তিন বছর আগের স্বপ্ন, বিশ্বকাপে সত্যি করলেন জিলিয়ানো

ফুটবল ক্যারিয়ারের কঠিন এক সময় নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা দিয়েছিলেন আর্জেন্টিনার তরুণ ফরোয়ার্ড জিলিয়ানো সিমিওনে, তিন বছর পর সেটিই বাস্তবে রূপ নিয়েছে। গুরুতর চোট কাটিয়ে অবশেষে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষেক করেছেন তিনি। সেই যাত্রাপথের স্মৃতিচারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা একটি ভিডিও এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। এ ম্যাচেই প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে নামেন ২৩ বছর বয়সী জিলিয়ানো সিমিওনে। শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া এই ফরোয়ার্ড ৭১ মিনিট পর্যন্ত মাঠে খেলেন এবং দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
ম্যাচ শেষে ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন ভিডিও প্রকাশ করেন সিমিওনে। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমি বিশ্বাস করাকে বেছে নিয়েছিলাম। ০৬/০৮/২০২৩।’ এই বার্তার মাধ্যমে তিনি নিজের দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মবিশ্বাস এবং স্বপ্নপূরণের গল্প তুলে ধরেন।
বিজ্ঞাপন
ভিডিওতে স্থান পেয়েছে আলাভেসের হয়ে প্রাক-মৌসুমের প্রস্তুতির সময় পাওয়া ভয়াবহ চোটের দৃশ্য, দীর্ঘ পুনর্বাসনের কঠিন দিন, অনুশীলনে ফেরার মুহূর্ত, ধাপে ধাপে নিজেকে ফিরে পাওয়ার সংগ্রাম, আতলেতিকো মাদ্রিদের মূল দলে জায়গা করে নেওয়া এবং সবশেষে আর্জেন্টিনার জার্সিতে বিশ্বকাপে অভিষেকের স্মরণীয় মুহূর্ত।
তবে ভিডিওটির সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল একটি পুরোনো হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার স্ক্রিনশট। ‘জিলিয়ানো ওয়ার্ক টিম’ নামে একটি গ্রুপে চোট পাওয়ার ঠিক পরদিন তিনি নিজের ঘনিষ্ঠদের উদ্দেশে লিখেছিলেন, ‘তোমরা শুধু শেষ পর্যন্ত আমার পাশে থেকো, আমরা বিশ্বকাপে যাচ্ছি। আমি এখনই এটা লিখে দিতে পারি।’
বিজ্ঞাপন
তখন অনেকের কাছেই কথাটি ছিল অসম্ভব এক স্বপ্নের মতো। কিন্তু কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে সেই ভবিষ্যদ্বাণীকেই বাস্তবে পরিণত করেছেন সিমিওনে। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে জাতীয় দলের কোচ লিওনেল স্কালোনির আস্থা অর্জন করে জায়গা করে নেন বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে। এরপর জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে পূরণ হয় তার বহুদিনের স্বপ্ন।
এদিকে গ্রুপপর্বের তিনটি ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। রাউন্ড অব ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে। সেই ম্যাচেও জিলিয়ানো সিমিওনেকে মাঠে দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।








