Logo

প্রকৌশলী থেকে সিন্ডিকেটের মধ্যস্থতাকারী শামছুল আলম

profile picture
জান্নাতুর রহমান
৭ এপ্রিল, ২০২৬, ২০:২৯
প্রকৌশলী থেকে সিন্ডিকেটের মধ্যস্থতাকারী শামছুল আলম
ছবি: পত্রিকা থেকে নেওয়া।

জাতীয় সংসদ ভবনের মতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনার সাউন্ড সিস্টেম আধুনিকায়ন প্রকল্পে ভয়াবহ জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই দুর্নীতির আরেক হোতা হিসেবে নাম এসেছে গণপূর্ত অধিদফতরের ইএম ডিভিশন-৭ এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী শামছুল আলমের বিরুদ্ধে।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ রয়েছে, বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ উপেক্ষা করে এবং অদক্ষ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই সিন্ডিকেট।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শামছুল আলম সরকারি কর্মচারী হলেও তার মূল ভূমিকা ছিল নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অলিখিত প্রতিনিধি হিসেবে। তিনি গণপূর্ত অধিদফতরের প্রভাবশালী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ঠিকাদারদের মধ্যে লিয়াজোঁ বা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতেন। ঊর্ধ্বতনদের ম্যানেজ করে পর্দার আড়ালে থেকে পুরো ঠিকাদারি প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। বিদেশি বিশেষজ্ঞদের কারিগরি নকশা বাদ দিয়ে নিজের মনগড়া পরিকল্পনায় কাজ সম্পাদন করাতেন, যার বিনিময়ে নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছে যেত মোটা অঙ্কের কমিশন। সাউন্ড সিস্টেম আধুনিকায়নের জন্য প্রায় ৫ কোটি টাকার একটি দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ মানের হেডফোনের দাম বাজারমূল্যের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শামছুল আলম নিজেই সরাসরি বাজার থেকে অত্যন্ত সস্তা ও নিম্নমানের মালামাল ক্রয় করে প্রকল্পে সরবরাহ করতেন, যা কাগজে-কলমে আন্তর্জাতিক মানের ব্র্যান্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের কোনো বিশেষজ্ঞ ছাড়াই অদক্ষ প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে কাজ করানো হয়েছে। এই দুর্নীতির প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে। নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহারের ফলে অধিবেশন চলাকালে প্রতিনিয়ত সাউন্ড সিস্টেমে গোলযোগ দেখা দিচ্ছে। স্পিকারের মাইক্রোফোন থেকে শুরু করে সংসদ সদস্যদের অডিও প্যানেলে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গত কয়েকদিনের অধিবেশনে চরম অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক ছিল যে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে স্পিকার একাধিকবার অধিবেশন মুলতবি করতে বাধ্য হয়েছেন। সংসদ সদস্যরা এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্ত অধিদফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী হয়েও শামছুল আলম যেভাবে কারিগরি সিদ্ধান্ত ও কেনাকাটা নিয়ন্ত্রণ করেছেন, তা অভাবনীয়। তার আয়ের উৎসের সঠিক তদন্ত করলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।

এই অনিয়মের বিষয়ে অভিযুক্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী শামছুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিক কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনায় এমন সাউন্ড সিস্টেম সমস্যা ও আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। গণপূর্তের একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারীর তাদের দাবি, দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় ও বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে শামছুল আলমসহ এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত রাঘববোয়ালদের আইনের আওতায় আনা হোক।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD