আফগানিস্তানকে গুঁড়িয়ে বড় লিড, জয়ের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে আবুধাবি টেস্টে জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। তবে দুজনই সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছে সাজঘরে ফেরার পর শেষ বিকেলে হঠাৎ ছন্দপতন ঘটে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে। মাত্র ১১ রানের ব্যবধানে হারায় ৩ উইকেট। এরপরও তৃতীয় দিন শেষে বড় লিড নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছে টাইগাররা।
বিজ্ঞাপন
তৃতীয় দিনের খেলা শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২২৩ রান। প্রথম ইনিংসের লিডসহ বাংলাদেশের মোট ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৩২৯ রান। লিটন দাস ৫ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন। অন্য প্রান্তে মেহেদী হাসান মিরাজ এখনো রানের খাতা খুলতে পারেননি।
শান্ত-মুশফিকের ১৫৯ রানের জুটি
বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। দুজনের ১৫৯ রানের জুটি দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়। তবে সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে দুজনকেই ফিরতে হয়েছে সাজঘরে। শান্ত ৮২ এবং মুশফিক ৮১ রান করে আউট হন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
চা বিরতির আগেই ৭৩ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন মুশফিক। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার ৩০তম হাফ সেঞ্চুরি। অন্যদিকে ১৩৫ বল খেলে পঞ্চাশের ঘরে পৌঁছান শান্ত। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার অষ্টম অর্ধশতক।
মুশফিক ২১২ রানে আউট হওয়ার পরই বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ধস নামে। ৩ উইকেটে ২১২ রান থেকে দ্রুত ৬ উইকেটে ২২৩ রানে পরিণত হয় দলের সংগ্রহ। মাত্র ১১ রানের মধ্যে তিনটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামা হাসান মাহমুদও জিয়া-উর রেহমানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান।
শুরুতেই বিপাকে বাংলাদেশের ব্যাটাররা
বিজ্ঞাপন
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই প্রত্যাশিত ছন্দে ছিলেন না বাংলাদেশের ব্যাটাররা। সাদমান ইসলাম ১৩ এবং মুমিনুল হক ৭ রান করে আউট হন। বড় শট খেলতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দেন সাদমান। লাঞ্চের ঠিক আগের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মুমিনুল।
লাঞ্চের পর তানজিদ হাসান তামিমও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ৩১ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। তবে এরপর শান্ত ও মুশফিকের জুটি বাংলাদেশের ইনিংসকে শক্ত ভিত এনে দেয়।
হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিকে ২৪০ রানে অলআউট আফগানিস্তান
বিজ্ঞাপন
এর আগে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ৩৪৬ রানের জবাবে ২৪০ রানেই গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান। ফলে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পায় বাংলাদেশ।
আফগানিস্তানের ইনিংসে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান পেসার হাসান মাহমুদ। তিনি ৫৫ রান দিয়ে শিকার করেন ৫ উইকেট। পাশাপাশি হ্যাটট্রিক করে ম্যাচে বিশেষ কীর্তি গড়েন এই পেসার। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার চতুর্থ পাঁচ উইকেট শিকার।
আরেক পেসার এবাদত হোসেন ৫৬ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। একটি উইকেট পান মেহেদী হাসান মিরাজ।
বিজ্ঞাপন
এক ওভারের ব্যবধানে চার উইকেট হারায় আফগানিস্তান
তৃতীয় দিনের সকালে বাংলাদেশের বোলারদের তোপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে আফগানিস্তান। দিনের তৃতীয় ওভারে ইকরাম আলি খিলকে ৩২ রানে বোল্ড করে আঘাত হানেন এবাদত হোসেন।
এরপর নিজের পরের ওভারে টানা দুই বলে দুই উইকেট তুলে নেন হাসান মাহমুদ। প্রথমে ইসমত আলমকে ১ রানে বোল্ড করেন তিনি। পরের বলে কায়েস আহমেদকে শূন্য রানে লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি হলে জিয়াউর রহমানের বিপক্ষে এলবিডব্লিউর আবেদন করেন বাংলাদেশের বোলাররা। আম্পায়ার সাড়া না দেওয়ায় রিভিউ নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল ব্যাটে লাগেনি এবং প্যাডে আঘাত করার পর অফস্টাম্পে আঘাত হানত। সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের পক্ষে গেলে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন হাসান মাহমুদ।
পরে ইয়ামিন আহমেদজাইকে উইকেটরক্ষকের ক্যাচ বানিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি।
রহমত শাহর সেঞ্চুরিও বাঁচাতে পারেনি আফগানিস্তানকে
বিজ্ঞাপন
আফগানিস্তানের হয়ে একাই লড়াই করেন রহমত শাহ। ২১৬ বল মোকাবিলা করে ১০টি চার ও ২টি ছক্কায় ১০৫ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তবে তার সেঞ্চুরির পরও দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারেনি আফগানিস্তান।
প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৩২৯ রানের মোট ব্যবধান নিয়ে তৃতীয় দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। শেষ বিকেলের দ্রুত তিন উইকেট হারানো কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করলেও ম্যাচে এগিয়ে রয়েছে টাইগাররাই।








