বিদায়ে ফ্রান্সের পারফরম্যান্স নিয়ে কঠোর আত্মসমালোচনায় এমবাপে

ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলের পরাজয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার পর নিজের দল ফ্রান্সের পারফরম্যান্স নিয়ে কঠোর আত্মসমালোচনা করেছেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। তার মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে ফ্রান্স কোনো বিভাগেই নিজেদের সেরাটা দেখাতে পারেনি।
বিজ্ঞাপন
কৌশলগত পরিকল্পনা, টেকনিক্যাল দক্ষতা, প্রেসিং এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ—সব ক্ষেত্রেই স্পেনের তুলনায় পিছিয়ে ছিল তার দল। তাই এমন পারফরম্যান্স নিয়ে ফাইনালে ওঠার আশা করাও কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
এই পরাজয়ের ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যায় ফ্রান্সের। ২০১৮ সালে শিরোপা জয় এবং ২০২২ সালে রানার্সআপ হওয়ার পর এবারও ফাইনালের খুব কাছে পৌঁছে থেমে যেতে হয়েছে লে ব্লুদের।
ম্যাচ শেষে ফরাসি সংবাদমাধ্যম এম৬-কে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় এমবাপে বলেন, দল যেভাবে খেলতে চেয়েছিল, বাস্তবে সেভাবে খেলতে পারেনি। তার ভাষায়, ম্যাচের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ দিকেই স্পেন এগিয়ে ছিল।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ফ্রান্স কৌশলগতভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। একই সঙ্গে টেকনিক্যাল ভুলও ছিল অনেক বেশি। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো বড় মঞ্চে জয় পেতে যে মানের ফুটবল প্রয়োজন, তা তারা খেলতে ব্যর্থ হয়েছেন।
স্পেনের পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেন ফরাসি অধিনায়ক। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ নিজেদের পরিকল্পনায় অটল ছিল এবং পুরো ম্যাচজুড়ে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে খেলার গতি নিজেদের মতো পরিচালনা করেছে। ম্যাচের শুরুতেই স্পেনকে চাপে ফেলার পরিকল্পনা ছিল ফ্রান্সের, যাতে তারা স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে না পারে। কিন্তু সেই পরিকল্পনা মাঠে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
এমবাপের মতে, ম্যাচের অন্যতম বড় সমস্যা ছিল স্পেনকে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিতে দেওয়া। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষকে গতি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেওয়া উচিত হয়নি। সেই পরিস্থিতি বদলে দেওয়ার দায়িত্ব ফ্রান্সের ছিল, কিন্তু দল হিসেবে তারা তা করতে পারেনি।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বিশ্লেষণ করে বলেন, প্রেসিংয়ের সময় মাঝমাঠে বারবার সংখ্যাগত ঘাটতিতে পড়েছে ফ্রান্স। অনেক মুহূর্তে স্পেন তিনজন খেলোয়াড় দিয়ে দুইজন ফরাসি মিডফিল্ডারকে চাপে ফেলেছে। এমন পরিস্থিতিতে বল পুনরুদ্ধার করা এবং আক্রমণ গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ে।
ম্যাচে টেকনিক্যাল ভুলের বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরেন এমবাপে। তার মতে, বল দখলে নেওয়ার পর প্রথম স্পর্শ এবং প্রথম পাসের মান প্রত্যাশিত ছিল না। ফলে আক্রমণ তৈরি করার আগেই অনেক সুযোগ নষ্ট হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্পেনের মাঝমাঠের দুই গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার ফাবিয়ান রুইজ ও রদ্রি ম্যাচজুড়ে অনেক বেশি সময় ও জায়গা পেয়েছেন। তাদের ওপর প্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি ফ্রান্স। প্রেসিংয়ে সমন্বয়ের অভাব থাকায় স্পেন সহজেই বলের দখল ধরে রেখে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ফরাসি অধিনায়ক মনে করেন, এসব ছোট ছোট ভুলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে না পারা এবং মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ হারানো ফ্রান্সের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়েছে।
পরাজয়ের হতাশাও লুকাননি এমবাপে। তিনি বলেন, ফাইনালে ওঠা ছিল পুরো দলের স্বপ্ন। শুধু খেলোয়াড় নয়, সমর্থকদের জন্যও নতুন একটি ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য ছিল তাদের। কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি।
এমবাপে বলেন, এই হারের কষ্ট সবাই অনুভব করছে। ফাইনালে খেলার সুযোগ হারানো নিঃসন্দেহে বড় হতাশার। তবে এখন বাস্তবতা মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই।
বিজ্ঞাপন
স্পেনের বিপক্ষে পরাজয়ের ফলে এবার বিশ্বকাপে ফ্রান্সের যাত্রা সেমিফাইনালেই শেষ হলো। যদিও তাদের সামনে এখনও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ রয়েছে, তবু শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার হতাশা দলটির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে।
অন্যদিকে স্পেন এই জয়ের মাধ্যমে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড অথবা আর্জেন্টিনা। আর ফ্রান্সকে এখন তৃতীয় স্থান অর্জনের লড়াইয়ে নিজেদের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে হবে।








