বিশ্বকাপের কারণে স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার নির্দেশ

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা উঠতে যাচ্ছে উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই ক্রীড়া আসরকে কেন্দ্র করে আয়োজক দেশগুলোর মধ্যে মেক্সিকো ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বিশ্বকাপ চলাকালে নিরাপত্তা, যানবাহন চলাচল ও দর্শনার্থীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে দেশটির সরকার বিশেষ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা।
বিজ্ঞাপন
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশ্বকাপের উদ্বোধন উপলক্ষে মেক্সিকোতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হবে। একই সঙ্গে সরকারি দপ্তরগুলোর অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও বাসা থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক ফুটবলপ্রেমী ও পর্যটক মেক্সিকোতে আসবেন। ফলে রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে যানবাহনের চাপ এবং জনসমাগম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ পরিস্থিতিতে সড়কে যানজট কমানো, নিরাপত্তা জোরদার করা এবং বিদেশি দর্শকদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের ধারণা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ও সরকারি কর্মীদের দূরবর্তীভাবে কাজ করার সুযোগ দিলে শহরের চাপ অনেকটাই কমবে।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউম সরকারি কর্মচারীদের যতটা সম্ভব বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে রাজধানী মেক্সিকো সিটি এবং বিশ্বকাপ সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে এই নির্দেশনা কার্যকর করা হবে।
তবে জরুরি সেবা সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে এই সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জরুরি অবকাঠামো ও জননিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের স্বাভাবিক নিয়মে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ছুটির নির্দেশনা জারি করা হলেও অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ আপাতত সরাসরি পাঠদান থেকে বিরত থাকবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী সময়ে শিক্ষা কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ভেন্যু এর আগেও বিশ্বকাপ আয়োজনের গৌরব অর্জন করেছে।
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘ সময় পর আবারও বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার সুযোগ পেয়েছে মেক্সিকো। ফলে দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সরকার ও আয়োজক কমিটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং ম্যাচকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়, বেসরকারি খাতকেও কর্মীদের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছে মেক্সিকো সরকার। এর মাধ্যমে শহরের যানবাহনের চাপ আরও কমানো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা সহজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপকে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দেশ এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। ফলে অংশগ্রহণকারী ফুটবলার, কর্মকর্তা, দর্শক এবং গণমাধ্যমকর্মীর সংখ্যাও অতীতের যেকোনো বিশ্বকাপের তুলনায় বেশি হবে। আয়োজক দেশগুলোর মধ্যে মেক্সিকোতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। সেই কারণে দেশটি আগেভাগেই পরিবহন, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে।








