Logo

‘এই মিয়া চুপ, একেবারে খেয়ে ফেলব’, এমপি হানজালার ভিডিও ভাইরাল

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ জুন, ২০২৬, ২১:৩১
‘এই মিয়া চুপ, একেবারে খেয়ে ফেলব’, এমপি হানজালার ভিডিও ভাইরাল
ছবি: সংগৃহীত

মাদারীপুরের শিবচরে একটি সালিস বৈঠকে সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালার উত্তেজিত আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওতে তাকে উপস্থিত কয়েকজনকে ধমক দিতে এবং ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়, যা ইতোমধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার ভিডিওটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় আসে। প্রায় এক মিনিটের ওই ভিডিওচিত্রে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মনোনয়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হানজালাকে সালিস বৈঠকের একপর্যায়ে মেজাজ হারাতে দেখা যায়।

ভিডিওতে দেখা যায়, বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বৈঠকের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় এমপি উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে প্রশ্ন করে তিনি বলেন, “কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন?” একপর্যায়ে তিনি টেবিল চাপড়ে বলেন, “এই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলব। চুপ করেন। আমি আসছি বিচার করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দেব।”

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘটনাটি শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় অনুষ্ঠিত একটি সালিস বৈঠকের সময় ঘটে। ওই বৈঠকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচিত তারা মিয়ার একটি বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিল।

তারা মিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগে ঘটেছিল। তিনি জানান, সালিসে কয়েকশ মানুষ উপস্থিত ছিলেন এবং বিচার চলাকালে বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরছিলেন। তার অভিযোগ, বৈঠকে অন্যদের মতামত প্রকাশের সুযোগ সীমিত ছিল এবং তিনি এ বিষয়ে আপত্তি জানালে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।

তিনি আরও বলেন, জনসম্মুখে অনুষ্ঠিত সালিসে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য ও যুক্তি শোনা স্বাভাবিক বিষয়। তার মতে, একটি নিরপেক্ষ বিচার প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সবার কথা শোনা প্রয়োজন। অন্যথায় বিচার প্রক্রিয়া একতরফা বলে প্রশ্ন উঠতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, বৈঠকে বক্তব্য প্রদান ও পাল্টা বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে এমপি হানজালা বিরক্তি প্রকাশ করেন এবং পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তখন উপস্থিত একজন ব্যক্তি মোবাইল ফোনে পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, কিছু সময় পর ভিডিও ধারণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলে রেকর্ডিংও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ঘটনার পুরো অংশ ভিডিওতে উঠে আসেনি। তবে ধারণকৃত অংশটুকুই পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

বিজ্ঞাপন

ভিডিও প্রকাশের পর রাজনৈতিক মহল, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ একজন জনপ্রতিনিধির এমন আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, আবার অনেকে ঘটনার সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট প্রকাশের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD