ডিপিডিসি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মুহিবুল্লাহ’র বিদ্যুৎফাঁদ

নাম তাঁর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মুহিবুল্লাহ (পরিচিতি নং ১১১১৬)। বর্তমানে কর্মরত আছেন ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড(ডিপিডিসি)’র জুরাইন ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী পদে। গ্রাহককে ফাঁদে ফেলে টাকা আদায়ের ঘটনা যেন তাঁর কাছে ‘দুধভাত’।
বিজ্ঞাপন
‘অপকর্মের’ পরিধি বাড়াতে ডিপিডিসি’র এক প্রভাবশালী গ্রুপ ২০ লাখ টাকা নিয়ে জুরাইন ও ১৫ লাখ টাকায় পোস্তগোলা ডিভিশনে দুই চেয়ারের মালিক স্বৈরাচারের দোসর এই নির্বাহী প্রকৌশলী। কখনো ভবনের পাশ ঘেঁষা বৈদ্যুতিক তার সরানোর কথা বলে, কখনোবা দুর্ঘটনার ‘ভয়’ দেখিয়ে কাভার লাগানোর কথা বলে হাতিয়ে নেন টাকা। শুধু তাই নয়, মিটার মিটার টেম্পারিংয়ের অজুহাতে মাতুয়াইল ডিভিশনে নির্বাহী প্রকৌশলী থাকা অবস্থায় প্রকাশ্যে গ্রাহক হয়রানী করে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ঢাকা প্রধান কার্যালয়ে এমন অভিযোগ জমেছে তার বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর পক্ষে এসব অভিযোগ নিয়ে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। দুদকে দেওয়া তার অভিযোগের কপি রয়েছে প্রতিবেদকের হাতে, তবে নিরাপত্তার খাতিরে ওই ব্যক্তির নাম পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে প্রতিবেদনে। অভিযোগটির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎমন্ত্রী, বিদ্যুৎ সচিব ও ডিপিডিসির চেয়ারম্যানের দপ্তরে।
দুদকে জমা পড়া ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, রাজধানীর মাতুয়াইল ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর চেয়ারে থাকা অবস্থায় মো. মুহিবুল্লাহ প্রকাশ্যে বিদ্যুতের তার বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এতে তাকে স্থায়ীভাবে দুই বেতনের ইনক্রিমেন্ট আটকে দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া তিনি ডিপিডিসিতে যোগদানের পর থেকে তার সীমাহীন দুর্নীতির কারণে অসহায় হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। তিনি জুরাইনে দায়িত্ব নিয়ে বেশ কয়েকটি ফ্যাক্টরির মালিকদের সঙ্গে ঢাকায় একটি হোটেলে বৈঠক করে তাদের প্রতিমাসে মাসোহারা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
এর জন্য তাদের বাড়তি সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ সময় সবুজ নামের এক গ্রাহক প্রতিবাদ করায় তাকে নানা ঝামেলায় পড়তে হবে বলে হুশিয়ারি দেন ওই নির্বাহী প্রকৌশলী। এভাবে নানা ধরনের অবৈধ কাজের বিনিময়ে গ্রাহককে ফাঁদে ফেলে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, মুহিবুল্লাহ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তিনি এখন নিজেকে কখনো জামায়াত আবার কখনো বিএনপি সাজার চেষ্ট করছেন। তার কাজই হচ্ছে রাজনৈতিক তকমা লাগিয়ে সুপার ডিভিশনগুলো তার কব্জায় নেওয়া। এত ভালো ভালো নির্বাহী প্রকৌশলী থাকার পরেও তাকেই দুটি ডিভিশন দিয়েছেন বর্তমান এমডি।
বিজ্ঞাপন
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকারী প্রকৌশলী অভিযোগ করে বলেন, “ভারপ্রাপ্ত এমডি যোগদানের পরই এই বদলির আদেশ জারি করা হয়। দুই ডিভিশনের দায়িত্ব দিয়ে ৩৫ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত কমিটিরপ্রমাণ পাওয়া গেছে প্রকৌশলী মুহিবুল্লাহ বিদ্যুৎ চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ বিষয় ভারপ্রাপ্ত এমডির তদন্ত না করেই তাকে একের পর এক দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ডিপিডিসির জুরাইন ডিভিশনের নির্বাহী মো. মুহিবুল্লাহ মুঠো ফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও উত্তর মেলেনি। এ ব্যাপারে ডিপিডিসির ভারপ্রাপ্ত এমডি নূর আহ্মদকে মুঠো ফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।








