচিত হইতে ভালবাসিলাম। তাই সৃষ্টকে সৃষ্টি করিলাম।' আল্লাহপাক ফরমান, 'আসমান জমিনের কোথাও আমার গুঞ্জায়েশ হয় না; মুমিন বান্দার কালব বা দেল ব্যতীত।' আল্লাহপাক ইহাও ফরমান, 'তিনটি জগৎ পার হইয়া তোমরা আমার কাছে আস। এই তিনটি জগৎ হইল জড় জগৎ, নূরের জগৎ ও সিফাতের জগৎ।'

উল্লিখিত বাণীসমূহ থেকে বুঝা যায় যে, আল্লাহপাক ও বান্দার মধ্যে এক ঘনিষ্ট সম্পর্ক রহিয়াছে। আল্লাহপাক ও তাহার রহস্য বা নিগুঢ়তত্ত্ব মানুষের জ্ঞানের নিকট খোলা রহিয়াছে। ইহা মানুষের জ্ঞানের বাহিরে নয়। যিনি এই রহস্য বা ভেদ জানেন, তিনিই আল্লাহর ভেদ বুঝিতে পারেন বা আল্লাহর জ্ঞানে জ্ঞানী হইতে পারেন।

যিনি এই জ্ঞান লাভ করিবেন, তিনি খোদাতত্ত্বজ্ঞানে জ্ঞানী আরেফের মর্যাদা লাভ করিবেন। আল্লাহপাক ফরমান, তাহার গুঞ্জায়েশ মুমিনের কালব-কুলুবুল মুমীনিনা আরশুল্লাহ। এই কালব সাধারণ মানুষের কালব বা দেল নয়। ইহা মুমিনের "কালব” অর্থাৎ যিনি আল্লাহকে চিনিয়াছেন, তাহার সহিত ফানা-বাকা প্রাপ্ত হইয়াছেন বা আল্লাহর সহিত বিলীন হইয়া গিয়াছেন, এমন সাধকের কালব।

বিজ্ঞাপন

আল্লাহপাক মুমিনের কালবকে তাহার গুঞ্জায়েশের স্থান ও প্রকাশের মাধ্যম বলিয়াছেন। এই মুমিন ব্যক্তি কে? যিনি আল্লাহকেই একমাত্র উপাস্য বলিয়া জানিয়াছেন ও নিজ কালবে কলেমা প্রতিষ্ঠিত করিয়াছেন; এমন ব্যক্তিই মুমিন অর্থাৎ যিনি বেলায়েত প্রাপ্ত হইয়াছেন তাহার দেলেই আল্লাহপাক গুঞ্জায়েশ করেন। বেলায়েত প্রাপ্ত আম্বিয়া বা ওলী

যাহাদের আল্লাহপাক মুমিন বলিয়া আখ্যায়িত করিয়াছেন তাহাদের দেলেই আল্লাহতায়ালার সৃষ্টি রহস্যের ভান্ডার রহিয়াছে বলিয়া আল্লাহতায়ালা জানাইয়াছেন। কালবকে আল্লাহপাক জ্ঞানভান্ডার বলিয়াছেন। তাহার সন্ধান মানুষ পাইবে কি করিয়া? ইহার উত্তর-মুমিন হইতে হইবে।

মানুষ মাত্রই আলমে আরওয়ার জগতে 'আমি কি তোমাদের প্রভু নই?' আল্লাহপাকের এই প্রশ্নের উত্তরে "বালা" বা "বেশখ, আপনিই আমাদের প্রভু" বলিয়াছে অর্থাৎ মুমিন হইয়াছে।

বিজ্ঞাপন

আল্লাহকে যিনি বিশ্বাস করেন না; তাহার পক্ষে আল্লাহর পরিচয় পাওয়া সম্ভব নয়। আর আল্লাহর পরিচয় না পাইলে তাহার ভেদ হওয়া বা তাহার খলীফা হওয়াও সম্ভব নয়। আল্লাহতায়ালাকে বিশ্বাস করা ও কালবে কলেমা প্রতিষ্ঠা করা তাই আল্লাহতায়ালাকে চিনিবার প্রথম শর্ত।

কালবে কলেমা প্রতিষ্ঠা হইলে মানুষের সত্ত্বার বা নাফসের একটি বিবর্তন হয়। সৃষ্টির আদিতে "আলমে আমর" অর্থাৎ হুকুমের জগতে যেমন আল্লাহতায়ালার "আমি কি তোমাদের প্রভু নই?"- এই প্রশ্নের জবাব মানুষ শুনিতে, বুঝিতে ও উত্তর দিতে পারিয়াছিল, কালবে কলেমা অংকিত হইলে মানুষের সত্ত্বা বা নাফস তেমনি সেই সৃষ্টির আদি চরিত্র লাভ করে। সূফী পরিভাষায় ইহাকে "নাফসে মোলহেমা" বলে, যে অবস্থায় মানুষ আল্লাহপাকের এলহাম শুনিতে পারে। তবে এলহাম শরীয়ত সম্মত হইতে হয়। এলহাম শরীয়ত সম্মত না হইলে তাহা বাদ দিতে হয়।

কালবে কলেমা প্রতিষ্ঠা হইলে নাফসের সেই অবস্থায় মানুষ "আলমে আমর" ও "আলমে আরওয়াহ" জগতের সন্ধান লাভ করিতে পারে। সৃষ্টির প্রথমে আলমে আমরে আল্লাহপাক যে "কুন" বা "হও” আদেশ করিয়াছিলেন তাহার হকিকত অনুধাবন করিবার মত অবস্থায় পৌঁছাইতে পারে। সৃষ্টির আদিতে আল্লাহপাক যে "কুন" বলিয়াছিলেন, সেই হইতে সৃষ্টি বিভিন্ন স্তর হইয়া আজও অব্যাহত রহিয়াছে এবং কেয়ামত পর্যন্ত চলিতে থাকিবে। এই একমাত্র "কুন" আদেশের শক্তি ও তাৎপর্য কি তাহা অনুধাবন করিবার বিষয়।

বিজ্ঞাপন

"কুন” আদেশে সৃষ্টির প্রথমে যাহা সৃষ্টি লাভ করিল বা সৃষ্ট হইল তাহা হইল নূরে মুহাম্মদী, যাহা সকল জ্ঞানের উৎস। এই নূরে মুহাম্মদীর মধ্যেই "এলেম" বা জ্ঞান ও তাহা প্রকাশ করিবার মাধ্যম কালাম ও কলম রহিয়াছে। ইহার মধ্যেই রহিয়াছে আল্লাহতায়ালার সৃষ্টি জগতের পরিকল্পনা ও "আফ্যালে জাতিয়া" অর্থাৎ সৃষ্টি জগতের "ব্লুপ্রিন্ট"। এই নূরে মুহাম্মদীর জ্ঞানই আল্লাহপাক মুমিনের কালবে গচ্ছিত রাখেন।

সুতরাং আল্লাহপাকের নিকট হইতে "বেলায়েতে নবুয়ত" ও "কামালাতে নবুয়ত" প্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অর্থাৎ যাহার সত্ত্বা "আলমে আমরের" তথা সৃষ্টি জগতের আদি অবস্থার চরিত্র অর্জন করিয়াছে, তেমন ব্যক্তি ছাড়া এই জ্ঞান লাভ করিতে পারে না। সৃষ্টি জগতের আদি স্তর বলিতে বোঝানো হইতেছে যিনি দুনিয়ার স্বার্থ ও দুনিয়ার সকল চাওয়া-পাওয়া মুক্ত হইয়া একমাত্র আল্লাহপাককেই আকাংখা ও উপাস্য মনে করিবার মানসিক ও আত্মিক অবস্থা অর্জন করেন। এই অবস্থায় মানুষ আপন সত্ত্বার মুখোমুখি হইতে পারে। কিন্তু এই অবস্থায় উপনীত হওয়ার প্রথম শর্ত রহিয়াছে খোদাতত্ত্ব জ্ঞানে জ্ঞানী পীরে কামেলের নিকট পরিপূর্ণ আত্ম বিসর্জন ও পীরে কামেলের সত্ত্বার সহিত নিজ সত্ত্বার বিলুপ্তি। অর্থাৎ নিজ সত্ত্বা বা পার্থিব কামনা বাসনার মৃত্যু না হইলে এই স্তরে উন্নীত হওয়া সম্ভব নয়। মোট কথা হইল নিজেকে পার্থিব জগতের বেষ্টনী হইতে মুক্ত করিতে হইবে। আর তাহার মাধ্যম পীরে কামেল যিনি মুরীদের নাফসকে বা সত্ত্বাকে সেই পর্যায়ে লইয়া যাইতে পারেন। অন্য কেহই মানুষের সত্ত্বাকে স্থূল জগতের বেষ্টনী হইতে সূক্ষ্ম জগতে লইয়া যাইতে পারে না। নাফস বা সত্ত্বাকে মুর্শিদে কামেল স্কুল জগতের বন্ধন হইতে মুক্ত করিয়া নূরের জগতে পৌঁছাইয়া দেন। নূরের জগতে এই পর্যায়ে উন্নীত হইলে ছালেক আল্লাহপাকের "কুন" আদেশের তাৎপর্য অনুভব করিতে পারার মত অবস্থায় উপনীত হন। আল্লাহপাক খুশী হইলে দয়া করিয়া ছালেককে তাহার আকরাবিয়াতের মাকামে বা হেরেমের বা নিজস্ব জগতে উঠাইয়া লইয়া সকল প্রকার অনিষ্ট হইতে রক্ষা করিতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে ছালেকের নিজস্ব বলিয়া কিছু থাকিতে পারিবে না।

আল্লাহতায়ালার হাকীকী জ্ঞান রাজ্যে ছালেকের সায়ের বা ভ্রমণ হয় এই আকরাবিয়াতের মাকামে উন্নীত হইবার পর। ইহার আগে বেলায়েতে ছোগরার মাকামেও ওলীগণ জ্ঞান রাজ্যের প্রতিবিম্ব অবলোকন করিতে ও তাহা হইতে আল্লাহতায়ালার সিফাতের জগতের জ্ঞান লাভ করিতে পারেন। তবে আল্লাহতায়ালার সিফাত ও জাতের জ্ঞান লাভ শুরু হয় আকরাবিয়াতের মাকাম হইতে। আল্লাহপাকের জ্ঞান সম্পর্কে এক্ষেত্রে একটি কথা জানিয়া রাখা প্রয়োজন। খোদাতত্ত্ব জ্ঞানের দুইটি অধ্যায় আছে। ইহার প্রথমটি আত্মশুদ্ধির জ্ঞান। ইহা যাহারা লাভ করেন তাহার ওলী। দ্বিতীয়টি নিজের ও সমস্ত মানুষের শুদ্ধির জন্য কঠোর সাধনা করা ও কুরআন হাদীসের তত্ত্বজ্ঞানে জ্ঞানী হইয়া অন্যকে খোদার পথে আহ্বান করা। আল্লাহপাকের জ্ঞান সম্পর্কে উপরের আলোচনায় কয়েকটি বিষয়ে স্পষ্ট করে বলা হইয়াছেঃ

বিজ্ঞাপন

আল্লাহপাকের জ্ঞান বা খোদাতত্ত্বজ্ঞান মানুষের পক্ষে লাভকরা সম্ভব,

খোদাতত্ত্ব জ্ঞানী মুর্শিদে কামেলের খেদমতে খোদাতায়ালার দিকে নিজেকে বিলীন করিলে তাহার দয়ায় স্থূল জগতের স্বার্থের বেষ্টনী হইতে মানুষ আলমে আরওয়াহ বা সৃষ্টির প্রথম ও আদি স্তরের জ্ঞান লাভের ও স্রষ্টার এলহাম শুনিবার মত অবস্থা ফিরিয়া পায়। এই মানুষ একই সাথে স্রষ্টা ও সমগ্র সৃষ্টির জ্ঞান লাভকরিতে পারে।

কুরআন পাকে বলা হইয়াছে 'আল্লাহপাক আসমান ও জমিনের নূর।' সেই জন্য প্রতি বস্তুর সহিত আল্লাহপাকের নূরের সংযোগ রহিয়াছে। এই নূর দিয়া প্রতি বস্তুর ভিতরের ভাব তথা বস্তুর প্রকৃত সত্ত্বার জ্ঞান লাভ করিতে পারা যায়। দর্শক যদি সেই নূর দেখিতে পায় তাহা হইলে তাহার মধ্যে ধ্যানের ভাব আসে। দর্শক সেই অবস্থায় বস্তুর রূপ ও অন্তর ছাড়াইয়া আরও দূরে দেখিতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

'রূপ' বস্তু জগতে সৃষ্টির প্রতিচ্ছবি; ইহা তাহার সত্ত্বার পরিচয় নয়। সমস্ত সৃষ্টিই আল্লাহতায়ালার বিভিন্ন গুণের প্রতিচ্ছবি যাহার মাধ্যমে আল্লাহপাক তাহার প্রকাশ করিয়াছেন। আর মুমিন বান্দার দেলে যখন তাহার সত্ত্বা প্রকাশিত হয়, তখন সেই মুমিন বান্দা হন আল্লাহতায়ালার নিজস্ব সত্ত্বার প্রতিচ্ছবি। হকিকতে কুরআন, হকিকতে কাবা ও হকিকতে সালাত সম্পর্কে বলিতে যাইয়া বলা হইয়াছে যে "হকিকতে সালাত” হইল আল্লাহতায়ালার জাতের নিকটতম মাকাম। যিনি এই মাকাম হাসিল করেন তিনি আল্লাহতায়ালার জাতের সহিত সত্যিকার অর্থে বিলীন হইয়া যান। আকরাবিয়াতের মাকামে আসিয়া ছালেক নিজ সত্ত্বাকে সৃষ্টির আদি স্তরের অবিকল দেখিতে পায়। এই স্তরে ছালেক

হাকীকী সত্ত্বা বা চিরস্থায়ী সত্তার সন্ধান পায়। সমগ্র সৃষ্টি রাজ্যের জ্ঞান ভান্ডারের সম্মুখে ছালেক তখন উপস্থিত হয়। এই স্তর যেন জ্ঞানের এক বিশাল ভান্ডার। এই জ্ঞান ভান্ডারের আটটি প্রধান মহাগ্রন্থ হইল হায়াৎ, এলেম, কুদরত, এরাদত, সামাওয়াত, বাছারত, কালাম ও তাকবীন অর্থাৎ জীবন, জ্ঞান, ক্ষমতা, ইচ্ছা, শ্রবণ, দর্শন, কথন ও সৃজন। জ্ঞানের এই আটটি গ্রন্থ পাঠ না করিলে সৃষ্টিতত্ত্ব বা স্রষ্টাতত্ত্বে জ্ঞানী হওয়া যায় না। ইহা ওলীগণের জ্ঞান হইতেও শ্রেষ্ঠ। ইহা নবী (আঃ) দিগের জ্ঞান।

কিন্তু প্রশ্ন হইল এই মহা জ্ঞানগ্রন্থ যাহা সমগ্র সৃষ্টির আদি ও অন্ত তাহা পাঠ করিবে কি করিয়া? এই স্কুল জগতের গ্রন্থ পাঠ করিবার জন্য ভাষা জানিতে হয়। কিন্তু সূক্ষ্ম জগতের গ্রন্থ পাঠ করিবার ভাষা কি? ইহা পূর্বেই বলা হইয়াছে আল্লাহতায়ালার নূরই এই সূক্ষ্ম জগতে আল্লাহতায়ালার সিফাতী রাজ্য বা সৃষ্টি সংক্রান্ত জ্ঞানের ভাষা। এই নূরের ভাষা বুঝিবার ক্ষমতার উপরেই নির্ভর করে ছালেকের সমগ্র সৃষ্টির হাকীকী রাজ্যে বিচরণের ক্ষমতা। আর এই সৃষ্টির হাকীকী রাজ্যে বা সিফাতের রাজ্যে বিচরণের ক্ষমতা অর্জনের পরেই ছালেক আল্লাহতায়ালার জাত মোজাররাদার রাজ্য বা আল্লাহতায়ালার নিছক জাতের সহিত পরিচিত হইতে পারে। আল্লাহতায়ালার সিফাতের জগতে বিচরণের ক্ষমতা তাই জাতের জগতে বিচরণের আগে অর্জন করা প্রয়োজন। আল্লাহ বলেন তোমরা বাহিরের বস্তু দর্শন করিয়া সত্য, তথা স্রষ্টা পর্যন্ত গমন করিতে চেষ্টা কর, যতক্ষণ না তথায় পৌঁছাইতে পার। এই সিফাতের রাজ্যে বিচরণকে বলা হয় সায়েরে "এসমোজাহের”। আর আল্লাহতায়ালার জাত বা সত্ত্বার সহিত পরিচিতি হইবার জন্য ছালেকের যে আত্মিক বিচরণ তাহাকে বলা হয় সায়েরে "এসমোল বাতেন”। এই উভয় সায়েরের জন্য একমাত্র উপায় "ওজুদ মাওহুব লাহু” বা খোদাদত্ত শরীর। কারণ সে জগৎ স্কুল নয়; সূক্ষ্ম। তাই সূক্ষ জ্ঞান ও অনুভূতি গ্রহণে সক্ষম "ওজুদ মাওহুব লাহু” বা খোদা প্রদত্ত শরীরই ইহার একমাত্র উপায়। এই সূক্ষ্ম জগতে কোন স্কুল শরীর নাই, তাই সূক্ষ্ম শরীর দ্বারাই তাহা বুঝিতে হইবে। আকরাবিয়াতের মাকামে ছালেক যখন উন্নীত হয় অর্থাৎ আল্লাহপাক যাহাকে তাহার পরিচয় দান করিবার জন্য গ্রহণ করেন, তখন তাহাকে এই "ওজুদ মাওহুব লাহু” বা খোদা প্রদত্ত শরীর দান করেন। এই খোদাদত্ত শরীরই তখন সমস্ত সৃষ্টির নূরের পরশ গ্রহণ করিয়া তাহার ভাল মন্দ বুঝিতে পারে।

বিজ্ঞাপন

হকিকতে কুরআন অধ্যায়ে উল্লেখ করা হইয়াছে যে, যিনি ঐ মাকামে উন্নীত হন, তিনি কুরআন শরীফের প্রতি অক্ষরের নূর দেখিতে পান ও কুরআন শরীফের সকল নিগুঢ় ও গুপ্ততত্ত্ব আল্লাহপাকের দয়ায় অবগত হন। কুরআন মজীদ লওহে মাহফুজে নূর দ্বারাই লিখিত আছে। হকিকতে কুরআনের মাকামে ছালেক অন্তরের যে পবিত্রতা লাভ করেন সেই পবিত্রতার দ্বারাই এই কুরআন মজীদ স্পর্শ করা যায় ও তাহার হাকীকী বাণী বা মর্মকথা বোঝা যায়। এই জ্ঞান লাভ করিবার আহ্বান আল্লাহপাকের তরফ হইতেই রহিয়াছে। এই কুরআন পাকের নূরের বা জ্যোতির দ্বারা সাধকের বক্ষ প্রসারিত হয় ও ঐ কুরআন মজীদের বাণী তিনি নিজের মধ্যে ধারণ করিতে পারেন। তখন তাহার চরিত্রে সমাবেশ হয় নানারূপ গুণ যেমন ছবর, সহনশীলতা, অল্পে তুষ্টি, বাসনা মুক্তি ইত্যাদি।

স্থূল জগতের বন্ধনে বেষ্টিত ব্যক্তির জন্য কামনা-বাসনা, লোভ-লিপ্সা স্বাভাবিক; তেমনি ঐ আল্লাহপাকের হাকীকী জ্ঞান রাজ্যে বিচরণকারী ছালেকের জন্য মানুষের হাকীকী সত্ত্বা বা ইনছানিয়াতের প্রকৃত গুণ অর্থাৎ কামনা বাসনা মুক্তি, মানবতার সেবা, এবং মানব কল্যাণে নিবেদিত হওয়া স্বাভাবিক বলিয়া মানুষ তথা সৃষ্ট বস্তুর মধ্যে আল্লাহতায়ালার সিফাতে হাকীকী ও সিফাতে এজাফিয়ার প্রতিফলন দেখিতে পান।

ছালেক যখন তাহার সিফাতে হাকীকী বা প্রকৃত সত্ত্বার মুখোমুখি হন, তখন ছালেকের জ্ঞান রাজ্যই শুধু নয়; তাহার নিজ অস্তিত্ব বস্তুতঃ স্কুল জগৎ হইতে শুরু করিয়া আলমে আরওয়াহ পর্যন্ত বর্তমান থাকে। এই স্তর নাফসে মোলহেমার প্রতিবিম্বের জগৎ। আকরাবিয়াতের মাকামে যে আপন অস্তিত্বের উপর হাকীকী সিফাত সমূহের অর্থাৎ দর্শন, শ্রবন ইত্যাদি আল্লাহতায়ালার গুণের প্রতিবিম্ব পড়িয়াছিল, সেই সিফাতের প্রতিবিম্ব দ্বারাই মানুষ তাহার অস্তিত্বে গুণাগুণ লাভ করিয়াছিল। নিজ অস্তিত্বের ভিতরের সিফাত বা গুণ সমূহ হাকীকী সিফাতের প্রতিবিম্ব।

বিজ্ঞাপন

এই হাকীকী সিফাতের প্রতিবিম্ব কথাটির অর্থ কি? ইহার অর্থ হইল মানুষের প্রকৃত সত্ত্বা ও গুণ। আল্লাহপাক মনুষত্বকে নিরাকার রূপে সৃষ্টি করিয়াছেন, মানুষের শরীর বা আকার তাহার সেই গুণ প্রকাশের মাধ্যম। দয়া-মায়া, স্নেহ-ভালবাসা প্রভৃতি আল্লাহর সিফাত। দর্শন, শ্রবণ, চিন্তন, কল্পন, কথন ইহাও আল্লাহতায়ালার সিফাতের প্রতিবিম্ব।

অর্থাৎ মানুষের কোন গুণই মানুষের শরীরী গুণ নয়, কারণ ইহার কোন কিছুই আকার সম্বলিত নয়। মানুষের শরীরের বা শরীরের অংগ প্রত্যংগের আকার আছে কিন্তু অংগ প্রত্যংগের গুণের কোন আকার নাই। মানুষের সমাবেশ। মানুষের আকার বিশিষ্ট শরীর ধ্বংস হয়। কিন্তু মানুষের গুণাগুণ, প্রকৃতি ও প্রবৃত্তি নিরাকার। মানুষ তাই আকার ও নিরাকারের প্রকৃতি ও প্রবৃত্তি নিরাকার। আসল মানুষ ও তাহার শ্রেষ্ঠত্ব এই নিরাকার শ্রেষ্ঠত্বের জন্যই মানুষকে আল্লাহতায়ালা নিজ প্রতিনিধি বা খলীফা বা অস্তিত্ব ও স্বত্ত্বার জন্য বিকশিত ও প্রতিষ্ঠিত হয়। এই মনুষত্বের ভেদ বলিয়া অভিহিত করিয়াছেন।

আমরা আয়নায় আমাদের চেহারা দেখিতে পাই। আয়নায় যে চেহারা পড়ে তাহাতে আমাদের রক্তমাংসের কোন চিহ্ন থাকে না। আবার আমরা যদি আমাদের দেহের উপাদান খুঁজি তাহা হইলে আমরা জানি সেই উপাদান গুলি হইল আগুন, পানি, মাটি ও বাতাস। কিন্তু আগুন, পানি, মাটি ও বাতাস মিশ্রিত হইয়া এই রূপ লাভ করিল কেমন করিয়া? এই প্রশ্নের উত্তর হইল, নিশ্চয় স্রষ্টা আল্লাহতায়ালার কল্পনা হইতেই আমরা এই রূপ বা ছুরাত লাভ করিয়াছি। আল্লাহপাকই আমাদের শরীর দিয়াছেন। আমাদের প্রকৃতি ও গুণাবলী দিয়াছেন। সকলই দিয়াছেন আল্লাহতায়ালা স্বীয় কল্পনা ও ইচ্ছা শক্তি হইতে। এই কল্পনার জগৎ হইল "মোর্তবা হেস" বা এই কল্পনার জগতের পর মানুষ আকার ও নিরাকারের মিশ্রিত গুণ লইয়া সৃষ্টি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন স্তর পার হইয়া এই পৃথিবীতে আসিয়াছে। আল্লাহ পাকের এই সৃজন গুণ হইল সিফাতে তাকবীন। এই সিফাত ও কল্পনার মধ্যস্থলে আর একটি স্তর রহিয়াছে তাহাকে বলা যায় জেল্লী বা প্রতিবিম্ব অধ্যায়। এই অধ্যায়ে সিফাত সমূহের গুণগত ও সমষ্টিগত এক শুভমূলক অধ্যায় রহিয়াছে তাহারই নাম ওজুদ। আর এই সৃষ্টির জন্য আল্লাহতায়ালার যে ক্রিয়াকলাপ সংশ্লিষ্ট সেই ক্রিয়া গুণ হইল আয়ালে জাতিয়া। কল্পনা ও তাহার প্রতিবিম্ব জগতের বা জেল্লীর পরে আসে সৃষ্টির বাস্তবায়ন। সৃষ্টির বাস্তবায়নের জন্য আল্লাহপাক্ সিফাতে হাকীকী স্থিত মানুষের নিরাকার হকিকতকে বলিলেন "কুন" বা হও। এই কুন শব্দকে বাস্তবায়ন করিতে সংগে সংগে আলমে আরওয়াহ জগৎ সৃষ্টি হইল। এই আলমে আরওয়াহ প্রকাশিত হইবার জন্য নূরের প্রয়োজন। এই নূরই নূরে মুহাম্মদী। যাহাদের "হও” বলা হইয়াছিল তাহারা ছিল মানুষের হকিকত। এই হকিকতকে নাক্সে মোলহেমা বলা হয়। বিভিন্ন স্তর পার হইয়া এই স্কুল জগতে আসিয়া ইহা নাফসে আম্মারা নাম ধারণ করিয়াছে। মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব বলিয়াছেন, আমাদের শরীরের মধ্যে ওজুদ ও আদামতের প্রভাব উভয়ই রহিয়াছে। ওজুদ শুভ গুণ ও আদামত তাহার বিপরীত গুণ সম্বলিত। তবে আদামত হইল আমাদের প্রকাশ্য ছুরাতের পূর্ব অধ্যায়। ছালেক তাহার হাকীকী জগতে প্রত্যাগমনের প্রাথমিক পর্যায়ে আদামতে গিয়া স্থিত হন। তখন তাহার বাহিরের ওজুদ ও জগতের প্রতি পূর্বের যে আকর্ষণ ছিল তাহা চলিয়া যায়। কিন্তু আদামতের নিজস্ব যাহা তাহা হইল অন্ধকার। এই আদামতের পর্যায়ে গিয়া ছালেক নিজের ওজুদের প্রতিবিম্বের সম্মুখীন হয়। এই স্তরে পৌঁছাইলে ছালেক বুঝিতে পারে যে তাহার বর্তমান উপস্থিতি আল্লাহর মর্তবা হেস বা কল্পনা জগতের অবস্থা বা ওজুদের প্রতিবিম্ব। অন্য কথায় আল্লাহতায়ালার কামালাতের আয়না।

বিজ্ঞাপন

স্থুল জগতের অন্ধকার চলিয়া যাইবার পরে অর্থাৎ ফানার অবস্থায় ওজুদের কামালাতের আয়না হইবার যোগ্যতা আসিয়া যায়। ছালেক তখন ধীরে ধীরে বুঝিতে থাকে যে সমস্ত মংগল বা মর্তবা ওজুদ হইতে প্রাপ্ত। ইহার পর ছালেককে আবার ওজুদের ফানা প্রদান করা হয়। তাহা হইতে আরও উপরে বাকা লাভ হয়। এইভাবে ছালেককে বেলায়েতে ছোগরা হইতে বেলায়েতে কোবরায় ও তথা হইতে হকিকত জগতে উন্নীত করা হয়।

হে জাকেরানগণ! তোমরা শুনিয়া রাখ, আল্লাহতায়ালার নূরের, সিফাতের বা জাতের যে জগতেই ছায়ের করিতে চাও না কেন, বা খোদাপ্রাপ্তি সাধনায় যে মাকামেই তুমি যাইতে চাও; মুর্শিদে কামেলের দয়া ও তাওয়াজ্জুহ ব্যতীত কোন কিছুই অর্জন করা সম্ভব নয়। মুর্শিদে কামেলের দয়া ও তদীয় মদদই খোদা প্রাপ্তি পথের একমাত্র সহায়। তাই আল্লাহতায়ালাকে যাহারা চিনিতে চাহিয়াছে; তাহারা নিজেদের সহায় সম্বল সকল কিছু ত্যাগ করিয়া মুর্শিদে কামেলের কদমে নিজেদের নেছার করিয়া আপন সত্ত্বাকে মুর্শিদে কামেলের সহিত বিলীন করিয়া খোদা প্রাপ্তির জ্ঞান হাসিল করিয়াছে। কারণ কামেল মুর্শিদ বা খোদাতত্ত্ব জ্ঞানে জ্ঞানী আরিফের দেলেই আল্লাহতায়ালার গুঞ্জায়েশ। তাই মুর্শিদে কামেলের সহিত ফানা হইতে পারিলেই আল্লাহতায়ালার গুঞ্জায়েশ স্থানের ঠিকানা মিলিয়া যাইবে। আল্লাহতায়ালার জাত পাকের সহিত তোমরাও তখন ফানা হইতে পারিবে। মহান সূফী সাধক মাওলানা জালালউদ্দিন রূমী (রঃ) ছাহেব ফরমাইয়াছেন, হকিকতে কাবা ও হকিকতে সালাতের মাকাম হাসিলকারী সাধক আল্লাহতায়ালার জাতের প্রত্যক্ষ পরিচয় লাভ করে। তাই তোমরা যদি আপন মুর্শিদে কামেলের সহিত ফানা হইতে পার ও তাহার দয়া অর্জন করিতে পার তাহা হইলে তদীয় তাওয়াজ্জোয়ে এত্তেহাদীতে তিনি তোমাদেরকে আল্লাহতায়ালার জাতের মাকামে পৌঁছাইয়া দিতে পারেন। কামেল ওলীআল্লাহগণ একমুহূর্তেই মানুষকে খোদাতত্ত্বের জ্ঞান পরিপূর্ণ রূপে দান করিতে পারেন। তাই মুর্শিদে কামেলের দয়া অর্জন করিবার জন্য তাহার খেদমতে নেছার হইয়া যাওয়াই খোদাকে পাওয়ার একমাত্র পথ। পারস্যের মহাকবি হাফিজ তাই বলিয়াছেন, "হে দুনিয়ার মানুষ! তোমরা যদি আমার পীরকে বাধ্য করিয়া দিতে পার, তবে সমরখন্দ বুখারার সিংহাসন আমি তোমাদের বিলাইয়া দিব।" হযরত ইব্রাহিম আদহাম বলখের সিংহাসন ত্যাগ করিয়া আপন পীরে কামেলের খেদমতে নিজেকে নেছার করিয়া খোদাতত্ত্ব জ্ঞান হাসিল করিয়াছেন।

তাই তোমরাও যদি আল্লাহতায়ালাকে পাইতে চাও, আপন মুর্শিদে কামেলের দয়া অর্জন করিবার জন্য তদীয় খেদমতে জান-মাল নেছার করিয়া দাও। আপন মুর্শিদে কামেলের খেদমত এইরূপভাবে কর যাহাতে তাহার মহব্বত ও দয়া তোমার উপরে আসে। আপন মুর্শিদে কামেলকে পৃথিবীর সকল বস্তু ও ব্যক্তির ঊর্ধ্বে মনে কর। কারণ তিনিই তোমাকে সকল বস্তু ও ব্যক্তির ঊর্ধ্বে মহীয়ান গরীয়ান খোদাতায়ালার জাতের সহিত পরিচয় করাইয়া দিতে সক্ষম। মুর্শিদে কামেল ব্যতীত এই ক্ষমতা পৃথিবীতে অন্য কাহারও নাই। তাই মুর্শিদের কদমে নিজের সত্ত্বাকে বিলীন করা পূর্ব কালের সাধক ও আরেফগণ একমাত্র যুক্তিযুক্ত পথ মনে করিয়াছেন। তোমরাও যদি মুর্শিদে কামেলের খেদমতে আপন সত্ত্বাকে বিলীন করিতে পার, তাহা হইলে তোমাদেরও আল্লাহপাকের জাতের সহিত মিলনের মহা সৌভাগ্য লাভ হইতে পারে। মুর্শিদে কামেল একজন মুরীদকে মুহূর্তেই আল্লাহপাকের সত্ত্বার সহিত পরিচয় করাইয়া দিতে পারেন। তাহার অনেক প্রমাণ রহিযাছে, সেই সকল ঘটনা হইতে একটি এখানে বলা হইতেছে।

বিজ্ঞাপন

হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রঃ) ছাহেবের মুর্শিদ কেবলা হযরত বাকীবিল্লাহ (রঃ) ছাহেবের দরবারে একবার কয়েকজন মেহমান আগমন করিয়াছিলেন। তিনি মেহমানদের সহিত আলোচনা করিতেছিলেন। তখন দুপুরের খাবারের সময়, কিন্তু মেহমানদের সামনে দেবার মত তাহার নিকট কিছু ছিল না। তিনি দুশ্চিন্তায় পড়িলেন। খাজা ছাহেবের একজন মুরীদ ছিল-যিনি দরবারের নিকটস্থ বাজারে রুটির দোকান করিতেন। সেই মুরীদ সেই সময় কাশফে পীরের চিন্তাক্লিষ্ট চেহারা ও চিন্তিত হওয়ার কারণ জানিতে পারিয়া নিজ দোকান হইতে কাবাব ও রুটি আনিয়া সুন্দরভাবে মেহমানদারীর ব্যবস্থা করিলেন। মেহমানগণ খুশী হইয়া খাজা ছাহেবের নিকট হইতে বিদায় হইলেন। খাজা ছাহেব ইহার পর ঐ মুরীদকে ডাকিয়া বলিলেন, "বাবা! আজ আমার ঘরে কোন খাবার ছিল না। মেহমানদারী করিয়া তুমি আমাকে এত খুশী করিলে যে লক্ষ টাকা দিলেও আমি এত খুশী হইতাম না। বাবা, তুমি আমার কাছে কিছু চাও।" মুরীদ বিনীতভাবে বলিলেন, "হুজুর! আমার জ্ঞানই বা কি, চাইবই বা কি? তবে আমাকে যদি কিছু দিতে চান, তাহা হইলে বলিব, আপনি আমাকে আপনার মত করিয়া দিন।" খাজা ছাহেব বলিলেন, "বাবা, ইহা বড় কঠিন কথা। তুমি অন্য কিছু চাও।” মুরীদ বলিল, "আমার অন্য কিছু চাহিবার নাই। তবে যদি কিছু দিতে চান আমাকে আপনার মত করিয়া দেন।" একবার, দুইবার, তিনবার মুরীদ অন্য কোন কিছু চাহিতে অস্বীকার করিলে খাজা ছাহেব ঐ মুরীদকে তদীয় হুজরায় লইয়া গেলেন। তিনি নিজ হুজরায় লইয়া যাইয়া ঐ মুরীদকে তাওয়াজ্জোহ প্রদান করিলেন। দুই ঘন্টা পরে সেই মুরীদ হযরত বাকীবিল্লাহ ছাহেবের ছুরাতে ছুরাতধারী হইলেন। দুইজনের মধ্যে কোন ভেদাভেদ রহিল না। তবে পার্থক্য হইল এই যে, যিনি আসল বাকীবিল্লাহ তিনি রহিয়া গেলেন। আর যাহাকে বাকীবিল্লাহ বানানো হইল, তিনি তিন দিন পর পঞ্চত্ব প্রাপ্ত হইলেন অর্থাৎ ইন্তেকাল ফরমাইলেন।

একখন্ড মাটি পিটাইয়া পিটাইয়া সোনা গলাইবার পাত্র মোশ তৈরী করা হয়। আগুনের তাপে সেই মাটির পাত্রে রাখা সোনা গলিয়া যায় কিন্তু মাটির পাত্র ভাংগে না বা ফাটে না বা গলে না। সুতরাং আল্লাহপাকের তাওয়াজ্জোহ ধারণ করিবার ক্ষমতা আগে অর্জন করাইয়া মুর্শিদে কামেল মুরীদকে তাওয়াজ্জোহ দেন। ছালেকের যদি তাওয়াজ্জোহ ধারণ করিবার ক্ষমতা না থাকে, তাহা হইলে ঐ মুরীদের মত পরিণতি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তাই তুমি যদি পীরের নিকট হইতে খোদাপ্রাপ্তিতত্ত্ব লাভ করিতে চাও, তাহা হইলে জান-মাল দিয়া পীরে কামেলের খেদমত কর, পীরে কামেলের পাক দেলের সাথে সম্পূর্ণ মিশিয়া যাও, তাহা হইলেই তুমি আল্লাহতায়ালার জ্ঞান ও সত্ত্বা উপলব্ধি করিতে পারিবে। আল্লাহ তোমাদের এই অপূর্ব নেয়ামতের অধিকারী করুন। আমীন!

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD