Logo

পোলাও-রোস্টের উৎসবেও নেই কারাবন্দি নেতাদের মুখে হাসি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ মার্চ, ২০২৬, ২০:১৩
পোলাও-রোস্টের উৎসবেও নেই কারাবন্দি নেতাদের মুখে হাসি
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দের সময়টি এবার কারাগারে কাটাচ্ছেন দেশের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং বিশিষ্ট নেতাকর্মীরা। ঈদের বিশেষ খাবারের আয়োজন যেমন পায়েস, পোলাও, মুরগির রোস্ট, রুই মাছ ও গরুর মাংস—সেসব স্বাদেও তাদের মুখে আনন্দের ছোঁয়া নেই। কারণ, মাথার ওপর গণহত্যার মামলার বিচার এবং বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগের জটিলতায় তারা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন কারাগারে দুইশর বেশি ‘ভিআইপি’ বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৬১ জন প্রথম শ্রেণির সুবিধা-সম্পন্ন ডিভিশনে আছেন। তবে নিরাপত্তার কারণে অন্তত ৬০ জনকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগারে রাখা হয়েছে।

ঈদের দিনে এই বন্দিরা একসঙ্গে নামাজ আদায় করবেন এবং পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ বা মোবাইল ফোনে কথাও বলার সুযোগ পাবেন। তবে ফোন ব্যবহার ও সাক্ষাৎ কার্যক্রমের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার জন্য আগেই নম্বর জমা দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

কারাগারের খাবারের আয়োজনও করা হয়েছে ঈদ উপলক্ষে। সকালের নাশতায় থাকবে পায়েস বা সেমাইয়ের সঙ্গে মুড়ি, দুপুরের খাবারে পোলাও, গরুর মাংস, মুরগির রোস্ট, সালাদ ও মিষ্টি। রাতের খাবারে থাকবে সাদা ভাত, আলুর দম ও রুই মাছ ভাজা। অন্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য গরুর মাংসের পরিবর্তে খাসির মাংস পরিবেশনের ব্যবস্থা রয়েছে। পরিবার থেকে আনা খাবারও কারাগারে খাওয়ার সুযোগ থাকবে।

কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগারে থাকা কয়েকজন সাবেক নেতার মধ্যে আছেন— আনিসুল হক, আমির হোসেন আমু, হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন, জুনাইদ আহমেদ পলক, মেয়র আতিকুল ইসলাম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

এছাড়া সাবেক মন্ত্রী-এমপিরা যেমন সাদেক খান, ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন, আলী আজম মুকুল ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু—তারা সবাই কারাগারে এই ঈদ উদযাপন করছেন।

বিজ্ঞাপন

আইনজীবীরা জানান, ঈদের আনন্দের মধ্যে স্বজনদের দেখা-সাক্ষাৎ না হওয়ায় বন্দিরা মানসিকভাবে দুঃখভরা। বিশেষ করে জুনাইদ আহমেদ পলকের স্ত্রী বিদেশে পলাতক থাকায় এ ঈদে দেখা হচ্ছে না। সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির একমাত্র মেয়ে ও স্বামীও আলাদা কারাগারে থাকার কারণে সাক্ষাৎ করতে পারছেন না।

কারাগারে দীর্ঘদিন আটক থাকার কারণে অনেকের শারীরিক অসুস্থতা বেড়েছে। সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার এবং আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ অনেকে ঈদের বিশেষ খাবারেও স্বাভাবিক আনন্দ অনুভব করতে পারছেন না। পরিবারের সদস্যদের আলাদা থাকার কারণে সালমান এফ রহমান, হাজী সেলিম ও অন্যান্যদের দেখা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

পোলাও-রোস্টের আয়োজন থাকা সত্ত্বেও কারাবন্দি নেতাদের ঈদ উদযাপন আনন্দহীন। মুক্তির আশা আর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের অভাব ঈদের এই দিনে তাদের মনকে ভারাক্রান্ত করছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD