রূপায়ণ সাংস্কৃতিক সংঘে নামে সরকারি টাকা হরিলুট

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের জন্য গড়ে ওঠা একটি সংগঠন। কিন্তু সেখানে এখন কর্মকা-ের চেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে হিসাব-নিকাশের প্রশ্ন। নিয়মিত সাংস্কৃতিক আয়োজন নেই, সদস্যদের নিয়ে সাধারণ সভার খবর নেই, সাংগঠনিক যোগাযোগেও ভাটা। এর মধ্যেই সরকারি বরাদ্দ ও অনুদানের অর্থের ব্যবহার নিয়ে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ।
বিজ্ঞাপন
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পূর্ব ধামসর রূপায়ণ সাংস্কৃতিক সংঘকে ঘিরে এমন অভিযোগই সামনে এসেছে। সংগঠনের সভাপতি নুর আলম ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মাসুমের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দ ও অনুদানের অর্থের হিসাব স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন না করা, সদস্যদের পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর অংশÑসংগঠনের নামে কিংবা বিভিন্ন ব্যক্তির নামে সরকারি বরাদ্দ এনে সেই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এরই মধ্যে সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক মুন্নার পদত্যাগে সেই অভিযোগগুলো আরও প্রকাশ্য হয়েছে।
যে সংগঠন ছিল সরব, এখন সেখানে নীরবতা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, পূর্ব ধামসর রূপায়ণ সাংস্কৃতিক সংঘ একসময় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে সক্রিয় ছিল। বিভিন্ন কর্মসূচিতে সদস্যদের অংশগ্রহণও ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেই কর্মকা-ে ভাটা পড়েছে। নাজমুল হক মুন্নার পদত্যাগপত্রে অভিযোগ করা হয়েছে, সংগঠনটির কোনো উল্লেখযোগ্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এখন নেই। সদস্যদের নিয়ে নিয়মিত সাধারণ সভাও অনুষ্ঠিত হয় না। ফলে প্রশ্ন উঠছেÑকমিটি ও পদ-পদবি বহাল থাকলেও সংগঠনটির কার্যকর সাংগঠনিক কর্মকা- কোথায়।
সংগঠনটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সরকারি বরাদ্দ ও অনুদানের অর্থ। গত বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদকে) লিখিত অভিযোগ করেছেন এক ভুক্তভুগি।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে সংগঠনের নামে কিংবা ব্যক্তির নামে সরকারি বরাদ্দ আনা হলেও সেই অর্থের পরিমাণ, উৎস, ব্যয়ের খাত এবং বাস্তবায়িত কাজের বিবরণ সদস্যদের সামনে পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। এমনকি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাজমুল হক মুন্নার অভিযোগ, সভাপতি নুর আলম ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মাসুম সাধারণ সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন না। সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তেও সদস্যদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয় না।
একই সঙ্গে আয়-ব্যয় ও সরকারি বরাদ্দের অর্থের হিসাব সদস্যদের সামনে উপস্থাপনের ক্ষেত্রেও অস্বচ্ছতা রয়েছে বলে অভিযোগ। এসব অভিযোগের মধ্যেই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক মুন্নার পদত্যাগ সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সংকটকে সামনে নিয়ে এসেছে। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, ব্যক্তিগত কোনো কারণে নয়; সংগঠনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকর সাংগঠনিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা থেকেই তিনি পদত্যাগ করেছেন। তিনি বলেন, “পদ নয়, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থই আগে। নামসর্বস্ব সংগঠন নয়, চাই কার্যকর সংগঠন।
বিজ্ঞাপন
অস্বচ্ছতা নয়, চাই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।” এর আগে আরও একাধিক সদস্য পদত্যাগ করেছেন বলেও জানা গেছে। রূপায়ণ সাংস্কৃতিক সংঘকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি বক্তব্যে নয়, নথিতে। সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ, আর্থিক অস্বচ্ছতা, সাংগঠনিক নিষ্ক্রিয়তা, সদস্যদের পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের বিষয়ে সংগঠনের সভাপতি নুর আলম ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মাসুমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলী সুজা বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবো।








