Logo

কলমের আড়ালে প্রাণঘাতী অস্ত্র, ঢাকার নতুন আতঙ্ক ‘পেন গান’

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ এপ্রিল, ২০২৬, ২১:১৬
কলমের আড়ালে প্রাণঘাতী অস্ত্র, ঢাকার নতুন আতঙ্ক ‘পেন গান’
পেন গান | ছবি: সংগৃহীত

দেখতে একেবারেই সাধারণ একটি কলম—স্টিলের তৈরি, উপরে পুশ-বাটন আর সামনে নিব। কিন্তু ভেতরে লুকিয়ে আছে প্রাণঘাতী গুলি। এক চাপেই ছুটে যেতে পারে .২২ ক্যালিবারের বুলেট। এমনই ভয়ংকর এক গোপন আগ্নেয়াস্ত্র ‘পেন গান’ এখন ঢাকার অপরাধ জগতে নতুন আতঙ্ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি পুরান ঢাকার নয়াবাজার এলাকায় এক যুবদল নেতাকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় এই বিশেষ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের তথ্য মিলেছে। ঘটনাটির তদন্ত করতে গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রথমবারের মতো এমন একটি ‘কলম পিস্তল’ উদ্ধার করে, যা তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

গত ৩ এপ্রিল দিনের বেলায় নয়াবাজারে ঘটে যাওয়া গুলির ঘটনার সূত্র ধরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালায়। লালবাগ বিভাগের একটি দল যাত্রাবাড়ী ও কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে সোহেল ওরফে কাল্লু এবং সাইমন নামে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকেই উদ্ধার করা হয় এই অস্বাভাবিক অস্ত্রটি, যা একটি সিগারেটের প্যাকেটের ভেতরে লুকানো ছিল।

বিজ্ঞাপন

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আকারে ছোট এবং দেখতে সাধারণ কলমের মতো হওয়ায় ‘পেন গান’ সহজেই বহন ও গোপন রাখা যায়। ফলে অপরাধ সংঘটনের আগে এটি শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। এ কারণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এটি একটি নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার (দক্ষিণ) মো. নাসিরুল ইসলাম বলেন, নয়াবাজারের ঘটনার পর থেকেই তারা ছায়া তদন্ত শুরু করেন। প্রথমে যাত্রাবাড়ী থেকে সাইমনকে এবং পরে কেরানীগঞ্জ থেকে কাল্লুকে আটক করা হয়। কাল্লুর কাছ থেকেই উদ্ধার করা অস্ত্রটি ‘পেন গান’ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এটি কোনো প্রচলিত আগ্নেয়াস্ত্র নয় এবং ঢাকায় এর আগে এমন অস্ত্র ব্যবহারের নজির তাদের কাছে নেই। কীভাবে এটি দেশে প্রবেশ করেছে, কারা এর সরবরাহকারী বা নির্মাতা এবং অন্য কোথাও এর ব্যবহার হয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে একাধিক তদন্ত দল কাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

আহত যুবদল নেতা রাসেলকে নয়াবাজারের একটি বাসায় ডেকে নিয়ে গুলি করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরিবারের দাবি, পরিচিতজনদের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, উদ্ধার করা অস্ত্রটি ভারত বা পাকিস্তান থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আসতে পারে। গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামি জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, অস্ত্রটি প্রায় ৮০ হাজার টাকায় কেনা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে বেশি দামে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় মাদক সংক্রান্ত বিরোধের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে খুলনায় উগ্রবাদী গোষ্ঠীর কাছেও এমন অস্ত্র ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা সূত্র।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘পেন গান’ সাধারণত .২২ বা .২৫ ক্যালিবারের গুলি ছুড়তে সক্ষম একটি ক্ষুদ্রাকৃতির আগ্নেয়াস্ত্র, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে একবারে একটি গুলি ছোড়ে। পুরোনো মডেলে পিনফায়ার প্রযুক্তি থাকলেও আধুনিক সংস্করণে রিমফায়ার বা সেন্টার-ফায়ার কার্টিজ ব্যবহৃত হয়।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, জব্দ করা অস্ত্রটিতে কোনো কোম্পানির লোগো বা শনাক্তযোগ্য চিহ্ন নেই, যা এর উৎস শনাক্তকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে এই নতুন ধরনের অস্ত্রের বিস্তার ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD