এশিয়ান গেমসে ভরাডুবির পরও অনুতপ্ত নন লিটন দাস

এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ার পরও অধিনায়কত্ব ছাড়ার কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস। নিজের ব্যাটিং পারফরম্যান্সকে প্রত্যাশার তুলনায় কম স্বীকার করলেও দলীয় ব্যর্থতার জন্য অনুতপ্ত হওয়ার কথা বলেননি তিনি।
বিজ্ঞাপন
এশিয়ান গেমসে এবার পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়ে পূর্ণশক্তির দল পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হেরে শেষ পর্যন্ত কোনো পদক ছাড়াই দেশে ফিরতে হচ্ছে দলকে। এর মধ্যে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার তুলনামূলক দুর্বল দলের বিপক্ষে মাত্র ১০২ রানে অলআউট হয়ে ৬৩ রানে হারে বাংলাদেশ।
দলের এমন পারফরম্যান্স নিয়ে লিটন বলেন, ‘কোনোভাবেই আমরা এটা কাভার-আপ করতে পারিনি। আমাদের ব্যাটিং ওয়াইজ আমরা আজ আপ টু দ্যা মার্ক ছিলাম না। এখানে এসেছি, টার্গেট ছিল অনেক বড়। তো সেটা যখন হয়নি, তারপর আরেকটা অপশন ছিল। সুযোগ আমরা মিস করেছি। ভালো ক্রিকেট খেলতে পারিনি, দ্যাটস হোয়াই সুযোগটা মিস হয়েছে।’
এশিয়ান গেমসে ব্যাট হাতে নিজেও ব্যর্থ হয়েছেন লিটন। দুই ম্যাচে তার সংগ্রহ মাত্র ২ রান। নিজের পারফরম্যান্স সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার পারফরম্যান্স নট আপ টু দ্যা মার্ক। আমি দুইটা ম্যাচেই ভালো পারফরম্যান্স করতে পারিনি।’
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশের ক্রিকেটে অধিনায়কের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এশিয়ান গেমসে লিটনের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার তুলনামূলক দুর্বল দল পাঠানোর পরও বাংলাদেশ পরাজিত হওয়ায় তার অধিনায়কত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
এমন পরিস্থিতিতে অধিনায়কত্ব থেকে পদত্যাগ করবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে লিটন বলেন, ‘না, রিজাইন করতে চাই না। তবে হ্যাঁ, ক্রিকেটে আপস অ্যান্ড ডাউনস থাকে। একদিন ভালো হবে, একদিন খারাপ হবে। এখানে রিজাইনের তো কিছু না।’
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের অন্যতম বড় প্রত্যাশা ছিল ক্রিকেটকে ঘিরে। ২০১০ সালে প্রথমবার ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ সেই আসরে স্বর্ণপদক জিতেছিল। ২০১৪ সালের ইনচন এশিয়ান গেমসে বৃষ্টির কারণে টসের ভিত্তিতে রৌপ্যপদক পেয়েছিল বাংলাদেশ। ২০১৮ সালে জাকার্তা এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট ছিল না। ২০২৩ সালে চীনের হাংজু আসরে বাংলাদেশ জিতেছিল ব্রোঞ্জ। এবার অবশ্য কোনো পদকই পায়নি দল।
বিজ্ঞাপন
দেশের অন্যান্য ক্রীড়া ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়দের সীমিত সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি তুলে ধরে লিটনের কাছে দলের এমন পারফরম্যান্সের পর অনুতাপ বা অনুশোচনা হয় কি না জানতে চাওয়া হয়।
জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা স্বাভাবিক বিষয়। আমরা দেশ থেকে যখন এসেছি, একটা বড় টার্গেট নিয়ে এসেছি। যখন দিতে পারিনি, অ্যাজ এ টিম হিসেবে, অ্যাজ এ ক্যাপ্টেন হিসেবে সবারই খারাপ লাগবে এবং খারাপ লাগাটাই স্বাভাবিক। বাট অ্যাজ এ বাংলাদেশ টিম অনেক কিছুই দিয়েছে অতীতে। আমার মনে হয় ভবিষ্যতেও দেবে। আমরা ওইটার জন্যই চেষ্টা করব আবার।’








