ধারাভাষ্যকার হতে চান না ধোনি, জানালেন একাধিক কারণ

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও আইপিএলে এখনো সক্রিয় মহেন্দ্র সিং ধোনি। ক্রিকেট ছাড়ার পর অনেক সাবেক তারকাকে ধারাভাষ্যের মাইক্রোফোন হাতে দেখা গেলেও ধোনিকে সেই ভূমিকায় দেখার সম্ভাবনা খুবই কম। নিজেই জানিয়েছেন, ধারাভাষ্য দেওয়ার বিষয়ে তার আগ্রহ নেই—বরং এ কাজকে তিনি বেশ কঠিন বলেই মনে করেন।
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি এক অনলাইন অনুষ্ঠানে ধোনি বলেন, খেলার ধারাভাষ্য দেওয়া শুধু ম্যাচের বর্ণনা নয়, বরং তা একটি শিল্প। তার মতে, খেলার পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা আর মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের সমালোচনা করার মধ্যে খুব সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে—যা অনেক সময় অনেকে ঠিকভাবে বুঝতে পারেন না।
ধোনির ভাষ্য, ম্যাচ হারলে তার পেছনে নানা কারণ থাকে। সেটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে যেন কোনো খেলোয়াড় আক্রমণের শিকার না হন—এ বিষয়টি ধারাভাষ্যকারদের মাথায় রাখতে হয়। কাউকে আঘাত না দিয়ে খেলার বিশ্লেষণ করা—এটিকেই তিনি প্রকৃত ধারাভাষ্যের দক্ষতা বলে মনে করেন।
বিজ্ঞাপন
ধোনি আরও জানান, সংখ্যার হিসাব–নিকাশ তার শক্তির জায়গা নয়। পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ ধারাভাষ্যের বড় অংশ হলেও সে জায়গায় নিজেকে উপযুক্ত মনে করেন না তিনি।
তার কথায়, অনেক ধারাভাষ্যকার আছেন যাদের কাছে খেলোয়াড়দের রেকর্ড ও পরিসংখ্যান মুখস্থ থাকে। শুধু ভারতীয় ক্রিকেটার নয়, বিভিন্ন যুগের ক্রিকেটারদের তথ্যও তারা জানেন। কিন্তু নিজের রেকর্ড নিয়েও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বলতে পারবেন না বলে উল্লেখ করেন।
বিজ্ঞাপন
ক্রিকেটজীবনজুড়ে ধোনিকে খুব কমই মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেও তিনি দূরত্ব বজায় রাখেন। এ নিয়েও নিজের ব্যাখ্যা দিয়েছেন সাবেক এই অধিনায়ক।
ধোনির মতে, তিনি কথার মানুষ নন, বরং শ্রোতা হতে পছন্দ করেন। ফোনে কথা বলার সময় অপর প্রান্তের মানুষের মুখ দেখা যায় না—এ কারণে তিনি অস্বস্তি বোধ করেন। ভালোভাবে কথা বলতে না পারার কারণেও ফোন এড়িয়ে চলেন বলে জানান।
শুধু ফোনেই নয়, সামনাসামনিও তিনি বেশি কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। নিজের পছন্দের মানুষদের সঙ্গে কথা বললেও শোনার দিকেই তার ঝোঁক বেশি। নিজেকে একজন ‘ভালো শ্রোতা’ হিসেবেই দেখেন ধোনি।
বিজ্ঞাপন
তার মতে, কোনো বিষয় ভালোভাবে না জেনে সে বিষয়ে কথা বলার চেয়ে চুপ থেকে শোনা ভালো—কারণ তাতে নতুন অনেক কিছু শেখা যায়।








