Logo

ক্ষমা চাইলেন ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

profile picture
ক্রীড়া ডেস্ক
১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪:১৭
ক্ষমা চাইলেন ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
ছবি: সংগৃহীত

ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ক্ষমা চাইলেও বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির বিতর্ক এবং মাঠের ঘটনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিয়ে সমালোচকদের অসন্তোষ কাটেনি। বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে নিজের ‘ভুলের’ দায় স্বীকার করেন তিনি। তবে বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দেওয়ায় ইউরোপীয় ফুটবল কর্মকর্তাদের মধ্যে তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জুরিখে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠকে ফিফা কাউন্সিলের সদস্যরা ইনফান্তিনোর কাছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যাখ্যা চান। এর একটি ছিল ৪২০ কোটি ডলারের বিশ্বকাপ বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা, যা গত জুলাইয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে বাতিল করা হয়। অন্যটি ছিল বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের ঘটনা ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের বিষয়টি।

বৈঠক শেষে ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা জানান, তাদের প্রশ্নের যথাযথ জবাব পাওয়া যায়নি। জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান ও ফিফা কাউন্সিলের সদস্য বের্ন্ড নয়েনডর্ফ বলেন, ‘কোনো সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি।’

ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান এবং ফিফার সহসভাপতি ডেবি হিউইটও এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তার মতে, উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া ফিফা সভাপতির দায়িত্ব। হিউইট বলেন, ‘তিনি যদি এসব প্রশ্নের উত্তর না দেন, তাহলে ফিফার সভাপতি হওয়ার যোগ্য নন।’ তবে ইনফান্তিনো ক্ষমা চাওয়ার সময় কিছুটা অনুশোচনা দেখিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এমন পরিস্থিতিতে আগামী ১৮ মার্চ মরক্কোর রাজধানী রাবাতে অনুষ্ঠেয় ফিফা সভাপতি নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। আগামী ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ইনফান্তিনোর বিরোধীরা ইতোমধ্যে তার বিপরীতে বিকল্প প্রার্থী খুঁজতে তৎপর হয়েছেন।

তবে আফ্রিকার ফুটবল প্রশাসকদের সমর্থন ইনফান্তিনোর জন্য বড় শক্তি হিসেবে রয়ে গেছে। ফিফা কাউন্সিলের সদস্য ও মৌরিতানিয়া ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান আহমেদ ইয়াহইয়া তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের কাছে মূল বিষয় হলো, আমরা মনে করি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোই ফুটবলের নেতৃত্ব চালিয়ে যাওয়ার জন্য সঠিক ব্যক্তি।’

এদিকে সদস্য দেশগুলোর সমর্থন ধরে রাখতে আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনাও সামনে এসেছে। আগামী চার বছরে ফিফার ২১১টি সদস্য ফুটবল ফেডারেশনের প্রতিটিকে অতিরিক্ত দেড় কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব এগিয়েছে। এর আগে ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতিটি সদস্য ফেডারেশনের জন্য এক কোটি ডলার বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার ৩৭ সদস্যের কাউন্সিলই প্রধান সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পরিষদ। কাউন্সিলের অধিকাংশ সদস্য নিজ নিজ দেশের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি। প্রত্যেক সদস্য বছরে আড়াই লাখ ডলার ভাতা পান। অন্যদিকে, মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর সভাপতিদের বার্ষিক ভাতার পরিমাণ তিন লাখ ডলার।

ফিফার পরবর্তী কাউন্সিল সভা আগামী ১৬ ডিসেম্বর কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ২৩ নভেম্বর বিশেষ কংগ্রেসে ২০৩১ ও ২০৩৫ সালের নারী বিশ্বকাপের আয়োজক নির্ধারণ করা হবে। ২০৩১ সালের আসরের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কোস্টারিকা ও জ্যামাইকার যৌথ প্রস্তাব রয়েছে। আর ২০৩৫ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য যুক্তরাজ্যের চারটি ফুটবল ফেডারেশনের প্রস্তাবই একমাত্র বিড হিসেবে রয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD