নাজমুলকে বিসিবির শোকজ, বার্তা দিলো ক্রিকেটারদেরও

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে যখন অনিশ্চয়তা কাটেনি, ঠিক সেই সময়ে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের এক বক্তব্য ঘিরে নতুন সংকটে পড়েছে দেশের ক্রিকেট। বিশ্বকাপে অংশ না নিলে ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতি নিয়ে তার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব। এরই ধারাবাহিকতায় এবার নাজমুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিসিবি জানায়, বিতর্কিত মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে নাজমুল ইসলামকে ৪৮ ঘণ্টার সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার জবাব পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বোর্ড।
একই সঙ্গে বিপিএলের চলমান আসর নির্বিঘ্নে শেষ করার স্বার্থে ক্রিকেটারদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ ও সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে বিসিবি।
বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সম্প্রতি বোর্ডের এক সদস্যের আপত্তিকর মন্তব্যের কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আবারও দুঃখ প্রকাশ করছে। বিসিবি পেশাদারিত্ব, ক্রিকেটারদের প্রতি সম্মান এবং ক্রিকেটের মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিয়মতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিসিবি নিজস্ব নীতিমালা ও পেশাদার আচরণবিধি অনুযায়ী এ ধরনের বিষয় কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে। সেই অংশ হিসেবেই সংশ্লিষ্ট বোর্ড সদস্যকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
নাজমুল ইসলামকে দেওয়া নোটিশ প্রসঙ্গে বিসিবি জানায়, “শাস্তিমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট বোর্ড সদস্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাকে নির্দিষ্ট বিষয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে হবে। এরপর বোর্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”
বিজ্ঞাপন
এদিকে নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ দাবিতে ক্রিকেটারদের বয়কট হুমকির প্রেক্ষাপটে বিপিএল প্রসঙ্গেও অবস্থান পরিষ্কার করেছে বিসিবি। বোর্ড বলেছে, বিপিএলের ২০২৬ আসর এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে এবং এটি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট।
বিবৃতিতে বলা হয়, “বিসিবি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে ক্রিকেটাররাই বিপিএলসহ বোর্ডের অধীন সব ক্রিকেটীয় কার্যক্রমের প্রধান স্টেকহোল্ডার ও প্রাণশক্তি। তাই বোর্ড প্রত্যাশা করে, খেলোয়াড়রা তাদের পেশাদারিত্ব ও পূর্ব প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে বিপিএলের বাকি অংশ সফলভাবে সম্পন্ন করবেন।”
উল্লেখ্য, বুধবার বিশ্বকাপে অংশ না নিলে ক্রিকেটারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম বলেন, এতে বোর্ডের কোনো ক্ষতি হবে না, বরং ক্রিকেটারদেরই ক্ষতি হবে। তিনি ম্যাচ ফি ও পারফরম্যান্স বোনাসকে ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত আয় হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বোর্ড কোটি কোটি টাকা খরচ করলেও তা ফেরত চায় না— এমন মন্তব্য করেন।
বিজ্ঞাপন
এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব। সংগঠনটি নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি করে এবং দাবি মানা না হলে বিপিএলসহ সব ধরনের ক্রিকেট বর্জনের হুঁশিয়ারি দেয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিসিবির শোকজ নোটিশ এবং ক্রিকেটারদের অনড় অবস্থান— দুই পক্ষের টানাপোড়েনে দেশের ক্রিকেটে নতুন করে অচলাবস্থার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখন নাজমুল ইসলামের ব্যাখ্যা ও বিসিবির পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে পুরো ক্রিকেট অঙ্গন।








