অস্ট্রেলিয়ার দাপটে টাইগারদের লজ্জার হোয়াইটওয়াশ

সিরিজ আগেই হাতছাড়া হয়েছিল দুই ম্যাচে হার দিয়ে। শেষ ম্যাচে লক্ষ্য ছিল অন্তত হোয়াইটওয়াশ এড়ানো, কিন্তু সেই ম্যাচেও কার্যত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারেনি বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে ব্যর্থতা, বোলিংয়ে অনিয়মিত পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে আবারও বড় ব্যবধানে হারল স্বাগতিকরা। হাফ সেঞ্চুরি করা তাওহিদ হৃদয়ের ইনিংসে দল কোনোমতে তিন অঙ্কে পৌঁছালেও তা রক্ষা করতে পারেনি বোলাররা। অধিনায়ক মিচেল মার্শের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সহজেই জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া।
বিজ্ঞাপন
চট্টগ্রামের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে বাংলাদেশ হেরেছে ৭ উইকেটে। আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে মাত্র ১০৯ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ৯ ওভার হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা। এই নিয়ে টি-টোয়েন্টিতে ১১তমবার হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশ।
রান তাড়ায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল অস্ট্রেলিয়া। শরিফুল ইসলামের প্রথম ওভারেই আসে ১৭ রান। পরের ওভারে নাসুম আহমেদ দেন আরও ৯ রান। ৫ ওভারে ৫০ রান তুলে ফেলে তারা, এরপর ষষ্ঠ ওভারে প্রথম উইকেট হারায় অজিরা। জস ইংলিস শর্ট বলে ছক্কা মারতে গিয়ে মিড উইকেটে শামীম পাটোয়ারীর হাতে ক্যাচ দেন—১৬ বলে ১৭ রান করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
তবে এরপর অধিনায়ক মিচেল মার্শ একাই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। সপ্তম ওভারে নাহিদ রানার প্রথম দুই বলেই ছক্কা ও চার হাঁকান তিনি। ওই ওভারে মোট ২০ রান খরচ করেন নাহিদ। পরের ওভারে মাত্র ২৫ বলে নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন মার্শ।
জয়ের খুব কাছে পৌঁছে গিয়ে দ্বিতীয় উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। শরিফুল ইসলামের বলে মার্শ আউট হন ৬০ রান করে। ২৮ বলের ইনিংসে তিনি মারেন ৭ চার ও ৪ ছক্কা। এরপর আরও এক উইকেট হারালেও জয়ের পথ আটকায়নি সফরকারীরা। শেষদিকে টিম ডেভিড দ্রুত রান তুলে ম্যাচ শেষ করেন।
বিজ্ঞাপন
এর আগে বাংলাদেশের ইনিংস শুরু থেকেই ছিল বিপর্যস্ত। পাওয়ার প্লেতে পড়ে যায় ৩ উইকেট, স্কোরবোর্ডে জমা হয় মাত্র ২২ রান।
দ্বিতীয় ওভারেই রানআউট হন তানজিদ হাসান তামিম। পরের বলেই সাইফ হাসান বোলারের হাতে লেগে স্টাম্পে আঘাতের কারণে আউট হন। এরপর দ্রুতই আউট হন পারভেজ হোসেন ইমন, যিনি ১৩ বলে করেন মাত্র ১ রান।
মাঝে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন হৃদয় ও নুরুল হাসান সোহান। ষষ্ঠ ওভারে দুইজনই একটি করে বাউন্ডারি মারেন। তবে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি দল।
বিজ্ঞাপন
৮ম ওভারে ৩৪ রানে পড়ে যায় চতুর্থ উইকেট, এরপর একে একে ভেঙে পড়ে ইনিংস। রিশাদ হোসেন করেন ২০ বলে ২৬ রান, তবে দলীয় সংগ্রহ আর বড় হয়নি। শেষ পর্যন্ত হৃদয়ের লড়াইয়ে দল ১০০ ছাড়ায়।
তাওহিদ হৃদয় একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ৪১তম বলে ফিফটি পূর্ণ করেন। ৪ নম্বরে নেমে তিনি একাই লড়াই চালিয়ে যান এবং দলের স্কোর ১০০ পার করান। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১০৯ রান।
বিজ্ঞাপন
শেষ ৫ ওভারে আসে মাত্র ৩২ রান, শেষ ওভারে যোগ হয় মাত্র ২ রান—যা বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতাই স্পষ্ট করে দেয়।








