সম্পাদক ফারুকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

শ্যামপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় ও সমিতির তহবিল লোপাটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সমিতির সাধারণ সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সমিতির একাধিক সদস্যের অভিযোগ, সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে সমিতির অর্থ আত্মসাৎ করে আসছেন। বিশেষ করে সাবেক সংসদ সদস্য সানজিদার নাম ব্যবহার করে প্রতি মাসে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা করে উত্তোলন করা হতো। সমিতির সদস্যদের দাবি, অর্থ উত্তোলনের এই প্রক্রিয়ায় সাধারণ সম্পাদক ছাড়া কার্যকরী কমিটির অধিকাংশ সদস্যই ছিলেন অন্ধকারে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন ওই দলের প্রভাবশালী নেতাদের নাম ব্যবহার করে তিনি অবৈধভাবে অর্থ আদায় করতেন। সরকার পরিবর্তনের পরও তিনি নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে বর্তমানে বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতাদের নাম ব্যবহার করে একই ধরনের অপতৎপরতা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে সমিতির যুগ্ম-সম্পাদক মনিরুজ্জামান জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকেই বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতার নাম করে তিনি সমিতি থেকে টাকা নিতেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পরেও তিনি একইভাবে টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করেন। তবে সাধারণ সদস্যদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে এবার তিনি ব্যর্থ হন।
বিজ্ঞাপন
তহবিলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সাধারণ সম্পাদক একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। সদস্যদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে তিনি এই অর্থকে ‘ধার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যদিও এর সপক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ বা সদস্যদের সম্মতি ছিল না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সমিতির সভাপতি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এছাড়া, নাম উল্লেখ করা সাবেক সংসদ সদস্য সানজিদার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তহবিল তছরুপের ঘটনায় ক্ষুব্ধ দলিল লেখকরা বলেন, ‘সাধারণ দলিল লেখকদের কঠোর পরিশ্রমের উপার্জনে এই তহবিল গঠিত। এই অর্থের এমন অপব্যবহার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
বিজ্ঞাপন
সমিতির সদস্যরা অবিলম্বে বিষয়টি তদন্তের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত এই আর্থিক অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়ে








