Logo

১০৭ বছরের গাবতলী মাঠ দখলমুক্ত করা হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১৩:১৩
১০৭ বছরের গাবতলী মাঠ দখলমুক্ত করা হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের মাজার রোড সংলগ্ন শতবর্ষী গাবতলী খেলার মাঠকে অবৈধ দখলমুক্ত করে পুনরায় খেলাধুলার উপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১৯ এপ্রিল) ১০৭ বছর পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী মাঠ পরিদর্শনে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠগুলো পুনরুদ্ধারে ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, এই মাঠে কাজী সালাউদ্দীন থেকে শুরু করে আমি নিজেও ফুটবল খেলেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সারা দেশের গ্রামীণ জনপদসহ ঢাকা মহানগরের যেখানেই খেলার মাঠ দখলদারদের কবলে আছে, তা উদ্ধার করার কার্যক্রম গতকাল থেকে শুরু হয়েছে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রতিটি মাঠকে খেলার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।

বিজ্ঞাপন

গাবতলী মাঠের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, আইনি জটিলতা থাকলেও আদালতের প্রতি সম্মান রেখে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মাঠের অধিকাংশ অংশ দখলমুক্ত করা হবে। এখানে কোনো ধরনের অবৈধ স্থাপনা টিকে থাকতে দেওয়া হবে না। এলাকাবাসী, বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুদের জন্য মাঠটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনও কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, মাঠের অর্ধেকের বেশি অংশ ইতোমধ্যে অবৈধ দখলে চলে গেছে, যেখানে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন স্থাপনা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। এর মধ্যে দখলদাররা জায়গা ছেড়ে না দিলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মাঠটি কেবল খেলাধুলার জন্য নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্যও উন্মুক্ত রাখা হবে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক শতাব্দী আগে মুন্সি লাল মিয়া মিরপুর সিদ্ধান্ত হাই স্কুলের নামে ১ দশমিক ৭ একর জমি ওয়াক্ফ করে এই মাঠ প্রতিষ্ঠা করেন। ঢাকা-১৪ আসনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে এটিই একমাত্র খেলার মাঠ।

তবে অভিযোগ রয়েছে, পূর্ববর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ নিয়ে মাঠটির বড় অংশ দখল করে সেখানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় রাতের আঁধারে ভবন ও দোকানপাট গড়ে তোলার ঘটনাও সামনে আসে। ফলে মাঠটি ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

এর প্রভাব পড়েছে আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের ওপর। প্রায় ১০টিরও বেশি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ অবস্থায় মাঠটি দ্রুত দখলমুক্ত করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন এলাকাবাসী। সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও আশা করছেন, শিগগিরই গাবতলী মাঠ আবারও প্রাণ ফিরে পাবে এবং শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার কেন্দ্র হিসেবে ফিরে আসবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD