Logo

ফ্রান্সকে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেন

profile picture
ক্রীড়া ডেস্ক
১৫ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৬
ফ্রান্সকে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেন
ছবি: সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী ফ্রান্সকে দুর্দান্ত নৈপুণ্যে পরাজিত করে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আধিপত্য বিস্তার করে ২-০ গোলের জয় তুলে নেয় বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। ২০১০ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের পর এবারই প্রথম আবারও ফাইনালের মঞ্চে উঠল লা রোজা।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচের আগে ফ্রান্সকে টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। সেমিফাইনালে ওঠার পথে ছয় ম্যাচে ১৬ গোল করে আক্রমণভাগের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছিল তারা। তবে স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ, দ্রুত বল দখল এবং গোছানো আক্রমণের সামনে পুরো ম্যাচজুড়েই ছন্দহীন দেখা যায় কিলিয়ান এমবাপেদের।

স্পেনের রক্ষণভাগ এদিন ছিল প্রায় অভেদ্য। বিশেষ করে ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে ফ্রান্সের আক্রমণভাগকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দেন। অন্যদিকে গোলবারের নিচে উনাই সিমন একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে নিরাপদ রাখেন। শুধু পোস্টের নিচেই নয়, প্রয়োজন হলে বক্সের বাইরে এসে বল ক্লিয়ার করেও ফ্রান্সের একাধিক আক্রমণ নষ্ট করেন এই গোলরক্ষক।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করে স্পেন। নবম মিনিটে দানি ওলমো ফ্রান্সের বক্সের সামনে ফ্রি-কিক আদায় করেন। যদিও সেই সুযোগ থেকে গোল আসেনি। এরপর ১৪তম মিনিটে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে কিলিয়ান এমবাপে গোলের সুযোগ তৈরি করলেও স্পেনের রক্ষণভাগ তাকে শট নেওয়ার সুযোগই দেয়নি।

বিজ্ঞাপন

প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় স্পেন। লামিন ইয়ামালকে বক্সের ভেতরে ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। সেই স্পট-কিক থেকে মিকেল ওইয়ারসাবাল নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মাইগনান সঠিক দিকে ঝাঁপ দিলেও বল ঠেকাতে পারেননি।

পেনাল্টি আদায় করে আলোচনায় আসেন তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। মাত্র ১৯ বছর ১ দিন বয়সে বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম কনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে সেমিফাইনালে পেনাল্টি আদায়ের কৃতিত্ব গড়েন তিনি। পুরো ম্যাচেই তার গতি ও ড্রিবলিং ফ্রান্সের রক্ষণকে বারবার চাপে ফেলে।

প্রথম গোল হজমের ধাক্কা সামলানোর আগেই আরও বিপাকে পড়ে ফ্রান্স। দলের গুরুত্বপূর্ণ সেন্টার-ব্যাক উইলিয়াম সালিবা চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। ফলে কোচ দিদিয়ের দেশমকে নির্ধারিত পরিকল্পনার আগেই পরিবর্তন আনতে হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রথমার্ধের শেষদিকে ফ্রান্স সমতা ফেরানোর কয়েকটি সুযোগ পেলেও উনাই সিমনের দুর্দান্ত উপস্থিত বুদ্ধি এবং স্পেনের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় তারা সফল হতে পারেনি। এমবাপের দিকে বাড়ানো বল দ্রুত বক্সের বাইরে এসে ক্লিয়ার করে বিপদমুক্ত করেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক। ফলে ১-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় স্পেন।

দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছেই রাখে স্পেন। ৫৮তম মিনিটে দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক থেকে দানি ওলমো, পেড্রো পোরো ও সতীর্থদের দারুণ সমন্বয়ে দ্বিতীয় গোলটি আসে। শেষ পর্যন্ত বল পেয়ে পেড্রো পোরো মাইগনানকে পরাস্ত করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এর মাত্র তিন মিনিট পর লামিন ইয়ামাল আরও একটি গোল করলেও সেটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। রিপ্লেতে দেখা যায়, শেষ ডিফেন্ডারের চেয়ে অল্প ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় গোলটি গণ্য হয়নি।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচের শেষভাগে ফ্রান্স মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালায়। এমবাপে, হার্নান্দেজ ও বারকোলা একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও প্রতিবারই সামনে দাঁড়িয়ে যান উনাই সিমন কিংবা কুকুরেয়া। ৬৮তম মিনিটে এমবাপের শক্তিশালী শট কুকুরেয়া ব্লক করেন। পরে ৮২ ও ৮৩তম মিনিটে পরপর দুটি নিশ্চিত গোলের সুযোগও রুখে দেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক। ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে এমবাপের আরেকটি শট গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। যোগ করা সময়ে কুকুরেয়া নিজের পেনাল্টি বক্সের ভেতর থেকে গুরুত্বপূর্ণ ক্লিয়ারেন্স করে ফ্রান্সের শেষ আশা ভেঙে দেন।

পুরো ম্যাচজুড়ে বল দখল, রক্ষণ, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণে স্পেন ছিল অনেক বেশি পরিণত। ফ্রান্সের তারকাবহুল আক্রমণভাগকে কার্যকরভাবে নিষ্ক্রিয় রেখে তারা প্রমাণ করেছে কেন বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তারা অন্যতম সেরা দল।

এই জয়ের ফলে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল স্পেন। আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত হবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ। সেখানে স্পেনের প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড অথবা আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে, ফ্রান্সের বিশ্বকাপ অভিযান পুরোপুরি শেষ হয়নি। তারা ১৮ জুলাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে দ্বিতীয় সেমিফাইনালের পরাজিত দলের মুখোমুখি হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD