রাসূলের আদর্শ অনুসরণেই শান্তি ও মুক্তি: পীর সাবির শাহ

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় বর্ণাঢ্য জসনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৩ আগস্ট) সকালে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট, ঢাকা শাখার ব্যবস্থাপনায় এবং গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ, ঢাকার সহযোগিতায় এ জুলুস অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসলমান অংশ নিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
সকালে মোহাম্মদপুর কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে জসনে জুলুসটি শুরু হয়ে তাজমহল রোড, কৃষি মার্কেট, রিং রোড, শিয়া মসজিদ, মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড, সাত মসজিদ রোড, ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক, মিরপুর রোড, আসাদ গেট ও কলেজ গেট হয়ে জুলুসটি শ্যামলী ক্লাব মাঠে গিয়ে আলোচনা, বাইয়াত এবং দেশ ও জাতির কল্যান কামনা করে মোনাজাতের মাধ্যমে জলসাটি শেষ হয়।
জুলুসে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল কলেমা ও ইসলামী বাণীসংবলিত বিভিন্ন রঙের ব্যানার ও পোস্টার। এ সময় ‘নারায়ে তাকবির’ ও ‘নারায়ে রিসালাত’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। অংশগ্রহণকারীরা হামদ, নাতে রাসুল ও গজল পরিবেশন করেন। বর্ণাঢ্য জুলুসকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
জুলুস শেষে শ্যামলী ক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা ও মাহফিল। এতে প্রধান অতিথি ও সভাপতির আসন অলংকৃত করেন হযরত আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ পীর সাবির শাহ (মা.জি.আ.)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসিম শাহ (মা.জি.আ.) ও সৈয়দ আকিব আহমদ শাহ (মা.জি.আ.)
বিজ্ঞাপন
জুলুস শুরুর আগে এক বক্তব্যে পীর সাবির শাহ বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সমগ্র সৃষ্টির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে শ্রেষ্ঠ নিয়ামত ও রহমত। আল্লাহর এই মহান নিয়ামত লাভের জন্য আনন্দ প্রকাশ করা আল্লাহরই নির্দেশ। কোরআনের নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শুভাগমন দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা হয়।
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শই শান্তি, সাম্য, মানবতা ও মুক্তির পথ। মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে শান্তি, সম্প্রীতি, মানবিকতা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
পীর সাবির শাহ আরও বলেন, উগ্রবাদ, সন্ত্রাস, অবিচার ও অন্যায় থেকে মানবসমাজকে মুক্ত করার জন্য মহান আল্লাহ ইসলামকে জীবনব্যবস্থা হিসেবে মনোনীত করেছেন। ইসলামের নামে যেকোনো ধরনের উগ্রবাদ ও সন্ত্রাস সুফিবাদী সুন্নি মুসলমানরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে।
বিজ্ঞাপন
মাহফিলে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন আল-আযহারীসহ অন্যান্য ওলামায়ে কেরাম। মাহফিল পরিচালনা করেন মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মুফতি আবুল কাশেম মোহাম্মদ ফজলুল হক।
বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মনজুর আলম, সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনসহ ট্রাস্ট ও গাউসিয়া কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, আলেম-ওলামা, গবেষক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
আয়োজকরা জানান, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ ও মানবকল্যাণের শিক্ষা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন করা হয়।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে জসনে জুলুসের আয়োজন চট্টগ্রামে ১৯৭৪ সালে শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে এ আয়োজন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিস্তৃত হয়। ঢাকার জুলুসে অংশ নিতে শনিবার থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মোহাম্মদপুর কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদ্রাসা এলাকায় আসতে শুরু করেন।
জুলুসে উপস্থিত আছেন, আনজুমান ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মনজুর আলম (মনজু), সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, ফাইন্যান্স সেক্রেটারি মোহাম্মদ কমর উদ্দীন (সবুর), প্রেস এন্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারি মোহাম্মদ গোলাম মহিউদ্দীন, ক্যাবিনেট মেম্বার পেয়ার মোহাম্মদ, মহিউদ্দিন খোকন প্রমুখ।








