Logo

বিবাহবিচ্ছেদের ধাক্কায় মদ্যপানে আসক্তি, ২৬ দিন রিহ্যাবে চাহাল

profile picture
ক্রীড়া ডেস্ক
১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১৬:২৭
বিবাহবিচ্ছেদের ধাক্কায় মদ্যপানে আসক্তি, ২৬ দিন রিহ্যাবে চাহাল
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের তারকা লেগ স্পিনার যুজবেন্দ্র চাহালের ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়ের কথা সামনে এসেছে। বিবাহবিচ্ছেদের পর বেড়ে গিয়েছিল তাঁর মদ্যপানের অভ্যাস। মানসিকভাবেও ভালো অবস্থায় ছিলেন না তিনি, দেখা দিয়েছিল প্যানিক অ্যাটাক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি হন এই ক্রিকেটার। সেখানে কাটান টানা ২৬ দিন।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি ভারতের সাবেক ওপেনার আকাশ চোপড়ার একটি পডকাস্টে নিজের জীবনের সেই কঠিন অধ্যায় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন চাহাল। কীভাবে মদ্যপানের অভ্যাস নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল এবং সেখান থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা-ও তুলে ধরেন তিনি।

ক্রিকেট মাঠে চাহালের সাফল্য ঈর্ষণীয়। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) ১৮৮ ম্যাচে ২৩৩ উইকেট নিয়ে প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি তিনি। ভারতের হয়ে ৭২টি ওয়ানডেতে ১২১টি এবং ৮০টি টি-টোয়েন্টিতে ৯৬টি উইকেট নিয়েছেন এই স্পিনার। তবে এখনো টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয়নি তাঁর।

পডকাস্টে চাহাল জানান, কঠিন সময়টিতে তাঁর সবচেয়ে কাছের বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা পাশে ছিলেন। মদ্যপান ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘গত বছর কাউন্টি ক্রিকেট খেলার পর। বিষয়টা সব সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তাই আমি একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি হই এবং সেখানে ২৬ দিন থাকি।’

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পুনর্বাসন কেন্দ্রে থাকার সিদ্ধান্ত তাঁর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে বলেও জানান চাহাল। তাঁর ভাষ্য, এখন কঠিন পরিস্থিতি সামলানোর বিষয়ে আগের চেয়ে বেশি সচেতন তিনি। মানসিক পরিপক্বতা বেড়েছে এবং আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণও এসেছে।

নিজের শারীরিক সক্ষমতার উন্নতির কথাও তুলে ধরেন এই ক্রিকেটার। চাহাল বলেন, গত আইপিএলে তাঁর শরীরকে আবার ৩০ বছর বয়সের মতো মনে হচ্ছিল। নিয়মিত জিম, ফিল্ডিং অনুশীলন ও প্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে পেরেছেন তিনি।

কীভাবে মদ্যপানের অভ্যাস তৈরি হয়েছিল, সে প্রসঙ্গে চাহাল জানান, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তরুণ বয়সে বন্ধুদের সঙ্গে পার্টি করতেন। ২০১১ সালে প্রথমবার আইপিএলে খেলেন তিনি। ওই সময় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সাবেক সতীর্থ এবি ডি ভিলিয়ার্সের কাছ থেকে জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখার গুরুত্ব সম্পর্কেও পরামর্শ পেয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

চাহাল বলেন, ‘শুরুতে আমি তরুণ ছিলাম। পার্টি হতো। ২০১১ সালে প্রথম আইপিএল খেলি। একবার এবি ডি ভিলিয়ার্স আমাকে বলেছিল, “জীবনে ভারসাম্যই মূল বিষয়।” কথাটা শুনতে সহজ, কিন্তু বাস্তবে তা নয়।’

বিবাহবিচ্ছেদের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে জানান চাহাল। তখন তাঁর মানসিক অবস্থাও ভালো ছিল না। একপর্যায়ে উপলব্ধি করেন, এভাবে চলতে থাকলে ক্রিকেটের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। যে খেলাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন, সেটিই হারানোর আশঙ্কা তাঁকে অভ্যাস পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

নিজের সেই উপলব্ধির কথা জানিয়ে চাহাল বলেন, ‘বিবাহবিচ্ছেদের পর বিষয়টা অতিরিক্ত পর্যায়ে চলে যায়। আমার মানসিক অবস্থাও খুব একটা ভালো ছিল না। বুঝতে পারি, এভাবে চলতে থাকলে যে জিনিসটাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি (ক্রিকেট) সেটাই নষ্ট করে ফেলব। তাই থামার সিদ্ধান্ত নিই। এখন আমি অনেক বেশি সুখী এবং ভালো অবস্থায় আছি।’

বিজ্ঞাপন

চাহালের এই অভিজ্ঞতা তাঁর ক্রিকেটীয় সাফল্যের আড়ালে থাকা ব্যক্তিগত সংগ্রামের দিকটিও সামনে এনেছে। কঠিন সময় মোকাবিলা করে নিজের অভ্যাস পরিবর্তন এবং খেলায় মনোযোগ ফেরানোর সিদ্ধান্তকে তিনি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD