রোনালদো ও রুনিই ছিলেন ইউরোপের সেরা, কিংবদন্তি কোচ স্যার ফার্গুসন

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের চোখে ইউরোপের সেরা দুই ফুটবলার ছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও ওয়েইন রুনি। ইংলিশ ক্লাবটিতে একসঙ্গে খেলার সময় তাঁদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে নিয়মিত চাপে ফেলত। এই দুই তারকার সমন্বয়েই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাফল্যের অন্যতম সোনালি অধ্যায় রচিত হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক এই কোচ রোনালদো ও রুনির প্রশংসা করেন। ফার্গুসন বলেন, ‘সেই সময়ে আমার মনে হয়, ওরা দুজনই ছিল ইউরোপের সেরা। সত্যিই তাই মনে করি। আমাদের জন্য সময়টা ছিল অসাধারণ। এরপর আমরা ২০০৮ সালে মস্কোয় ইউরোপিয়ান কাপ জিতেছিলাম।’
২০০৬-০৭ থেকে ২০০৮-০৯ মৌসুম পর্যন্ত টানা তিনবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জেতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ক্লাবটির এই ধারাবাহিক সাফল্যে বড় অবদান ছিল রোনালদো ও রুনির। ওই তিন মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে দুজন মিলে ১০৪টি গোল করেন। তাঁদের গতি, দক্ষতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া ইউনাইটেডের আক্রমণভাগকে করে তুলেছিল আরও ভয়ংকর।
শুরুর দিকে রোনালদোর মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগলেও ২০০৬-০৭ মৌসুমে এসে দুজনের রসায়ন দারুণভাবে জমে ওঠে। মাঠে তাঁদের বোঝাপড়ার স্মরণীয় উদাহরণ হয়ে আছে ২০০৭ সালের মার্চে বোল্টনের বিপক্ষে ম্যাচটি।
বিজ্ঞাপন
সেই ম্যাচে নিজেদের রক্ষণভাগ থেকে বল নিয়ে ১০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠান রোনালদো ও রুনি। একের পর এক নিখুঁত পাসে তাঁরা প্রতিপক্ষের সীমানায় পৌঁছে যান। শেষ মুহূর্তে গোলরক্ষক জুসি ইয়াসকেলাইনেনের ওপর দিয়ে রোনালদোর বল জালে পাঠানোর দৃশ্যটি বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সেই আক্রমণের কথা স্মরণ করে ফার্গুসন বলেন, ‘লিভারপুলের ছোটখাটো গড়নের এক ছেলে আর পর্তুগালের ছয় ফুট দুই ইঞ্চি উচ্চতার তরুণ এক ফুটবলার যেভাবে একসঙ্গে খেলেছিল, তা ছিল অসাধারণ।’
গোলটির পেছনের পাস আদান-প্রদানের বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বলটা কোনোমতে ক্লিয়ার করেছিলাম, সেটি রোনালদোর কাছে যায়। সে বল দেয় ওয়েইনকে, ওয়েইন আবার ফিরিয়ে দেয়। এরপর রোনালদো আবার পাস দেয়। এভাবেই তারা পাস দিতে দিতে মাঠের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে এগিয়ে যাচ্ছিল।’
বিজ্ঞাপন
ফার্গুসনের ভাষায়, ‘তারা অসাধারণ একটি গোল করেছিল। গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে রোনালদোর বল তুলে দেওয়ার দৃশ্য ছিল অবিশ্বাস্য!’
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে একসঙ্গে থাকার সময় রোনালদো ও রুনি তিনটি প্রিমিয়ার লিগ, একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ, দুটি লিগ কাপ এবং একটি ক্লাব বিশ্বকাপ জেতেন। দলীয় সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্জনেও উজ্জ্বল ছিলেন রোনালদো।
২০০৮ সালে ব্যালন ডি’অর, ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু, ফিফার বর্ষসেরা পুরুষ খেলোয়াড় এবং উয়েফার বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন পর্তুগিজ এই মহাতারকা। পরের বছর রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
তবে ওল্ড ট্রাফোর্ডে রোনালদো ও রুনির সম্মিলিত নৈপুণ্য আজও ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। ফার্গুসনের সাম্প্রতিক প্রশংসা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, কেন তাঁদের জুটিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ইতিহাসের অন্যতম সেরা আক্রমণাত্মক জুটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।








