Logo

অর্ধ লাখ টাকা বেতনের চাকরি ছেড়ে উজিরপুরে মধুর খোঁজে মাসুম

profile picture
বশির হোসেন বাবু
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২১:০০
অর্ধ লাখ টাকা বেতনের চাকরি ছেড়ে উজিরপুরে মধুর খোঁজে মাসুম
মাহফুজুর রহমান মাসুম

একসময় উজিরপুরের মফস্বল সাংবাদিকতায় ছিলেন। এরপর হঠাৎ এলাকা ছাড়েন। গাজীপুরে ওষুধ কোম্পানিতে অর্ধ লাখ টাকা বেতনের চাকরি, পাশাপাশি ব্যবসা এভাবেই কেটে যায় দীর্ঘ সময়। চাকরি-ব্যবসার সেই অধ্যায় গুটিয়ে বহুদিন পর আবারও মফস্বল সাংবাদিকতায় ফিরে মধুর খোঁজে মাঠ দাপাচ্ছেন মাহফুজুর রহমান মাসুম।

বিজ্ঞাপন

আর প্রত্যাবর্তনের পরই তাকে ঘিরে উঠেছে একের পর এক অভিযোগ সাংবাদিক পরিচয়কে ঢাল বানিয়ে তদবির, মামলা-মোকদ্দমায় মধ্যস্থতা, সরকারি অনুদান নিয়ে প্রশ্ন এবং সংবাদ প্রচারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ।

এ ঘটনায় সম্প্রতি মাসুমের বিরুদ্ধে ঢাকা প্রেস কাউন্সিলে একাধিক ব্যাক্তি সাক্ষরিত একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগে বলা হয়, অর্ধ লাখ টাকার বেতন চাকরি ছেড়ে মধুর খোঁজে মফস্বল সাংবাদিকতায় ফিরেছেন মাসুম। নাকি সাংবাদিকতার পরিচয়ের আড়ালে খুলেছে তদবির বাণিজ্যের নতুন দুয়ার।

স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, মাসুম নিজেকে আমার দেশ, ইনকিলাব, একুশের সংবাদ ও বৈশাখী টেলিভিশনের সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন জায়গায় সাইনবোর্ড ব্যবহার করেন। পাশাপাশি নিজেকে একজন কর্মকর্তার আস্থাভাজন ও প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করে বিভিন্ন বিষয়ে তদবির ও মধ্যস্থতা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, সাংবাদিকতা ছেড়ে দীর্ঘদিন চাকরি ও ব্যবসায় থাকার পর আবার যখন মাসুম মফস্বল সাংবাদিকতায় ফিরলেন, তখন তার কর্মকান্ড নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্ন বিষয়ে তদবির করার অভিযোগ সামনে আসে।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগকারীদের দাবি, সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের ঘটনাও ঘটেছে। মাসুমের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ বিভিন্ন মামলা মোকদ্দমা নিয়ে থানা পুলিশে গিয়ে তদবির করেন তিনি। সাংবাদিক পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে মধ্যস্থতা ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন বলেও স্থানীয়দের অনেকই অভিযোগ করেছেন। মাসুমের বিরুদ্ধে সরকারি অনুদান নিয়ে গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। ‘রূপায়ণ সাংস্কৃতিক সংঘ’ নামের প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি অনুদান এনে তা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।

সম্প্রতি উজিরপুর সমাজসেবা কার্যালয়ে দালালি ও তদবিরকে কেন্দ্র করে গণধোলাইয়ের একটি ঘটনাও স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনাটির সঙ্গে মাসুমের সম্পৃক্ততা রয়েছে। দালালি করতে গেলে স্থানীয়দের মধ্যে কথার কাটাকাটি হয় এক পর্যায় তাকে গণধোলাইয় দিয়ে উপজেলা থেকে বের করে দেন।

একসময় সাংবাদিকতা, এরপর চাকরি ও ব্যবসা, দীর্ঘ বিরতির পর আবার মফস্বল সাংবাদিকতায় ফেরা এরপরই তদবির, মামলা-বাণিজ্য, সরকারি অনুদান ও অর্থ আদায়ের অভিযোগে নাম জড়ানোয় প্রশ্ন উঠেছে মাসুমের ভূমিকা নিয়ে। স্থানীয়রা বলছে, উজিরপুরের সাংবাদিকতায় যেন ‘মধু’ খুঁজে পেয়েছেন মাসুম। চাকরি ও ব্যবসার ব্যস্ততা পেছনে ফেলে আবার কেন মফস্বল সাংবাদিকতায় ফিরলেন তিনি সেটিই এখন আলোচনার বিষয়।

বিজ্ঞাপন

এসব অভিযোগের বিষয়ে মাহফুজুর রহমান মাসুমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য মেলেনি।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD