বিশ্বকাপে ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা আমিনুলের

আইপিএলের আসন্ন মৌসুমে প্রথমবার কলকাতা নাইট রাইডার্সের জার্সি গায়ে চাপানোর অপেক্ষায় ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কেনা বাংলাদেশি এই পেসারকে শেষ পর্যন্ত স্কোয়াড থেকে বাদ দিয়েছে কলকাতা।
বিজ্ঞাপন
এর আগে ভারতজুড়ে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর ধারাবাহিক বিক্ষোভ চলছিল। সেই চাপের মধ্যেই বিসিসিআই মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয়, যা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে।
এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম। তিনি আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় এই বিশ্বকাপ সামনে রেখে আমিনুল বলেন, ভারতের মাটিতে খেলতে গেলে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের জন্য একটি শঙ্কার জায়গা তৈরি হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
আমিনুলের ভাষায়, “সামনে বিশ্বকাপ। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের খেলোয়াড়রা ভারতে গিয়ে খেললে নিরাপত্তা নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা থেকেই যায়। এই শঙ্কা দ্রুত দূর করতে ক্রিকেট বোর্ড ও সরকারের দায়িত্বশীলদের আলোচনায় বসে সমাধান বের করা জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় ইস্যুকে কেন্দ্র করে কোনো পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা বিসিবির দায়িত্ব। “আইপিএল না খেললে মুস্তাফিজ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, কিন্তু দেশের মানুষ তাকে যে সম্মান দেয়, তাতে কোনো ঘাটতি হবে না। আগেও সে আইপিএল খেলেছে। হঠাৎ করে ধর্মীয় প্রসঙ্গ টেনে এনে যেভাবে তাকে বাদ দেওয়া হলো, সেটার পেছনে কারা আছে—বিসিবির উচিত তা তদন্ত করা,” বলেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের মধ্যে বিভেদ তৈরির অপচেষ্টা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন সাবেক এই তারকা গোলরক্ষক। তার মতে, “ধর্মকে সামনে এনে অসাধু চক্র দুই দেশের সম্পর্ক নষ্ট করতে চাইছে। এমন পরিস্থিতিতে মুস্তাফিজের মতো প্রতিভাবান একজন খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়া আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। কেন এমন হলো, সেটার সঠিক ব্যাখ্যা জাতির সামনে আসা দরকার।”
এদিকে, বিসিবির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মুস্তাফিজ ইস্যুতে এখনো বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য এলে পরবর্তী অবস্থান জানানো হবে। উল্লেখ্য, পুরো আইপিএল মৌসুমে খেলতে মুস্তাফিজকে আগেই এনওসি দিয়েছিল বিসিবি। কেবল মাঝপথে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের জন্য তাকে ছাড়ার পরিকল্পনা ছিল, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সে প্রক্রিয়ায় আর যেতে হচ্ছে না।







