ফিফা কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করলেন ২ আর্জেন্টাইন

বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে আলোচিত ‘ফিফা দুর্নীতি কেলেঙ্কারি’ মামলায় বড় ধরনের অপরাধের দায় স্বীকার করে মার্কিন প্রসিকিউটরদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছেন আর্জেন্টিনার দুই ক্রীড়া বিপণন নির্বাহী হুগো জিনকিস ও তার ছেলে মারিয়ানো জিনকিস।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের কৌঁসুলিদের সঙ্গে হওয়া এই সমঝোতার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিচারপ্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য কারাদণ্ড এড়ানোর সুযোগ পেয়েছেন তারা। তবে এর বিনিময়ে বাবা-ছেলেকে প্রায় ৫ কোটি মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে হবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ।
আর্জেন্টিনাভিত্তিক প্রভাবশালী স্পোর্টস মার্কেটিং প্রতিষ্ঠান ‘ফুল প্লে’-এর মালিক জিনকিস পরিবার বছরের পর বছর ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলের বিভিন্ন প্রভাবশালী কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ফিফা, দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের সংস্থা কনকাকাফের বিভিন্ন টুর্নামেন্টের সম্প্রচার ও বিপণনস্বত্ব নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে কোটি কোটি ডলারের ঘুষ দেওয়া হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিশেষ করে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব ও কোপা আমেরিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতার মিডিয়া ও বিপণনস্বত্ব নিশ্চিত করতে ফুটবল কর্মকর্তাদের লাখ লাখ ডলার দেওয়া হতো বলে আদালতের নথিতে উঠে এসেছে।
মার্কিন আদালতের নথি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থাগুলোর বিভিন্ন কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করে লাভজনক টুর্নামেন্টের স্বত্ব হাতিয়ে নিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশাল দুর্নীতির নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন জিনকিস পরিবার।
বিজ্ঞাপন
২০১৫ সালে সুইজারল্যান্ডের জুরিখের একটি বিলাসবহুল হোটেলে মার্কিন তদন্ত সংস্থার অভিযানের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ফুটবলের আলোচিত দুর্নীতি কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসে। সেই ঘটনায় ফিফা ও এর বিভিন্ন আঞ্চলিক সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা এবং স্পোর্টস মার্কেটিং প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীর বিরুদ্ধে ঘুষ, অর্থপাচার ও জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়।
বহুল আলোচিত সেই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন হুগো জিনকিস ও তার ছেলে মারিয়ানো জিনকিস। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা আইনি প্রক্রিয়ার পর শেষ পর্যন্ত অপরাধ স্বীকার করে মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছেন আর্জেন্টিনার এই দুই ক্রীড়া বিপণন নির্বাহী।








