Logo

জুরাইন নির্বাহী প্রকৌশলীর চেয়ারের মূল্য ২০ লাখ টাকা

profile picture
বশির হোসেন খান
৩০ মার্চ, ২০২৬, ১৬:৫৮
জুরাইন নির্বাহী প্রকৌশলীর চেয়ারের মূল্য ২০ লাখ টাকা
ছবি: পত্রিকা থেকে নেওয়া।

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)-এর জুরাইন ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর চেয়ারে বসতে ২০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মুহিবুল্লাহ (পরিচিতি নং ১১১১৬)।

বিজ্ঞাপন

প্রকৌশলীর এক প্রতিনিধি স্বীকার করেছেন, টাকা ছাড়া চেয়ার পাওয়া যায় না। বড় কর্তাদের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেই চেয়ারে বসতে হয়। আমি বাধ্য হয়ে তাই করেছি। এটা দোষের কি। এ ঘটনায় আলদ্দিন নামে এক ব্যক্তি স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয় সংস্থার ভেতরে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকৌশলীরা অভিযোগ করেন, মাতুয়াইলে ডিভিশনে কর্মরত অবস্থায় নির্বাহী প্রকৌশলী মুহিবুল্লাহ অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। এতে সরকার রাজস্ব হারিয়েছে কোটি টাকা। বিদ্যুৎ বিভাগের তদন্ত প্রমানিত হলে তাকে সাময়িক অব্যহতিসহ দুই ইনক্রিমেন্ট স্থানীয়ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ বিষয় ডিপিডিসির সাবেক এমডি বিকাশ দেওয়ান বলেন, মুহিবুল্লাহ বিদ্যুৎ চুরির দায় রয়েছে। তদন্তে তা প্রমাণ মিলেছে। তিনি যে অপরাধ করেছেন। সেটা ক্ষমার যোগ্য নয়। বিদ্যুৎ আইন অনুসারে তার চাকরিচ্যুত হওয়ার কথা। কিন্তু আমাদের কিছু অসাধু বিদ্যুৎ কর্মকর্তার কারণে আজ যে পার পেয়ে যাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

ডিপিডিসির একাধিক কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এমন অভিযোগ প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভেঙে দিতে পারে এবং দাপ্তরিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারে।

প্রকৌশলীদের অভিযোগ, মো. মুহিবুল্লাহ ডিপিডিসিতে যোগদানের পর থেকে তার প্রায় প্রতিটি বদলি ও পদায়ন ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। বর্তমানে তিনি জুরাইন ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর চেয়ার ২০ লাখ টাকায় কিনেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে অতীতে সিনিয়রদের ডিঙিয়ে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ডিপিডিসির ভারপ্রাপ্ত এমডি নূর আহ্মদকে ভুল বুঝিয়ে প্রকৌশলীদের একটি গ্রুপ এই বদলির আদেশ জারি করতে বাধ্য করেন।

বিজ্ঞাপন

দুদকে দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে জুরাইন ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নথিপত্র অনুযায়ী, সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নজরুল হামিদ বিপুর আশীর্বাদে মো. মুহিবুল্লাহ সুপার ডিভিশন গুলোতে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের মাসোহারা দিয়ে তাকে একই চেয়ারে দীর্ঘদিন বহাল রাখা হয়েছিল। গত ১১ মার্চ ডিপিডিসির এক অফিস আদেশে তাকে বদলি করা হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক মাস তিনি নানা ভাবে চেষ্টা চালিয়ে ভারপ্রাপ্ত এমডিকে ‘ম্যানেজ’ করে পছন্দের কর্মস্থল জুরাইন ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব নেন বলে অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে গত মাস পর্ব জুরাইন ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রাহাত চৌধুরীকে। এক মাসে মধ্যে তাকে স্বামীবাগ ডিভিশনে বদলি করা হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় থেকে নির্দেশনা রয়েছে ৩ বছরের আগে কোনো ভাবে বদলি করতে পারবে না। কিন্তু আইনের তোয়াক্কা না করেই বর্তমান এমডির নির্দেশনায় এই আদেশ জারি করা হয়।

বিজ্ঞাপন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রকৌশলী অভিযোগ করে বলেন, “ভারপ্রাপ্ত এমডি যোগদানের পরই এই বদলির আদেশ জারি করা হয়। এই বদলি নিয়ে ২০ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। যেহেতু প্রকৌশলী মুহিবুল্লাহ বিদ্যুৎ চোর হিসেবে প্রমানিত। তাই বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত এমডির তদন্ত করা জরুরি। না হলে এর দায় কে নিবে। যদি এসব অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে দুদকের তদন্তেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।”

ডিপিডিসির জুরাইন ডিভিশনের নির্বাহী মো. মুহিবুল্লাহ মুঠো ফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেই সাংবাদিক পরিচয় শুনেই সংযোগ কেটে দেন। এর তাকে একাধিক বার ফোন ও ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে উত্তর মেলেনি।

এ ব্যাপারে ডিপিডিসির ভারপ্রাপ্ত এমডি নূর আহ্মদকে মুঠো ফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ব্যক্তি স্বার্থের জন্য বদলি-পদায়ন দুর্নীতির মধ্যে পরে। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD