শুধু গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে নন, নবম ব্যালন ডি’অরের দৌড়েও শীর্ষে মেসি

টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে তুলে লিওনেল মেসি আরও একবার ব্যালন ডি’অর জয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে উঠে এসেছেন। ৩৯ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক এখন শুধু গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েই এগিয়ে নন, বিভিন্ন ক্রীড়া বিশ্লেষক ও বুকমেকারদের মূল্যায়নেও নবম ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে সবার ওপরে অবস্থান করছেন।
বিজ্ঞাপন
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ২-১ গোলের জয়ে মেসি গোল করতে না পারলেও দলের দুই গোলেই অ্যাসিস্ট করেন। এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্টিনেজের গোলে তার অবদান ছিল সরাসরি। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তার গোল ৮টি এবং অ্যাসিস্ট ৪টি। সমান ৮ গোল করলেও অ্যাসিস্টে এগিয়ে থাকায় গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে কিলিয়ান এমবাপেকে ছাড়িয়ে আছেন তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিভিন্ন স্পোর্টসবুক ও প্রেডিকশন মার্কেটেও গোল্ডেন বুট জয়ের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা দেখানো হচ্ছে মেসির। পূর্বাভাসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কালশির তথ্য অনুযায়ী, এই পুরস্কার জয়ের ক্ষেত্রে তার সম্ভাবনা প্রায় ৫৯ শতাংশ। এমবাপের গোল সমান হলেও অ্যাসিস্ট একটি কম থাকায় টাইব্রেকারে এগিয়ে আছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
বিজ্ঞাপন
তবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এমবাপের সামনে মেসিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। যদিও সেমিফাইনালে বিদায়ের পর ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিতে পারেন বলে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইনের গোল ৬টি ও অ্যাসিস্ট ১টি হলেও গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি অনেকটাই পিছিয়ে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ব্যালন ডি’অরের সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে কিলিয়ান এমবাপে, হ্যারি কেইন এবং বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালের নাম বেশি আলোচনায় ছিল। কিন্তু বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত অগ্রযাত্রা এবং মেসির ধারাবাহিক পারফরম্যান্স পুরো হিসাব পাল্টে দিয়েছে।
বর্তমানে বিভিন্ন বুকমেকারের হিসাবে ব্যালন ডি’অর জয়ের ক্ষেত্রে মেসির অডস সবচেয়ে অনুকূলে, যা তাকে পরিষ্কারভাবে শীর্ষ দাবিদার বানিয়েছে। অন্যদিকে স্পেনকে ফাইনালে তুললেও ইয়ামালের অডস দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে অবশ্য মেসির সঙ্গে ইয়ামালের ব্যবধান অনেক। স্প্যানিশ এই তরুণ উইঙ্গার পুরো টুর্নামেন্টে করেছেন মাত্র ১ গোল, অ্যাসিস্ট নেই। বিপরীতে মেসি সরাসরি অবদান রেখেছেন ১২টি গোলে। তবে ফাইনালে স্পেন শিরোপা জিতলে এবং ইয়ামাল উজ্জ্বল পারফরম্যান্স দেখাতে পারলে তার সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
নকআউট পর্বে একের পর এক ম্যাচে নির্ধারক ভূমিকা রেখে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের ফাইনালে তোলায় মেসির অবস্থান এখন অনেকটাই শক্ত। অন্যদিকে সেমিফাইনালেই বিদায় নেওয়ায় এমবাপে ও কেইনের ব্যালন ডি’অর সম্ভাবনা কমে গেছে। বর্তমানে কেইনের অডস +৬৫০ এবং এমবাপের +১২০০।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে প্রথমবার ব্যালন ডি’অর জেতা মেসি সর্বশেষ এই পুরস্কার জিতেছিলেন ২০২৩ সালে। এবার নবমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জিততে পারলে তিনি নিজের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করবেন এবং পাঁচবারের বিজয়ী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে ব্যবধান আরও বাড়াবেন। এদিকে চলতি বিশ্বকাপে পর্তুগাল ও রোনালদো—দুজনেরই পারফরম্যান্স প্রত্যাশার তুলনায় ছিল ম্লান।








