ন্যায়বিচার না পেয়ে রাজনীতির পথ বেছে নিয়েছেন মীর স্নিগ্ধ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও গুঞ্জনের পর অবশেষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন জুলাই আন্দোলনের শহীদ মীর মুগ্ধের ভাই মীর স্নিগ্ধ। রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পেছনের ব্যক্তিগত ও মানসিক কারণ তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ভাইয়ের হত্যার বিচার আদায়ের লড়াই থেকেই তার রাজনৈতিক পথে আসা।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব কথা জানান।
পোস্টে স্নিগ্ধ লিখেছেন, ভাই হত্যার পর দীর্ঘদিন ধরে বিচার পাওয়ার আশায় বিভিন্ন জায়গায় দৌড়ঝাঁপ করেছেন। কিন্তু প্রচলিত প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না— এমন উপলব্ধি থেকেই রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
তিনি বলেন, ভাইয়ের হত্যার বিচার চাইতে চাইতে বুঝলাম, এভাবে ফল পাওয়া যাবে না। তখন রাজনৈতিকভাবে কাজ করলেই হয়তো বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব— এই ভাবনা থেকেই রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছি। খুব সাধারণভাবে মাত্র ২০ টাকার একটি ফরম পূরণ করেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছি।
বিজ্ঞাপন
স্নিগ্ধ বলেন, বিদেশে পড়াশোনা করে স্থায়ী ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ থাকলেও তা ছেড়ে দেশে থেকে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শুধু নিজের ভাই নয়, জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহত সবার জন্য কাজ করতেই তিনি ‘জুলাই ফাউন্ডেশন’-এর সঙ্গে বিনা পারিশ্রমিকে যুক্ত হন। ছাত্র উপদেষ্টা থেকে শুরু করে আন্দোলনের অনেক পরিচিত মুখ একসঙ্গে এই ফাউন্ডেশনে কাজ করেছি এবং সর্বোচ্চ সততা বজায় রাখার চেষ্টা করেছি।
কাজের শুরুর সময়ের কথা স্মরণ করে স্নিগ্ধ জানান, এক মন্ত্রণালয় থেকে আরেক মন্ত্রণালয়ে ঘুরে ফাউন্ডেশন দাঁড় করাতে হয়েছে। অনেক সময় গণপরিবহনে ভিড় ঠেলে দৌড়াতে হয়েছে। এ কারণে ফ্রিল্যান্সিংসহ নিজের পেশাগত কাজ থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন তিনি, যার প্রভাব পড়ে তার ক্যারিয়ারে। তবুও দায়িত্ব থেকে সরে আসেননি বলে জানান।
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে তাকে ঘিরে ‘ভাই ব্যবসা’ বা ব্যক্তিস্বার্থে রাজনীতিতে আসার অভিযোগেরও জবাব দেন স্নিগ্ধ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রমাণ ছাড়া কীভাবে কাউকে অসৎ ট্যাগ দিয়ে দিই?
তিনি লেখেন, তাহলে কি আপনাদের মতে, এসব না করে ভাই হত্যার বিচারের জন্য কাজ না করে নিজের নিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকেই চলে যাওয়াই আমার জন্য শ্রেয় ছিল?
বিজ্ঞাপন
পোস্টের শেষাংশে স্নিগ্ধ বলেন, রাজনীতি তো কোনো ব্যবসা নয়। আর যারা রাজনীতিকে ব্যবসা বানিয়েছে—আপনারা কি তাদেরই বারবার জিতিয়ে দিচ্ছেন না?
তার এই পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন। তবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি জানিয়েছেন— বিচার ও দায়বদ্ধতার লড়াই চালিয়ে যেতেই রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন।









