স্মার্ট মিটার প্রকল্পের দেড় শত কোটি টাকা হরিলুট

দেশের বিদ্যুৎ খাতের ডিজিটাল রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি নিয়ে শুরু হওয়া ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)-এর স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার প্রকল্প এখন গভীর প্রশ্নের মুখে।
বিজ্ঞাপন
প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা, অস্বচ্ছ ক্রয়প্রক্রিয়া এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে প্রকল্পটি ক্রমেই একটি “হাই-রিস্ক পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট”-এ পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রতি মিটার থেকে ১৫ ডলার করে ঘুষ নিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক সিন্ডিকেট।
এই প্রকল্পে সাড়ে ৮ লাখ মিটার থেকে প্রায় দেড় শত কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেন। প্রকল্প পরিচালক শেখ মো. জিয়াউল হাসানকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করছে, ঠিকাদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে একটি অস্বচ্ছ অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হয়েছিল। প্রতিটি মিটার সরবরাহকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনের একটি অনানুষ্ঠানিক কাঠামো চালু ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব দাবির বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন ও বিদ্যুৎ মন্ত্রনালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভুগি।
অভিযোগ সূত্র বলছে, টেন্ডার প্রক্রিয়াও ছিল বিতর্কিত। অভিযোগ উঠেছে, দরপত্রের শর্তাবলি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছিল যাতে প্রতিযোগিতা সীমিত হয়ে পড়ে এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদার গোষ্ঠী সুবিধা পায়। এতে করে প্রকল্পটি কার্যত “কন্ট্রোলড প্রোকিউরমেন্ট মডেল”-এ পরিচালিত হয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
বিজ্ঞাপন
প্রযুক্তিগত বাস্তবায়ন নিয়েও চিত্র আশাব্যঞ্জক নয়। যে সিস্টেমের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম ডাটা, স্বয়ংক্রিয় বিলিং এবং উন্নত গ্রাহকসেবা দেওয়ার কথা ছিল, তা অনেক ক্ষেত্রেই অকার্যকর। ব্যবহারকারীরা অভিযোগ করছেন, মিটারিং সিস্টেমে অস্বাভাবিক বিলিং, ডাটা অসামঞ্জস্য এবং প্রত্যাশিত স্মার্ট সুবিধার ঘাটতি প্রকট। বিশ্লেষ আলদ্দিন হোসেনের ভাষায়, এটি শুধু একটি ব্যর্থ প্রকল্প নয়, বরং নীতিগত দুর্বলতা, দুর্বল নজরদারি এবং সম্ভাব্য স্বার্থসংঘাতের একটি জটিল উদাহরণ। তাদের মতে, প্রকল্প পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের ভূমিকা গভীরভাবে পর্যালোচনা না করলে প্রকৃত চিত্র উদঘাটন সম্ভব নয়।
এই প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি দমন কমিশন-এর একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জনগণের অর্থে পরিচালিত এই মেগা প্রকল্প এখন বিশ্বাসযোগ্যতার সংকটে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে “স্মার্ট মিটার” উদ্যোগটি জনগণের কাছে এক সময় ‘স্মার্ট ব্যর্থতা’র প্রতীক হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক শেখ মো. জিয়াউল হাসান বলেন, আমি এ বিষয় বথা বলতে চাই না। এই প্রকল্পে দুর্নীতি হলে এমডি স্যার জবাব দিবেন। আমি কিছু জানি না।
বিজ্ঞাপন
আপনার দুর্নীতির ফিরিস্তি এমডি বলবেন কিভাবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি তার নির্দেশ কাজ করি। তাই এই প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে কিনা আমার জানা নেই।








