বদলি আদেশ পাত্তা দিচ্ছে না বিসিআইসির পরিচালক রাজ্জাক

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন-বিসিআইসি'র পরিচালক (অর্থ) যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাকের বদলীর আদেশ গত ৫ মার্চ জনস্বার্থে জারি করা হলেও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় যোগদান করছেন না। বিসিআইসিতে যোগদানের পর থেকে ভ্রমণ ভাতা আত্মসাতের উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে বিসিআইসির সকল কারখানায় ভ্রমণ করেছেন।
বিজ্ঞাপন
গত ৫ মার্চ রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ-আলম স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের পরিচালক (অর্থ) যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাকের বদলীর আদেশ জারি করা হয়। এছাড়াও তিনি নিজ গরজে ভ্রমণ ভাতা কুক্ষিগত করতে বিসিআইসির সারাদেশে অবস্থিত কলকারখানায় ভ্রমণ সঙ্গী হিসেবে নিজকে যুক্ত করার অভিযোগ রয়েছে। এর আগে এই পদে থেকে তার মত কোন পরিচালক ভ্রমণ করেননি। যার ফলে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেছেন তিনি। বিসিআইসির ইতিহাসে এমন ভ্রমণ পিপাসু কর্মকর্তা এর আগে কখনো আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটি অনেক কর্মকর্তা। এ বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে সুচারু ভাবে তদন্ত করলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে।
আরও পড়ুন: এবারের ঈদে সালামির বাজেট কত হওয়া উচিত?
এদিকে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বদলি এবং স্ট্যান্ড রিলিজের পরও নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করা একটা সংস্কৃতিতে পরিনত হয়ে উঠছে। বড় বড় কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জুনিয়র কর্মকর্তারাও এ গুলো করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বিসিআইসির কর্মকর্তাদের বদলী করা হলে নতুন কর্মস্থালে যোগদান করতে চান না বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে সাবেক সচিব আবু আলম শহিদ খান বলেন, প্রশাসনের দুর্বলতার কারণেই বদলি এবং স্ট্যান্ড রিলিজের পরও নতুন কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ার মতো অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটছে। আর সমন্বয় এবং কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল না থাকায় এমনটা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
বদলি আদেশ অনুযায়ী, বিসিআইসির পরিচালক (অর্থ) যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাকে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ 'একসেলেরেটিং ট্রান্সপোর্ট এন্ড ট্রেড কানেক্টিভিটি ইন ইস্টার্ন সাউথ এশিয়া বাংলাদেশ ফেইজ,১ (বিএলপিএ কম্পোনেন্ট)' শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে বদলি করা হয়। বর্ণিত এই কর্মকর্তাকে ১২ মার্চের মধ্যে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করতে আদেশ জারি করা হয়। অন্যথায় ১২ মার্চ অপরাহ্ণ হতে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (Stand Released) হবেন। কিন্তু যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়মিত বিসিআইসিতে অফিস করছেন।
জানা যায়, জনস্বার্থে বদলি করা হলেও প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তাই তা অমান্য করছেন। কিছুতেই তাঁরা বদলি আদেশ মানছেন না। এ কারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্মকর্তাদেরকে স্ট্যান্ড রিলিজ করেছে। তার পরও তাঁরা আইনবহির্ভূতভাবে আগের কর্মস্থলেই রয়েছেন। আবার অনেক কর্মকর্তাকে তদবির করে বদলি আদেশই বাতিল করিয়েছেন। প্রশাসনে শূন্য পদে বদলি করা হলেও বেশিরভাগ কর্মকর্তাই পছন্দের কর্মস্থলে থাকতে আগ্রহ দেখান। ফলে বদলি করা পদগুলো দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় সরকারি সেবা ও কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
সার্ভিস রুলের ৮১ ধারা অনুযায়ী, বদলি আদেশের পর নতুন কর্মস্থলে যোগদানের প্রস্তুতির জন্য একজন কর্মকর্তা সর্বোচ্চ ছয় দিন সময় পান। একই শহরে বদলি হলে প্রস্তুতির সময় পান না। সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী, কোন কর্মকর্তা বদলি করা কর্মস্থলে যোগ না দিলে তা অসদাচরণ বলে গণ্য হবে। এ জন্য সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলারও সুযোগ রয়েছে। আর স্ট্যান্ড রিলিজের অর্থই হলো অব্যাহতি দেওয়া।
এ সকল বদলির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় রিলিজ লেটার ইসূ করতে অহেতুক কালক্ষেপণের ফলে কর্মকর্তাদের অনিয়ম বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এ প্রসঙ্গে বিসিআইসির পরিচালক (অর্থ) যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক জনবাণীকে বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ে অবমুক্তির জন্য আবেদন করেছি। অবমুক্তি দিলে বদলিকৃত মন্ত্রণালয়ের জয়েন্ট করবো।








