পাকিস্তানের অবিশ্বাস্য জয়, শাদাবের বীরত্বে হার মানল ইংল্যান্ড

একসময় মনে হচ্ছিল, হার এড়ানোর আর কোনো পথ খোলা নেই। ১৫৪ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পাকিস্তান। জয়ের জন্য তখনও প্রয়োজন ৮৮ রান। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাট হাতে অবিশ্বাস্য এক লড়াই উপহার দিলেন শাদাব খান ও হারিস রউফ। দশম উইকেটে তাঁদের দুর্দান্ত জুটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিল পাকিস্তান।
বিজ্ঞাপন
এই জুটি মনে করিয়ে দিয়েছে ২০২২ সালে বাংলাদেশের সেই অবিস্মরণীয় জয়ের কথা। ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে দশম উইকেটে ৫১ রানের জুটি গড়ে দলকে জিতিয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও মোস্তাফিজুর রহমান। সেদিন মিরাজের লড়াইয়ে সঙ্গী হয়েছিলেন মোস্তাফিজ। এবার পাকিস্তানের হয়ে সেই ভূমিকায় দেখা গেল শাদাব ও রউফকে।
রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে পাকিস্তান। ফখর জামান ১০, সাইম আইয়ুব ৬ এবং বাবর আজম ১০ রান করে ফিরে গেলে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।
চতুর্থ উইকেটে সাদ বেগ ও সালমান আগা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তাঁদের বিদায়ের পর দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। সাদ বেগ করেন ৩২ রান, সালমান আগার সংগ্রহ ২৬। হাসান নেওয়াজ ১৫, আরাফাত মিনহাস ১, শাহিন শাহ আফ্রিদি ৪ এবং রাজানুল্লাহ ৮ রান করে আউট হন।
বিজ্ঞাপন
দলীয় ১৫৪ রানে নবম উইকেটের পতনের পর পাকিস্তানের সামনে কঠিন সমীকরণ দাঁড়ায়। শেষ ব্যাটার হিসেবে ক্রিজে আসেন হারিস রউফ। তখন জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল আরও ৮৮ রান।
কিন্তু চাপের মুখেও হাল ছাড়েননি শাদাব। একের পর এক চার-ছক্কায় ইংল্যান্ডের বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালান তিনি। একদিকে ব্যক্তিগত ফিফটি পেরিয়ে সেঞ্চুরি তুলে নেন, অন্যদিকে রউফকে নিয়ে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন।
দশম উইকেটে তাঁদের গড়া ৮৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে পাকিস্তানের হাতে। রউফের অবদান ছিল ৭ রান। অন্য প্রান্তে অবিচল থেকে ১১৩ রানে অপরাজিত থাকেন শাদাব। তাঁর অসাধারণ ইনিংসেই শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্য জয় পায় পাকিস্তান।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এর আগে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে ইংল্যান্ড। মাত্র ১৯ রান তুলতেই তিন ব্যাটারকে হারায় দলটি। টম ব্যান্টন ৪, জো রুট ৫ এবং হ্যারি ব্রুক ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন। এরপর জর্ডান কক্সও ৬ রান করে আউট হন।
প্রাথমিক ধাক্কা সামলে বেন ডাকেট ও স্যাম কারান পঞ্চম উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। তাঁদের ব্যাটে ৯৭ রান যোগ হলে বড় সংগ্রহের ভিত্তি পায় ইংল্যান্ড।
কারান ৫২ বলে ৪২ রান করে বিদায় নেন। অন্যদিকে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ডাকেট। তাঁর ইনিংস থামে ১০৫ রানে।
বিজ্ঞাপন
শেষ দিকে অভিষিক্ত হেনরি ক্রোকোম্বিকে সঙ্গে নিয়ে দলের স্কোর বাড়ানোর চেষ্টা করেন গাস অ্যাটকিনসন। মাত্র ২৮ বলে ৩৬ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। ক্রোকোম্বি ১৪ বলে করেন ৮ রান।
পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। ৪৬ রান দিয়ে চারটি উইকেট শিকার করেন তিনি। রাজানুল্লাহ ও আরাফাত মিনহাস দুটি করে উইকেট নেন। হারিস রউফের ঝুলিতে যায় একটি উইকেট।
তবে ম্যাচের শেষ ভাগে বল হাতে উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও দলের জয়ে অবদান রাখেন রউফ। আর শাদাবের অবিশ্বাস্য সেঞ্চুরিতে নিশ্চিত হয় পাকিস্তানের নাটকীয় জয়।








