উজিরপুরে স্বৈরাচারের দোসর মোস্তফার রক্ষাকবচ মাসুম

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বদলে গেছে ক্ষমতার পুরোনো সমীকরণ। একসময় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাবকে ঘিরে উজিরপুরে শক্ত অবস্থান তৈরি করা হাজী গোলাম মোস্তফার সেই প্রভাব এখন অনেকটাই ম্লান। তবে প্রভাববলয়ের সেই অধ্যায় যেন পুরোপুরি শেষ হয়নি। বরং নেপথ্যে সামনে এসেছে নতুন এক নাম মাহফুজুর রহমান মাসুম।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের অভিযোগ, গোলাম মোস্তফার রাজনৈতিক প্রভাব কমে যাওয়ার পর ব্যবসা-বাণিজ্যসহ তার সম্পদ রক্ষার ঠিকাদারি নিয়েছে কথিত সাংবাদিক মাসুম। এমনকি তিনা গোলাম মোস্তফার ‘রক্ষাকবচ’ হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একসময় উজিরপুর পৌর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী অবস্থানে ছিলেন গোলাম মোস্তফা। সেই রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি ইটভাটার পাশাপাশি কংক্রিট ব্লক তৈরির ব্যবসা গড়ে তোলেন। ‘হাজী ট্রেডার্স’ ও ‘আভা কংক্রিট ব্লক ফ্যাক্টরি’ নামে পরিচালিত এসব ব্যবসাকে ঘিরে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়নকাজের ঠিকাদারদের কাছ থেকে ব্যবসা আদায় এবং প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, উজিরপুরের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের ঠিকাদারদের গোলাম মোস্তফার প্রতিষ্ঠান থেকে নির্মাণসামগ্রী নিতে চাপ দেওয়া হতো।
বিজ্ঞাপন
নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করতে ঠিকাদারদের বাধ্য করতেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, তার প্রতিষ্ঠান থেকে নির্মাণসামগ্রী নিতে রাজি না হলে ঠিকাদারদের ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করা হতো। এমনকি কাজ বন্ধ করে দেওয়া, ভয়ভীতি দেখানোসহ বিভিন্ন ধরনের হয়রানির ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। এসব কর্মকাণ্ডের একটি লাঠিয়াল বাহিনী ব্যবহারের অভিযোগও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচিত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, ইটভাটা ও কংক্রিট ব্লকের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গোলাম মোস্তফা একসময় বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হন। ব্যবসার পাশাপাশি সরকারি উন্নয়নকাজের সরবরাহব্যবসাকে ঘিরে তার একটি শক্তিশালী প্রভাববলয় গড়ে ওঠে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বদলে যায় পরিস্থিতি। কমতে থাকে পুরোনো রাজনৈতিক প্রভাব। আর ঠিক সেই সময়েই সামনে আসে কথিত দালাল হিসেবে চিহ্নিত মাহফুজুর রহমান মাসুমের নাম।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, গোলাম মোস্তফার রাজনৈতিক প্রভাব কমে যাওয়ার পর তার ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে মাসুমের প্রভাব বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে গোলাম মোস্তফার ‘রক্ষাকবচ’ হিসেবে স্থানীয়ভাবে মাসুমের নাম আলোচনায় আসে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে গোলাম মোস্তফাকে মাসুম নিজেই বিভিন্ন সময় ‘স্বৈরাচারের দোসর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বলেও জানান স্থানীয়রা। অথচ বর্তমানে তার ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে মাসুমের ভূমিকা রয়েছে এমন দাবি করছেন গোলাম মোস্তফার পরিবারের সদস্যদের এক অংশ।
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের নেতা গোলাম মোস্তফার এক প্রতিনিধি জানান, গোলাম মোস্তফার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার মাসুম। যত আয়, সব তার পকেটে। তিনি কৌশলে শুধু ইটভাটার আয়ের কিছু অংশ মোস্তাফাকে দিচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার বলেন, “মাসুম জোর করে ইটভাটা দখলে রেখেছেন। আর মোস্তফা মনে করছেন, মাসুম থাকলে তার ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান রক্ষা পাবে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, “মাসুমের পরিবার সবাই আওয়ামী লীগ, মাসুম জামায়াত। সে কখনো বিএনপি করে নাই। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে নিউজ প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থীর বিপক্ষে সংবাদ প্রচার করেছেন। কিন্তু বিএনপির বিজয় উল্লাস দেখে হঠাৎ ভোল পাল্টে নিজেকে বিএনপি পরিচয় দেওয়ার চেষ্টায় সে ব্যস্ত।”
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মাহফুজুর রহমান মাসুমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।








