নেতৃত্ব হারানোর পর সেঞ্চুরি করলেন সালমান আগা

নেতৃত্ব হারানো ও জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার ধাক্কা সামলে ব্যাট হাতেই জবাব দিলেন পাকিস্তানের ক্রিকেটার সালমান আগা। দীর্ঘ বিরতির পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে দুর্দান্ত শতক হাঁকিয়ে দলকে জয় এনে দিয়েছেন ৩২ বছর বয়সী এই ব্যাটার। তাঁর ৯০ বলে ১০৭ রানের ইনিংসে ভর করে শ্রীলঙ্কাকে ৩৭ রানে হারিয়ে দেশের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের শুভসূচনা করেছে পাকিস্তান।
বিজ্ঞাপন
ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে আয়োজিত এই সিরিজে সালমানের এমন প্রত্যাবর্তন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের হয়ে তাঁর পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এর মধ্যে টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট দল থেকে বাদ পড়ার পাশাপাশি ছোট সংস্করণে নেতৃত্বও হারান তিনি।
তবে কঠিন সময়েও হাল ছাড়েননি সালমান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের জায়গা ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে ঘরোয়া ক্রিকেটে মনোযোগ দেন। সেখানকার ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই তাঁকে আবারও জাতীয় দলে নিজের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ করে দেয়।
পাকিস্তানের ঘরোয়া প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড-১ প্রতিযোগিতায় কিংসমেনের হয়ে খেলেন সালমান আগা। সেখানে একটি ট্রিপল সেঞ্চুরি করার পর একই পর্যায়ের ক্রিকেটে আরও একটি শতক হাঁকান তিনি। তাঁর এই ধারাবাহিক সাফল্য নির্বাচকদের নজরে আসে এবং ওয়ানডে দলে জায়গা ধরে রাখেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
সুযোগ পেয়েই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠেন সালমান। ৯০ বলে ১০৭ রানের ইনিংস খেলে প্রমাণ করেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে কঠোর পরিশ্রম করে পাওয়া ছন্দ আন্তর্জাতিক মঞ্চেও কাজে লাগানো সম্ভব। ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে তাঁর হাতে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
নিজের সাফল্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটের গুরুত্ব তুলে ধরেন সালমান। তাঁর মতে, এই পর্যায়ের ক্রিকেটে ভালো পারফরম্যান্স করাকে অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। অথচ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতির জন্য ঘরোয়া প্রতিযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ম্যাচসেরার পুরস্কার গ্রহণের পর সালমান বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটকে যথেষ্ট সম্মান দিই না। লোকজন ভাবে সেখানে কন্ডিশন খুব সহজ এবং রান করা ডালভাত, এটা সত্যি নয়, নয়তো সবাই সেখানে গিয়ে রান করত। আমার মতো একজন খেলোয়াড় যখন রান পায়, সোশ্যাল মিডিয়া, সাবেক ক্রিকেটাররা কিংবা গণমাধ্যমে একে নগণ্য হিসেবে দেখা হয় এবং তারা বলে, ‘আহ, সে তো ঘরোয়াতে (ক্রিকেট) রান করেছে।’
বিজ্ঞাপন
ঘরোয়া ক্রিকেটে রান করা যে সহজ কাজ নয়, তা বোঝাতে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন পাকিস্তানি এই ব্যাটার। তিনি বলেন, ‘আমি বলতে পারি, ঘরোয়া ক্রিকেটে রান করা সহজ নয়। সেখানে খেলুন, ভালো খেলুন এবং রানের জন্য লড়াই করুন। নয়তো, রান সহজে আসবে না। এটা দুর্ভাগ্যজনক যখন লোকেরা ঘরোয়া ক্রিকেটকে ছোট করে দেখে। কারণ যে খেলোয়াড়রা সেই ব্যবস্থা থেকে উঠে আসে—আমার মতো, যে ১০ বছর ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার পর চার থেকে সাড়ে চার বছর আন্তর্জাতিক পারফরম্যান্স করেছে কিংবা সৌদ (শাকিল), যে ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে এসেছে এবং আজ ভালো খেলছে- এর স্বীকৃতি প্রাপ্য। আরও অনেকেই আছে।’
ফর্ম ফিরে পাওয়ার জন্য ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরার সিদ্ধান্ত যে কাজে দিয়েছে, তা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন সালমান। তাঁর মতে, সেখানে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাওয়ায় নিজের ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা সংশোধনের সুযোগ হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটাই সময়, আমরা সবাই ঘরোয়া ক্রিকেটকে সম্মান করি। ঘরোয়া ক্রিকেটে রান করা সহজ বলার চেয়ে যখন একজন ফর্মে না থাকা আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় সেখানে পারফর্ম করবে, তখন আমাদের উচিত সেটাকে স্বীকৃতি দেওয়া। আমাকে দেখুন, পাঁচটি ঘরোয়া ম্যাচ খেলার পর আমি ফিরে এসেছি। আমার ব্যাটিং কৌশল ঠিক ছিল না, কিন্তু আমি সেখানে খেলেছি, পারফর্ম করেছি এবং অগ্রগতিও হয়েছে দেখার মতো। আজ আল্লাহর রহমতে সেই সাফল্য এখানে রূপান্তরিত হয়েছে। এখন ঘরোয়া ক্রিকেটকে তার প্রাপ্য সম্মান দেওয়ার সময়।’
বিজ্ঞাপন
সালমান আগার এই প্রত্যাবর্তন পাকিস্তান ক্রিকেটে ঘরোয়া প্রতিযোগিতার গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে। দল থেকে বাদ পড়া কিংবা নেতৃত্ব হারানোর পরও যে ধারাবাহিক অনুশীলন, ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস একজন ক্রিকেটারকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করতে পারে, তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তারই উদাহরণ।








