কুৎসিত হারের জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইলেন সালাহউদ্দিন

এশিয়ান গেমসে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় সারির দলের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর দেশবাসীর কাছে লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী হওয়ার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। তার মতে, দল হিসেবে প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ।
বিজ্ঞাপন
বৃষ্টির কারণে চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়েছিল। টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকায় সরাসরি সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। তবে শেষ চারে পাকিস্তানের কাছে হারের পর শনিবার ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারে লিটন দাসের দল।
শ্রীলঙ্কার তুলনামূলক দুর্বল স্কোয়াডের বিপক্ষে মাত্র ১০২ রানে অলআউট হয়ে ৬৩ রানে ম্যাচ হারে বাংলাদেশ। ফলে এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো কোনো পদক ছাড়াই দেশে ফিরতে হচ্ছে দলকে।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, “সত্যিকার অর্থে আমরা দেশবাসীর কাছে লজ্জিত। কোচ হিসেবেও মনে করি আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের কাছে দেশবাসীর যে প্রত্যাশা ছিল সেটা পূরণ করতে পারিনি। খুবই হতাশাজনক এবং পুরো দেশবাসীর কাছে আমরা লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।”
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশের ব্যর্থতার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কোচ জানান, বোলিংয়ে কয়েকটি ওভারে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ঠিক হয়নি। পাশাপাশি ব্যাটিংয়ের শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারানোও দলের বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ।
তার ভাষায়, “এই উইকেটে বোলাররা কয়েক ওভার খুব বাজে বল করেছে। যারা টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট তারাই বেশি রান দিয়েছে। ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লে-তে বেশি উইকেট হারিয়েছি।”
মুস্তাফিজুর রহমানের পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজের প্রথম ওভারেই ২৫ রান দেন এই বাঁহাতি পেসার। তাকে নিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, “আসলে মুস্তাফিজ অনেকদিন ধরে ইনজুরিতে ছিল এবং সে আমাদের গত ১০ বছরে সেরা খেলোয়াড়দের একজন। খেলার মধ্যে নতুন কোনো ইন্সট্রাকশন পাঠানো হয় না। বিশেষ করে সে ডেড ওভার স্পেশালিস্ট। ফলে তার ওপর আমাদের ভরসা রাখতেই হবে।”
বিজ্ঞাপন
অধিনায়ক লিটন দাসের পারফরম্যান্সও ছিল হতাশাজনক। দুই ম্যাচে তার ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ২ রান। অধিনায়কের পারফরম্যান্স প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, “আমি সব সময় বলব তারা দেশের জন্য লড়ে। তারা ফেইল করছে, সেটা নিয়ে আমরা অবশ্যই লজ্জিত। টু বি অনেস্ট আমরা টোটাল টিম হিসেবে ভালো পারফর্ম করিনি।”
এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটাররা অন্য অনেক ডিসিপ্লিনের তুলনায় বেশি সুযোগ-সুবিধা পেয়েও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি—এমন প্রশ্নের জবাবে নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করেন কোচ। তিনি বলেন, “আমরা সবাই হতাশ। আমরা এখানে লক্ষ্য নিয়ে এসেছিলাম কিন্তু ফেইল করেছি, ভালো খেলতে পারিনি।”
দুই ম্যাচে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ইতিবাচক মানসিকতা ও মাঠের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে সালাহউদ্দিন মনে করেন, খেলোয়াড়রা নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তার বক্তব্য, “প্লেয়াররা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, কিন্তু আমার মনে হয় আমরা গেমপ্ল্যান ঠিকমতো বাস্তবায়ন করতে পারিনি। ব্যাটিংয়ে দ্রুত উইকেট পড়ে যাওয়ায় ম্যাচটি বের করা সম্ভব হয়নি।”








