মতিঝিল টিএন্ডটি কলেজে নিয়োগ জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

রাজধানীর মতিঝিলের টিএন্ডটি কলেজে অনিয়ম, নিয়োগ জালিয়াতি ও আর্থিক দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষ মো. নূর হোসেনের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ ঘিরে প্রতিষ্ঠানটিতে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুসরণ করা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ বোর্ডে ন্যূনতম তিনজন বৈধ প্রার্থী থাকার কথা থাকলেও, কয়েকজন প্রার্থীর বয়সসীমা অতিক্রম করা এবং অনুপস্থিত প্রার্থীদের নাম ব্যবহার করে কোরাম পূরণ দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া পূর্বে অযোগ্য ঘোষিত হওয়া সত্ত্বেও পরবর্তীতে নূর হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
কলেজ সূত্র জানায়, গত ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে তৎকালীন গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. ছগীর আহমেদের স্বাক্ষরিত এক পত্রে নূর হোসেনকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং তাকে প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। তবে পরবর্তীতে সভাপতি পদে পরিবর্তন হওয়ার পর তিনি পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রতিবাদ করলে শোকজ, বরখাস্ত বা নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয়। ইতোমধ্যে একজন শিক্ষক ও একজন কর্মচারীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষকদের কল্যাণ তহবিল থেকে গত ২ মার্চ ২০২৫ তারিখে জনতা ব্যাংকের আরামবাগ শাখা থেকে প্রায় ৭ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। তবে ওই অর্থ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিতরণ না করে আত্মসাত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক। এছাড়া কলেজের বিভিন্ন খাতের অর্থ লেনদেনেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দাবি, একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এতে করে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরে আসবে বলে তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অধ্যক্ষ মো. নূর হোসেন ও গভর্নিং বডির সভাপতি ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।








