Logo

পেনাল্টি মিসের ক্ষত এখনও শুকায়নি ব্রুনো গুইমারেসের

profile picture
ক্রীড়া ডেস্ক
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৫:৩৫
পেনাল্টি মিসের ক্ষত এখনও শুকায়নি ব্রুনো গুইমারেসের
ছবি: সংগৃহীত

সর্বশেষ বিশ্বকাপে নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে পেনাল্টি মিস করেছিলেন ব্রাজিলের মিডফিল্ডার ব্রুনো গুইমারেস। সেই ঘটনার স্মৃতি এখনও তাকে কষ্ট দেয় বলে জানিয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এই তারকা।

বিজ্ঞাপন

অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে অনুশীলনের সময় বিশ্বকাপের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন গুইমারেস। ফিফার সেপ্টেম্বর-অক্টোবর উইন্ডোতে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি এবং ভারতের বিপক্ষে একটি ম্যাচ রয়েছে।

বিশ্বকাপে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের ১৩ মিনিটে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। ম্যাথিউস কুনহা বক্সের মধ্যে ফাউলের শিকার হলে স্পট কিক নেওয়ার দায়িত্ব পান গুইমারেস। তবে তার নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরহান নিলান্ড।

পেনাল্টি মিসের অনুভূতি নিয়ে গুইমারেস বলেন, ‘এটা সত্যিই খুব খারাপ অনুভূতি। অবশ্যই পেনাল্টি মিস করা ফুটবলেরই অংশ। কিন্তু এমন কিছু ঘটার জন্য আপনি কখনোই পুরোপুরি প্রস্তুত থাকেন না। এটা অবশ্যই একটি ক্ষত, একটি দাগ। ঘটনাটি খুব সাম্প্রতিক, এখনও আমাকে কষ্ট দেয়, এখনও অনেক ব্যথা অনুভব করি। কিন্তু এটা ফুটবলেরই অংশ। আশা করি নিজের ভুল থেকে শিখতে পারব– এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপের ওই ম্যাচে পেনাল্টি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। কারণ মাঠে ছিলেন ব্রাজিলের অন্যতম প্রধান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এ বিষয়ে গুইমারেস জানান, ম্যাচের আগে কোচই পেনাল্টি নেওয়ার খেলোয়াড় ঠিক করে দেন।

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ম্যাচের আগে আমাদের প্রি-ম্যাচ আলোচনা হয় এবং কোচ সিদ্ধান্ত নেন কে পেনাল্টি নেবে। আমাকে পেনাল্টি নেওয়ার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল। ঠিক তখন কিছু খেলোয়াড় বলটি নিতে চেয়েছিল। একজন খেলোয়াড় বল নেয়, পরে আরেকজনকে দেয়, এমনকি গোলরক্ষককে বিভ্রান্ত করার চেষ্টাও করা হয়। সেদিনও সেটাই হয়েছিল, এতে অস্বাভাবিক কিছু ছিল না। ভিনি নির্ধারিত পেনাল্টি টেকার ছিল না। পেনাল্টিটি আমারই নেওয়ার কথা ছিল।’

ওই ঘটনার পর ভিনিসিয়ুসকে বিতর্কের মধ্যে টেনে আনার জন্যও দুঃখ প্রকাশ করেন গুইমারেস। তিনি বলেন, ‘ভিনিকে দেওয়া পেনাল্টির বিষয়টি নিয়ে আমি দুঃখিত। কিন্তু ওই মুহূর্তে যে পেনাল্টি দেওয়া হয়েছিল, সেটি আমার জন্যই ছিল। আপনাদের জন্য এটাই আমার উত্তর। যা ঘটেছে তা নিয়ে আমি দুঃখিত; শুধু ভিনির জন্য নয় অন্য খেলোয়াড়দের জন্যও, আমাদের সমর্থকদের জন্যও, যারা আমাদের জন্য গলা ফাটাচ্ছিলেন সবার জন্য।’

বিজ্ঞাপন

তবে ভবিষ্যতে আবার পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্ব পেলে পিছিয়ে যাবেন না বলেও স্পষ্ট করেছেন গুইমারেস। তার ভাষায়, ‘যদি আমাকে আবারও একটি পেনাল্টি দেওয়া হয় এবং সেটি নেওয়ার দায়িত্ব আমার ওপর থাকে, আমি পিছিয়ে যাব না। প্রয়োজন হলে হাজারবার আমি পেনাল্টি নেব। কারণ এই জার্সির প্রতিনিধিত্ব করা আমার কাছে সবকিছু। এটি সব সময় আমার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল।’

বিশ্বকাপের সেই বেদনাদায়ক স্মৃতি থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চান ব্রাজিলের এই মিডফিল্ডার। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই এটি আনন্দদায়ক কোনো মুহূর্ত ছিল না। যেমনটা বলেছি, আমি অনেক কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার এবং বিষয়টি নিয়ে ভাবার সময়। অতীত পরিবর্তন করা যায় না, কিন্তু ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করা যায়।’

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD