জাত, সিফাত এবং হকিকতে মুহাম্মদী সম্পর্কে আলোচনা

হযরত খাজাবাবা ফরিদপুরী (কূঃছেঃআঃ) ছাহেবের নসিহত ‘জাত ও সিফাত’ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ জাত, সিফাত এবং হকিকতে মুহাম্মদী সম্পর্কে আলোচনাঃ
বিজ্ঞাপন
হকিকতে মুহাম্মদীর সহিত আল্লাহতায়ালার জাতপাকের একটি অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রহিয়াছে। মূল কথা হইল হকিকতে মুহাম্মদীর জ্ঞান ছাড়া আল্লাহতায়ালার জাতপাকের জ্ঞান লাভ করা আদৌ সম্ভব নহে। আল্লাহপাকের জাতের পরিচয় লাভ করিতে হয় আল্লাহতায়ালার তাজাল্লীয়াতে জাতির মাধ্যমে, তদ্রুপ আল্লাহতায়ালার সিফাত বা গুণ সমূহের জ্ঞান লাভ হয় আল্লাহতায়ালার তাজাল্লীয়াতে সিফাতে হাকীকীর মাধ্যমে। সিফাতে হাকীকীর নূরের পূর্ণতা লাভ হয় বেলায়েতে উলিয়ার স্তরে-যে মাকামে আল্লাহতায়ালার পবিত্র এসেম বা নাম সমূহ, গুণ, শান, (মহত্ব) ও শয়ুনাতের পরিপূর্ণ জ্ঞান লাভ সম্ভব হয়। এই স্তরকে 'জাত মাআস সিফাত' বা আল্লাহতায়ালার জাত-পাকের সহিত মিশ্রিত গুণের স্তরও বলা হয়।
তাজাল্লীয়াতে আফয়াল বা আল্লাহতায়ালার ক্রিয়া গুণের জ্যোতি হাছিল হয় বেলায়েতে ছোগরায়। আল্লাহতায়ালার তাজাল্লীয়াতে আয়ালে জাতিয়া অর্থাৎ আল্লাহতায়ালার জাতপাকের ক্রিয়া গুণসমূহের সহিত সৃষ্টি জগতের এক বিশেষ সম্বন্ধ রহিয়াছে যাহা ভাষায় বর্ণনার অতীত। বেলায়েতে ছোগরার স্তরে অবশ্য খোদা-তালাশী ছালেক যাহা লাভকরেন তাহা আল্লাহতায়ালার আয়ালে জাতিয়ার নূর, যাহাকে তাজাল্লীয়াতে আফয়াল বলা হয়। তাজাল্লীয়াতে আফয়াল দ্বারা সমগ্র সৃষ্টি জগৎ, গ্রহ-নক্ষত্র চলমান রহিয়াছে। সূর্য আপন কক্ষ পথে চলিতেছে-পৃথিবী লাটিমের মত ঘুরিতেছে, পৃথিবীর আহ্নিক ও বার্ষিক গতি হইতেছে। ঋতু চক্র হইতেছে-যাহা দ্বারা ফুল-ফল, প্রাণীকুলের সৃষ্টি ও মৃত্যু হইতেছে। আল্লাহতায়ালার জাতপাকের ক্রিয়া গুণ অর্থাৎ তাজাল্লীয়াতে আয়ালে জাতিয়ার প্রতিবিম্ব হইতেই সৃষ্টি জগৎ তাহার ক্রিয়াগুণ লাভ করিতেছে। তাই আল্লাহতায়ালার জাতপাকের জ্ঞান লাভহইলেই আল্লাহতায়ালা ও সমগ্র সৃষ্টিজগৎ-উভয় সম্পর্কেই জ্ঞান লাভ হয়-আর যে স্তরে এই জ্ঞান লাভ সম্ভব হয়, তাহাই হইল হকিকতে মুহাম্মদী।
কুরআন মজীদের সূরা বনি ইসরাইল ও সূরা আন্নাজামে হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর মেরাজ সম্পর্কে জানা যায় যে, মেরাজ বা ঊর্ধ্ব ভ্রমণের মাধ্যমে হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) আল্লাহপাকের জাতের পূর্ণজ্ঞান লাভ করেন। হকিকতে মুহাম্মদীর যে জ্ঞান তাহা লাভ হয় কামালাতের মাকাম সমূহের জ্ঞান লাভের পরে। তরিকতের প্রখ্যাত মাশায়েখগণ বলেন যে, হকিকতে মুহাম্মদীতে মিলিত হওয়ার পরে হোব্বে ছেরফায় পৌঁছাইয়া তথা হইতে নজরের কুওতের মাধ্যমে জাতপাকের জ্ঞান লাভ করিতে হয়।
বিজ্ঞাপন
হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) উর্ধ্বে গমন করিয়া আল্লাহতায়ালার জাতপাকের যে জ্ঞান লাভ করেন এবং ওলীগণ "হকিকতে মুহাম্মদীর" স্তরে যে জ্ঞান লাভ করেন-এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য কি? হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব তদীয় "মাবদা ওয়া মাআদ” গ্রন্থে বলিতেছেন, হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) দৈহিক ও আধ্যাত্মিক-এই উভয় প্রকারেই মেরাজ লাভ করেন। মেরাজে যাওয়ার পর যাহা কিছু তিনি দেখিয়াছিলেন, তাহা তিনি তদীয় চক্ষু ও দিব্য দৃষ্টি, উভয়ের মাধ্যমেই অবলোকন করেন। কিন্তু ওলীগণ ঐ স্তরে পৌছাইলে শুধু আধ্যাত্মিক চক্ষু দ্বারাই মোশাহেদা' করিয়া থাকেন। তাহারা সশরীরে মেরাজে গমন করেন না।
আল্লাহতায়ালার জাত পাকের দরশন ও জ্ঞান লাভের মাধ্যম হইল-তাজাল্লীয়াতে জাতি। তাই ছালেককে এমন এক মাকামে উন্নীত হইতে হয় যে মাকামে তাজাল্লীয়াতে জাতির আবির্ভাব সম্ভব। হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) তদীয় মকতুবাত শরীফে উল্লেখ করেন, "কেবলমাত্র হযরত রাসূলে পাক (সাঃ) এর অনুসরণ এবং মহব্বতের মাধ্যমেই আল্লাহতায়ালার মাহবুব বা প্রিয় হবার মাকাম লাভ করা যায়।" আল্লাহতায়ালার প্রিয় বা মাহবুব হইলেই আল্লাহতায়ালার জাতের আবির্ভাবের মাকাম লাভ হয়। আদিয়াত বা দাসত্বের মাকাম যাহা পূর্ণতার যাবতীয় মাকাম সমূহের ঊর্ধ্বে এবং মাহবুবিয়াতের পরে লাভহয়, তাহাও হযরত রাসূলে পাক (সাঃ) এর অনুসরণ ও মহব্বত দ্বারা লাভ হয়। হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর পূর্ণ অনুসারীগণ বনী ইসরাইলের নবী তূল্য। উলুল আজম পয়গম্বর (আঃ) গণও হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর অনুসারী হওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করিয়াছেন। যদি বর্তমান জামানায় হযরত মুসা (আঃ) দুনিয়ায় থাকিতেন, তাহা হইলে হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর অনুসরণ ব্যতীত হযরত মুসা (আঃ) এর অন্য কোনো উপায় থাকিত না।"
হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব তদীয় "মা'আরিফে লাদুন্নিয়া" নামক কিতাবে বলিয়াছেন, তাইয়্যুন ব্যতীরেকে জাতের তাজাল্লী বা প্রকাশ সম্ভব নয়। কারণ কোনো জিনিষই সুনির্দিষ্ট মাধ্যম ছাড়া প্রকাশিত হয় না। আর সমস্ত তাইয়্যুনের মধ্যে সব চাইতে প্রশস্ত এবং সব চাইতে সম্মানিত তাইয়্যুন হইল অহদাতের তাইয়্যুন, আর ঐ এসেম যাহা হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর নির্ধারিত তাইয়্যুন; যাহার মাধ্যমে দীন ইসলামের পূর্ণতা লাভ হইয়াছে। তাই এই তাইয়্যুনই অহদাতের তাইয়্যুন। ছালেকের শেষ উরুজ হইল তাহার ঐ এসেম বা আল্লাহতায়ালার জাত পাকের ঐ তাইয়্যুন পর্যন্ত উন্নতি লাভ হওয়া যাহা তাহার মাবদায়ে তাইয়্যুন বা উৎপত্তিস্থল। কাজেই হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর তাইয়্যুন যাহা আল্লাহতায়ালার অমুখাপেক্ষী জাতপাকের এলেমের তাইয়্যূন বা আলীম হওয়ার তাইয়্যুন, এবং যাহা আল্লাহতায়ালার সকল এসেম, সিফাত, শান ও ইতেবারের উপরে। ঐ তাইয়্যুন আল্লাহতায়ালার অহদাতের তাইয়্যুন বা আল্লাহতায়ালার একত্বের তাইয়্যুন এবং অদিয়াতের বা আল্লাহতায়ালার একত্বের পর্যায়ে উহা সম্প্রসারণ ও পার্থক্য সৃষ্টি করিয়াছে। উহা সমস্ত সৃষ্টি জগতের জন্য মাবদায়ে তাইয়্যুন সমূহের শ্রেণী সৃষ্টি করিয়াছে। সমস্ত মাখলুকাতের জন্য মাবদায়ে তাইয়্যুন কথার অর্থ হইল-ঐ সমস্ত সিফাত এবং আসমা যাহা ঐ তাইয়্যুনের মধ্যে বিদ্যমান এবং একত্বের পর্যায়ে বিস্তৃতি হাছিল করিয়াছে। কাজেই প্রত্যেক ছালেকের ভ্রমণের শেষ সীমা ঐ এসেম বা সিফাত পর্যন্ত হইয়া থাকে, যাহা তাহার জন্য নির্ধারিত থাকে। তাজাল্লীয়াতে জাতি ঐ এসেমের পর্দার মধ্যে নিহিত, যাহা ঐ তাজাল্লীধারী ব্যক্তির নির্ধারিত মূল উৎসে বিদ্যমান।
বিজ্ঞাপন
বস্তুত হকিকতে মুহাম্মদীই সকল কিছুর মূল উৎস এবং তাহার হকিকতের মধ্যেই সমস্ত সৃষ্ট জীবের ও বস্তুর হকিকত নিহিত। তাই হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর উৎপত্তি স্থলের তাইয়্যুনের সহিত সম্পর্কিত এসেমকে গ্রহণ করার মাধ্যমেই অর্থাৎ ছালেক আল্লাহতায়ালার তরফ হইতে যখন ঐ তাইয়্যুনের নামের সহিত সম্পর্কিত এক বিশেষ কালেমা লাভ করেন, সেই কালেমার জেকেরের মাধ্যমেই তিনি আল্লাহতায়ালার সেই তাইয়্যুনের তাজাল্লী লাভ করেন তথা জাত পাকের জ্ঞান অর্জন করেন। হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর উৎপত্তিস্থলের তাইয়্যুন সর্বাপেক্ষা প্রশস্ত ও শ্রেষ্ঠ ও অহদাতের বা আল্লাহতায়ালার একত্বের সহিত সম্পর্কিত তাইয়্যুন। এই তাইয়্যুনের এসেম বা রাসূলে করীম (সাঃ) এর উৎপত্তি স্থলের তাইয়্যুন সম্পর্কিত এসেমের কালেমাই আল্লাহতায়ালার জাতের তাজাল্লির আবির্ভাব আনয়ন করে। আল্লাহতায়ালার জাতের অস্তিত্ব সম্পর্কে হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব বলেন, আল্লাহতায়ালা তাহার জাতের অনুরূপ-বাহিরে এককত্বে-ভিন্ন ভিন্ন রূপে বর্তমান।
তাই এলেম যেহেতু আল্লাহতায়ালার এককত্বের ভিন্ন ভিন্ন শানের জন্য পৃথক পৃথক জ্ঞান লাভ করে, তাই আল্লাহতায়ালার প্রতিটি শান বা মহত্ব প্রকাশের বিভিন্নতার অনুভূতি লব্ধ এলেম বা জ্ঞানও বিভিন্ন। আল্লাহতায়ালার প্রতিটি শান তাই অন্যটি হইতে পৃথক। এলেমের জগতে এই পার্থক্য অনুভূতি শয়ুনাত-মোমকেনাত হিসেবে পরিচিত। কারণ মোমকেন তাহাকে বলা হয়, যাহাতে অস্তিত্ব ও অনস্তিত্ব-উভয়ই একই সাথে বর্তমান। আর শয়ুনাতের (শান সমূহের) অবস্থাও তদরূপ।
কারণ শয়ুনাতও অস্তিত্ব ও অনস্তিত্বের মধ্যে সেতু স্বরূপ। শান জাতেরই অনুরূপ। শয়ুনের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য এবং পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তাহার প্রবণতা অনস্তিত্বের দিকে। কারণ ওজুদের অর্থাৎ অস্তিত্বের গুণাগুণ অনস্তিত্বের দ্বারাই বোঝা যায়। অনুভূতি লব্ধ জ্ঞানের মধ্যেই আল্লাহতায়ালার জাতের অস্তিত্ব বা মওজুদ হইবার জ্ঞান লাভ হয়। তবে তাহার নিদর্শনাবলী ও নির্দেশ সমূহ বাহিরে পাওয়া যায়। হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব বলেন, প্রকাশ্য সৃষ্টি যাহার আকৃতি আমরা দেখিতে পাই-তাহা একটা ধারণা এবং চূড়ান্ত ব্যাখ্যায় উহা ভুল ধারণা বই নহে। যাহাদের কাশফের দরজা লাভ হইয়াছে তাহারা দিব্য দৃষ্টিতে দেখিতে পারেন যে, সাধারণ দৃষ্টিতে যাহা প্রকাশ্যমান ও অস্তিত্ববান বলিয়া মনে হয় তাহার সহিত আল্লাহতায়ালার সম্পর্কের প্রকৃত অবস্থা জানা শক্ত ও দুরূহ।
বিজ্ঞাপন
সৃষ্ট বস্তু কেবল ঐ সম্পর্কের অস্তিত্বের প্রতিই ইংগিত বহন করে, যেমন কোনো ব্যক্তির চেহারা কেমন, তাহা আয়না
ছাড়া দেখা যায় না। কিন্তু আয়নার নিজস্ব ছুরাত নাই। আয়না রং বিহীন স্বচ্ছ বস্তু। আল্লাহতায়ালার জাতপাকও ঐ রূপ মওজুদ আছেন ও সর্বত্র বিরাজিত আছেন; সকল কিছুরই সহিত তাহার সম্পর্ক রহিয়াছে। আল্লাহতায়ালার জাত পাকের শান সমূহের স্তরে একটি হইতে অন্যটি পৃথক। কিন্তু জাত পাকে বিভিন্নতা নাই। আর বাহিরের পার্থক্য যাহা খালি চোখে দৃশ্যমান তাহা বাহিরের নিদর্শন প্রকাশের জন্যই। এই কারণে ছালেক যখন স্বীয় নির্ধারিত স্থান পর্যন্ত পৌঁছায়, আর সেই অবস্থা তাহার নিকট প্রকাশ পায়, তখন সে তাহার মধ্যে বাহ্যিক আকৃতির কিছুই পায় না, সেই নির্দিষ্ট বস্তু ব্যতীত অন্য কোনো কিছুই তাহার উপরে প্রকাশ পায় না।
আল্লাহতায়ালার শান সমূহের পার্থক্য ব্যতীত জাতের অন্য কোনো রং নাই। তবে জাত পাকের যে সীমাহীন প্রশস্ততা তাহা এই কারণে যে উহা শানের সম্মিলিত রূপ। ছালেক এই সম্মিলিত রূপকে বৃত্তাকারে কাশফের মাধ্যমে দেখিয়া থাকে এই জন্য যে, বস্তুর প্রাথমিক অবস্থা বৃত্তাকৃতিই হইয়া থাকে।
বিজ্ঞাপন
তবে কোনো কোনো আরেফের মতে ছালেকের শেষ গমন হইল ঐ নাম যাহা তাহার জন্য নির্ধারিত মূল। ঐ নামের ছায়েরের শেষ প্রান্ত হইল আয়নে ছাবিতা (প্রকৃত স্থান)। আয়নে ছাবিতায় পৌঁছানোর পর ছায়ের আয়নে ছাবিতার মধ্যেই হইয়া থাকে। কারণ আয়নে ছাবেত এত অসংখ্য শানের সম্মিলিত রূপ যে উহার কোনো সীমা নাই। সুফীগণের পরিভাষায় ইহাই ছায়েরে ফিল্লাহ বা আল্লাহতায়ালার মধ্যে পরিভ্রমণ। আল্লাহ শব্দের অর্থই হইল জাত ও সিফাতের সম্মিলিত রূপ, কেবলমাত্র একক জাত নয়। ছায়েরে ফিল্লাহ দ্বারা সূফীগণ যাহা বোঝান তাহা হইল আশেকের মধ্যে মাশুকের ছায়ের। ইহার দ্বারা আশেকের যে সমস্ত গুণাবলী ও কর্মাদি হাছিল ছিল, আশেক সেই সকল গুণাবলীর সকল কিছুই মাশুককে দান করেন। অতঃপর আশেকের আর নিজের বলিতে কিছুই থাকে না-সকল কিছুই মাশুকের হইয়া যায়। আর এই কারণে ছায়েরের নেছবত মাশুকেরই হয়। বাস্তবে তাহা তাই আশেকের মধ্যে মাশুকের ছায়ের। ছায়েরে ফিল্লাহ বা মাশুক ফিল আশেকের শেষ সীমায় ছালেক মাকামে তাকমীল অর্জন করেন। মাকামে তাকমীলের অর্থ পূর্ণতা প্রাপ্তির মাকাম। এই স্তরে ছালেক যাহা লাভকরে তাহা হইল তাবিহ ও তানযীহের মিলন বা একত্রীকরণ। তাশবিহ অর্থাৎ সাদৃশ্য, আর তানযীহ অর্থাৎ পবিত্রগুণ বা সত্ত্বা। অর্থাৎ যাহার মধ্যে মাশুক ছায়ের করেন, সেই আশেকের পবিত্র সত্ত্বার সহিত তিনি মিলন লাভ করেন। ইহা তাহার আয়নে ছাবেতারই মিশ্রিত রূপ। যে তাশবীহ বা সাদৃশ্য মান রূপ পবিত্র সত্ত্বার সহিত মিলিত হয়; তাহা মরতবায়ে জামেয়া অর্থাৎ সম্মিলিত রূপের সহিত মিলিত হয়। আর যে ছালেকের সাদৃশ্যমান রূপ সত্ত্বার সহিত বিলীন হইবার আগে প্রকাশ পায়, তাহা সাদৃশ্যমান রূপ প্রকাশের সময়ে লুপ্ত হইয়া যায়। ঐ সাদৃশ্যমান রূপের মূল পবিত্র সত্ত্বার সহিত একত্রিত হইবার যোগ্যতা থাকে না।
বস্তুত তাশবীহ ও তানযীহের একত্রিত হওয়ার উদ্দেশ্য হইল এক অবিমিশ্র অনুভূতি লাভ করা। উহাকে সূফী পরিভাষায় এদ্রাকে বাসীত বলা হয়। উহা আল্লাহতায়ালার গুণাবলীর পর্দায় অবতরণের পর সাদৃশ্য রূপ হিসেবে অনুভূত হয়। পূর্ণতার মাকাম বা মাকামে তাকমীল যাহা হকিকতে মুহাম্মদীর স্তরে লাভ হয়, তাহার অর্থ হইল পবিত্র সত্ত্বার সহিত সম্মিলিত হওয়া ও ঐ সত্ত্বার গুণের সাদৃশ্য লাভ করা। কারণ আল্লাহপাকের জাতের জ্ঞান আল্লাহতায়ালার গুণের পর্দা বা সিফাতে এলাহিয়ার পর্দা ব্যতীত লাভ করা যায় না। আর ঐ সিফাতে এলাহিয়ার উপরেই আয়নে ছাবিতা স্থাপিত। ঐ রূপে জাত পাকের পরিপূর্ণ জ্ঞান ও সিফাতে এলাহিয়ার জ্ঞান যে ব্যক্তি হাছিল করিতে পারেন নাই, তিনি আল্লাহতায়ালার জাতপাকের জ্ঞান অন্যকে দিতে পারেন না। এই পরিপূর্ণতা বা মাকামে তাক্বীল লাভের পর যে অনুভূতি আরেফ লাভকরেন; সেই অনুভূতি সম্পর্কে হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব বলেন, ঐ রূপ আরেফ নিজের দেহের সকল অণু-পরমাণুকে আয়নার মত স্বচ্ছ মনে করেন। তিনি তখন নিজের মধ্যেই সকল বস্তু দর্শন করেন। ঐ আরেফের প্রতি অণু-পরমাণু সমস্ত বস্তুর রংগে রঞ্জিত হয়। কারণ জাতে এলাহিয়ার মরতবা আল্লাহতায়ালার সমস্ত শয়ুনাতের সম্মিলিত রূপ। এমতাবস্থায় ছালেক স্বীয় দেহের প্রতিটি অণু-পরমাণুকে শান জগতের সহিত ফানা করিয়া দেয়। ছালেক নিজ দেহের প্রতি অণু-পরমাণুর বদলে আল্লাহতায়ালার শান সমূহের কোনো একটি শানকে মওজুদ পায়। কাজেই যতক্ষণ ছালেক নিজের দেহের অণু-পরমাণুকে সম্মিলিত করিতে না পারে, ততক্ষণ সে ফানার যোগ্যতা হাছিল করিতে পারে না।
হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব বলিতেছেন, ফানা ফিল্লাহ সম্পূর্ণ হইলে ইয়াকীনের তিনটি স্তরই তথা এম্মুল ইয়াকীন, আয়নুল ইয়াকীন ও হাক্কুল ইয়াকীন লাভ হয়।
বিজ্ঞাপন
এলমুল ইয়াকীনঃ
এলমুল ইয়াকীন লাভের অর্থ হইলঃ যে সকল নিদর্শনাবলীর দ্বারা জাতপাককে বোঝা যায় সেই সকল নিদর্শনাবলী দর্শন করা। কারণ জাত পাকের দর্শন কেবল ঐ নাফসের দ্বারাই সম্ভব যে নাফস জাতপাকের তাজাল্লী বা তাজাল্লীয়াতে জাতি লাভ করিয়াছে। ইহা ব্যতীত অন্য কোনো নাফস ঐ জ্ঞান লাভ করিতে পারে না। ছালেক যাহা কিছু বাহিরে দর্শন করে তাহার সবই নিদর্শন মাত্র। কিন্তু নিদর্শন দ্বারা জাত-পাককে বোঝা যায় না। যাহার আকৃতি আছে ও নূরের দ্বারা প্রকাশিত হয় সেই সকল আকৃতি ও নূর জাতপাকের নিদর্শন মাত্র। বাহিরের দর্শন দ্বারা জাতপাকের যে নিদর্শন লাভ হয় তাহা দ্বারা এলমুল ইয়াকীন হাছিল হয়। ইহাকে শহুদে আফাকী (বাহির দর্শন) বলা হয়। কিন্তু শহুদে আফাকী দ্বারা আসল মকছুদ সম্পর্কে কোনো জ্ঞান লাভ করা যায় না। কেবলমাত্র আলামত ও নিদর্শনাবলীর সাহায্যে একটা ধারণা সৃষ্টি হয় মাত্র। হযরত খাজা ওবায়দুল্লাহ আহরার (রঃ) এর বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়া হযরত মুজাদ্দেদ (রাঃ) ছাহেব তদীয় "মা-আরিফে লাদুন্নীয়া" নামক কেতাবে বলিতেছেন, ছায়ের দুই ধরণের হয়। একটি ছায়েরে মুছতাতীল, দ্বিতীয়টি ছায়েরে মুছতাদীর। ছায়েরে মুছতাতীল হইল দূরের ছায়ের। আর ছায়েরে মুছতাদীর হইল নিকট হইতে নিকটতরের ছায়ের। ছায়েরে মুছতাদীর হইল স্বীয় দেলের চতুর্দিকে ছায়ের ও নিজের মধ্যেই মকছুদ বা উদ্দিষ্ট আল্লাহতায়ালার অনুসন্ধান করা।
আয়নুল ইয়াকীনঃ
বিজ্ঞাপন
আয়নুল ইয়াকীনের অর্থ হইল বান্দার তাইয়্যুনের পর্দা উম্মোচিত হইবার পর হক তায়ালার দর্শন হাছিল হওয়া। সুফীগণ এই অবস্থাকে অবিমিশ্র অনুভূতি বলিয়াছেন। কিন্তু এই রূপ অনুভূতি সাধারণ লোকদেরও হইতে পারে। হযরত ইবনুল আরাবী বলেন, এলমুল ইয়াকীন আয়নুল ইয়াকীনের জন্য পর্দা স্বরূপ। আয়নুল ইয়াকীনও এলমুন ইয়াকীনের জন্য পর্দা স্বরূপ। তিনি আরও বলিয়াছেন, যিনি মারিফতের পূর্ণতা হাছিল করিয়াছেন, তিনি যখন নিজের গোপন অবস্থার দিকে তাকান, তখন তিনি সে সম্পর্কে কোনো জ্ঞানই লাভ করিতে পারেন না। এই ধরণের আরেফই মারিফতের পূর্ণতার অধিকারী।
হাক্কুল ইয়াকীনঃ
হাক্কুল ইয়াকীনের অর্থ হইল আল্লাহতায়ালার জাতপাককে তাহার নিজের অনুরূপ বা আয়েন ধারণা করা। এই হাক্কুল ইয়াকীন বাকা বিল্লাহর অবস্থায় হাছিল হয়। প্রকৃত ফানা লাভের পর আল্লাহপাক তাহাকে স্বীয় ক্ষমতা দ্বারা মওহুবে হক্কানী বা প্রকৃত সত্যের গৌরবে গৌরবান্বিত করেন। তাহাকে বেহুশী ও বে খুদী হইতে হুশ ও জ্ঞান দান করেন। এই স্থানে পৌঁছাইলে এলমুল ইয়াকীন ও আয়নুল ইয়াকীন একটি আর একটির পর্দা হিসেবে বিরাজ করে না। উহা প্রত্যক্ষ দরশনে জ্ঞানী হয়। আর এই তাইয়্যুন যাহাকে বুজর্গগণ অজুদে মত্তহুবে হাককানী বা নিছক হকের অস্তিত্বে অস্তিত্ববান মনে করেন, তাহা সৃষ্টিগত তাইয়্যুন নয়। হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব বলেন, জাত ও সিফাতের মারিফত লাভের অর্থ জাতের এলেম হাছিল করা নয়। জাতের মারিফত অর্থ উহা জেসেম নয়, উহা অন্যের মুখাপেক্ষী নয়-উহা অস্থায়ী বস্তুও নয় ইহা উপলব্ধি করা'। আর আল্লাহতায়ালার সিফাতের মারিফত লাভের অর্থ হইল উহা জেসেম নয় বা শরীরগত নয়, উহার মধ্যে অজ্ঞতা নাই, অন্ধত্ব নাই; বধিরতা নাই ইহা বুঝিতে পারা। আল্লাহতায়ালার জাত সম্পর্কে মানুষ পরিপূর্ণ জ্ঞান লাভ করিতে পারে না। তবুও জাত পাকের পরিচয় লাভ করা মানুষের জন্য জরুরী-এই জন্য যে মানুষ তাহা হইলে জাত পাককে গায়ের জাত হইতে পৃথক করিতে পারিবে। হযরত খাজা বাহাউদ্দিন নকশবন্দ (রঃ) ছাহেবের উদ্ধৃতি দিয়া হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব জাত সম্পর্কে তাহার আলোচনায় যে চূড়ান্ত বক্তব্য দান করিয়াছেন, তাহা হইল ফানা ও বাকা লাভের পর আরেফগণ যাহা দেখেন; তাহা নিজের মধ্যেই দেখেন; যাহা চেনেন, নিজের মধ্যেই চিনিতে পারেন। যেমন আল কুরআনের ভাষায়-"ওয়া ফি আনফুছিকুম আফালা তুবছেরুন"- তিনি তো তোমাদর নাফছের মধ্যেই আছেন, তোমরা কেন দেখ না?
বিজ্ঞাপন
আল্লাহতায়ালার সিফাত বা গুণ ও আফ্যাল বা ক্রিয়া সম্পর্কে হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব বলেন, আল্লাহতায়ালার জাত পাকের মত তাহার সিফাত সমূহ ও আফালাত বা ক্রিয়াগুণ সমূহও অমুখাপেক্ষী ও কোনো প্রকারেই তাহাকে সীমাবদ্ধ করা যায় না। আসল কথা হইল আল্লাহতায়ালার জাত পাক এমন অনেক বিষয়ের সহিত সম্পর্কযুক্ত যাহার একটি অন্যটির সহিত মিলিত। আল্লাহপাকের জাতের সহিত তাহার সিফাত বা গুণ সমূহ এবং তাহার আফালাতও যুক্ত। জাতপাক বিভিন্ন বিষয়ের সহিত সম্পর্ক যুক্ত হওয়ার কারণে জাতের ক্রিয়া কর্মের মধ্যে বিভিন্নতা দেখা যায়। এই জন্য আল্লাহতায়ালার ফেল ও সিফাত জাতপাকের সহিত সম্পর্কযুক্ত হওয়ার কারণে বহু বলিয়া মনে হয়। আল্লাহতায়ালার ফেল বা ক্রিয়াগুণ তাই আদি হইতে অন্ত পর্যন্ত বিস্তৃত।
কুরআন মজীদে যেমন বলা আছে-আমার নির্দেশ কেবল একটি চোখের পলক। আল্লাহতায়ালার জাত যেমন সকল শান ও বিষয় সমূহ একত্রকারী, তেমনি তাহার ক্রিয়া ও গুণ বা ফেল ও সিফাত সকল বিষয়ের সমন্বয়কারী। এই জন্য আল্লাহতায়ালা কোথাও জীবন দানকারী, কোথাও মউতদানকারী বা মৃত্যুদানকারী হিসেবে প্রকাশ পান। কোথাও পুরস্কার প্রদানকারী বা শাস্তি প্রদানকারী হিসেবে পরিচিত। আল্লাহতায়ালার অস্তিত্ব যাহা তাহার জাতের অনুরূপ এবং বিন্দুর মত, তাহার মধ্যে কোনোরূপ ভাগ বন্টন হয় না। কিন্তু অসংখ্য বিষয়ের সহিত সম্পর্কযুক্ত হইবার কারণে তাহা বিস্তৃত ও প্রশস্ত বলিয়া মনে হয়। জ্যামিতি শাস্ত্রের তত্ত্ব অনুযায়ী বৃত্তের কেন্দ্র একটি মাত্র বিন্দু-ঐ বিন্দুকে আর ভাগ করা যায় না। কিন্তু ঐ বিন্দু হইতে সহস্র রেখা বাহিরে যাইয়া বিন্দু সৃষ্টি করিয়া বৃত্তের রেখার আকার ধারণ করে। উহার দ্বারা এই কথাই বলা যায় যে, বিন্দু হইতে যেমন বৃত্তের মত পরিমন্ডলকারী রেখা টানা সম্ভব; তাহাতে বৃত্তের কেন্দ্রীয় বিন্দুর কোন ভাগ বন্টনের প্রয়োজন হয় না, তেমনিই আল্লাহতায়ালার জাত পাক সৃষ্টি রূপী বৃত্তের কেন্দ্র বিন্দুর মত একক ও অবিভাজ্য সত্ত্বায় বিরাজমান।
আল্লাহতায়ালার জাত ও সিফাতের সহিত সম্পর্ক বিষয়ে হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব বলেন, আল্লাহ তাহার সিফাত সমূহ হইতে পৃথক নয়, তাহা সত্ত্বেও আল্লাহতায়ালার জাতপাক কোনো সিফাতেরই মুখাপেক্ষী নহেন। আল্লাহতায়ালার জাত পাক ছামাদ বা অমুখাপেক্ষী।
বিজ্ঞাপন
এই রূপে বৃত্তের বিন্দু যেমন একক সত্ত্বায় থাকিয়াও সহস্র বিন্দুর সহিত মিলিত হয় ও বৃত্তকে পূর্ণ করে, আল্লাহতায়ালার জাত পাকও একক সত্ত্বায় থাকিয়াও সমস্ত সৃষ্টি জগৎ অর্থাৎ আল্লাহতায়ালার গুণ সমূহ, নাম ও শানের বাহ্যিক প্রকাশ সমূহ এবং তাহাদের ক্রিয়াদি পরিচালনা করেন।
বৃত্তের রেখা সহস্র বিন্দু লইয়া গঠিত-যে বিন্দু গুলি বৃত্তের কেন্দ্র বিন্দুরই অনুরূপ। বৃত্ত রেখার কোনো বিন্দু যদি কেন্দ্র বিন্দুতে ফিরিয়া যাইতে চায়, তাহা হইলে তাহাকে বৃত্ত রেখার বন্ধনী কাটিয়া বিন্দু আকৃতি লাভকরিতে হইবে; অতঃপর কেন্দ্র হইতে যে রেখা আসিয়া বৃত্তের ঐ বিশেষ বিন্দুর সহিত মিলিত হইয়াছে, সেই রেখা ধরিয়া কেন্দ্রের বিন্দুতে যাইয়া মিলিত হইতে হইবে। এই বৃত্ত ও বিন্দুর উপমা দ্বারা বোঝানোর চেষ্টা করা হইয়াছে যে, বৃত্তের মূল যেমন কেন্দ্র, তেমনি সৃষ্টি জগতের মূল আল্লাহতায়ালার প্রকাশস্থল হইবার ইচ্ছা, প্রেম ও কল্পনা-যাহা জাত পাকে উত্থিত হইয়াছিল। আল্লাহতায়ালার প্রেমের ও কল্পনার নিখুঁত প্রকাশ হযরত রাসূলে করীম (সাঃ)। বৃত্ত হইতে বিন্দু যেমন বন্ধন মুক্ত হইয়া কেন্দ্রে ফিরিয়া যাইতে পারে, তেমনি মানুষও সৃষ্টি জগতের বন্ধন মুক্ত হইয়া আল্লাহতায়ালা যে সুন্দর কল্পনায় হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) কে সৃষ্টি করিয়াছিলেন, সেই গুণাগুণ অর্জন করিয়া আল্লাহতায়ালার জাত পাকে ফিরিয়া যাইতে পারে।
হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) সম্পর্কে সৃষ্টিগত কল্পনাই হকিকতে মুহাম্মদী। এই হকিকতে মুহাম্মদীর হুকুম বা নূরগত প্রকাশ আলমে আরওয়াহ ও নূরে মুহাম্মদী। আর তাহার সৃষ্টিগত প্রকাশ হযরত রাসূলে করীম (সাঃ)। আল্লাহতায়ালার দিকে ফিরিবার পথে বৃত্ত রেখা হইতে বিন্দুর মুক্ত হওয়ার মত সৃষ্টিজগতের আকর্ষণ মুক্ত হইয়া প্রথমে ছালেককে আলমে আরওয়াহর স্তরে প্রত্যাবর্তন করিতে হয়। পরে দেহগত সত্ত্বা বিলীন করিয়া আল্লাহতায়ালার আমরের পবিত্রতা লাভ করিয়া সিফাতে হাকীকীর পথ অতিক্রম করিয়া হকিকত জগতের গুণ লাভ করিতে হয়-আর এই হকিকত জগতের গুণ অর্জন করিবার পরই আল্লাহতায়ালার জাত পাকে পৌঁছানো সম্ভব হয়। হকিকতে মুহাম্মদী যেমন সমগ্র সৃষ্টির মূল, তেমনি এই গুণে যে সকল সাধককে আল্লাহতায়ালা বিভূষিত করেন, তাহারা সকলেই সমগ্র সৃষ্টি জগতের হকিকত ও গুণাগুণ লাভকরেন-তাহার নিজ নাফসের মধ্যেই তখন একই সাথে সমগ্র সৃষ্টি জগতের হাকীকী রূপ ও জাত পাকের পরিচয় লাভ সম্ভব হয়।
বিজ্ঞাপন
হে জাকেরানগণ! তোমরা জানিয়া রাখ আমার দয়াল মুরশিদ কেবলাজান হুজুর হযরত মাওলানা খাজাবাবা শাহসূফী এনায়েতপুরী (কুঃ) ছাহেব ছিলেন এই হকিকতে মুহাম্মদী বা হাকিকাতুল হাকায়েকের গুণে গুণী। তোমরা যদি তাঁহার গুণ লাভ করিয়া আল্লাহতায়ালার জাতপাক ও একই সাথে সমগ্র সৃষ্টি জগতের হকিকত ও জ্ঞান নিজের মধ্যে লাভকরিয়া সর্বজ্ঞানে জ্ঞানী হইতে চাও ও আল্লাহতায়ালার কল্পনার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হইয়া আপন মাশুকের নিকট পৌছাইতে চাও তবে আমার দয়াল পীর কেবলাজান হুজুরের (কুঃ) পাক কদম জড়াইয়া ধর, তাহার মাহব্বতে দিলকে রংগীন কর, তাহার কদমে নেছার হইয়া যাও। রাসূলে করীম (সাঃ) এর মহব্বত লাভ করিলে তাহার গুণে গুণান্বিত হওয়া যায়। ইহাই হযরত মুজাদ্দেদ (রাঃ) ছাহেব বলিয়া গিয়াছেন। হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর অনুসরণের মাধ্যমে হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব আল্লাহতায়ালার হাকীকী জগতে উন্নীত হইয়া ছিলেন। আমার দয়াল পীর কেবলাজান হুজুর (কুঃ) ছাহেবও হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেবের নেছবতের পূর্ণ জ্ঞানে জ্ঞানী। তিনিও একই পথ ধরিয়া, আল্লাহতায়ালার জাতের জ্ঞানে জ্ঞানী হইয়াছিলেন। তাই তাহার পাক মহব্বত দেলে হাসিল করিলে তোমরাও খোদার ফজল, করম ও রহমে আল্লাহতায়ালার জাতের জ্ঞান ও সৃষ্টি জগতের জ্ঞান হাছিল করিতে পারিবে। তোমরা আমার দয়ালপীর কেবলাজান হুজুরের পাক মহব্বত হাসিলের জন্য কোশেশ' করিয়া যাও, তাহা হইলে আল্লাহতায়ালার রহমত ও বরকত এবং নেক অনুগ্রহ তোমাদের লাভ হইতে পারে। দু'আ। ইতি।








