গণপূর্তের বিতর্কিত প্রকৌশলী আনোয়ারের সম্পদের পাহাড়

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সাউন্ড সিস্টেম বিভ্রাট ও হেডফোন কেলেঙ্কারির ঘটনায় অভিযুক্ত গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম-৭) মো. আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে উঠেছে দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ। টেন্ডার বাণিজ্য, কমিশন ভোগ এবং সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তিনি ঢাকাতেই গড়ে তুলেছেন কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ।
বিজ্ঞাপন
তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এতো বড় অনিয়মের পরও তাকে শাস্তির আওতায় না এনে উল্টো ঢাকার ভেতরেই সুবিধাজনক স্থানে বদলি করা হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গণপূর্তের এই প্রভাবশালী প্রকৌশলীর ঢাকাতেই রয়েছে একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও জমি। ঢাকার উত্তরায় ১০ নং সেক্টরে প্রায় ৩০০০ বর্গফুটের দুইটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে তার, যার বর্তমান বাজার মূল্য কয়েক কোটি টাকা। পশ্চিম আগারগাঁওয়ের ৬০ ফিট এলাকায় রয়েছে একটি ৪ তলা সুদৃশ্য ভবন। এছাড়াও বনশ্রী আমুলিয়া হাউজিংয়ে রয়েছে ১০ কাঠার একটি প্লট।
গত দুই এপ্রিল গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণের একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগ পত্রে আনোয়ার হোসেনের অবৈধ সম্পদের তথ্য দেওয়া হয় এবং যথাযথ তদন্তপূর্বক সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
এদিকে গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদসহ সংসদ সদস্যরা সাউন্ড সিস্টেম ও হেডফোনে মারাত্মক যান্ত্রিক গোলযোগের সম্মুখীন হন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, স্পিকার হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করে অধিবেশন মুলতবি করতে বাধ্য হন। নতুন সংসদের প্রথম দিনেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অভিযোগ ওঠে, নিম্নমানের সরঞ্জাম ক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণে দুর্নীতির কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে জাতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেমের সমস্যা ‘জটিল আকার’ ধারণ করেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
তিনি বলেছেন, অধিবেশন চলার কারণে এখনই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। তবে অধিবেশন শেষ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে। সাউন্ড সিস্টেম কেনা ও স্থাপনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে চিফ হুইপ বলেন, ৩৮ গ্রেডের মাইক্রোফোন দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে ২৫৮ গ্রেডের।
অভিযোগ রয়েছে, আনোয়ার হোসেন গণপূর্তের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য। এই সিন্ডিকেটটি বদলি ও টেন্ডার বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এই ‘অদৃশ্য শক্তির’ কারণেই দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বিজ্ঞাপন
গত ১ এপ্রিল গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে আনোয়ার হোসেনকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পরিবর্তে গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-১২, ঢাকায় বদলি করা হয়। ২ এপ্রিলের মধ্যে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়, অন্যথায় ৫ এপ্রিল থেকে তিনি ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ বলে গণ্য হবেন।
বিভাগীয় ব্যবস্থা না নিয়ে কেবল এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে বদলি করায় অধিদপ্তরের ভেতরে-বাইরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গণপূর্তের একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেন, তদন্তের মাধ্যমে তার এই বিপুল অবৈধ সম্পদের উৎস খুঁজে বের করে তাকে আইনের আওতায় আনা হোক।








