ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৬৮ রানে পিছিয়ে থেকে দিন শেষ করল বাংলাদেশ

ব্যাটিং ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না বাংলাদেশ। মিরপুর টেস্টে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর সিলেট টেস্টেও ব্যাট হাতে বিপাকে পড়েছে স্বাগতিকরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে করা ৩৫৬ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৮৮ রান। ফলে এখনো ২৬৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে টাইগাররা।
বিজ্ঞাপন
আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। দিন শেষে তাওহীদ হৃদয় ২৯ এবং মুশফিকুর রহিম ১৬ রান নিয়ে অপরাজিত রয়েছেন। চতুর্থ উইকেটে দুজনের ৩৭ রানের জুটি বাংলাদেশের ইনিংসকে কিছুটা স্থিতিশীল করেছে।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৫৬ রান সংগ্রহ করে। ক্যারিবীয়দের হয়ে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন আমির জাঙ্গু। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে সর্বোচ্চ ১৩৩ রান। এ ছাড়া কেভিন উইকহ্যাম ৬১ এবং জাস্টিন গ্রিভস ৫১ রান করেন। বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ৬ উইকেট শিকার করেছেন হাসান মাহমুদ। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তাঁর পঞ্চমবারের মতো পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কীর্তি।
৩৫৬ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। সাদমান ইসলাম অ্যাঙ্কলের চোটে ছিটকে যাওয়ায় ওপেনিংয়ে তানজিদ হাসান তামিমের সঙ্গী হন নাঈম হাসান। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও আগে কখনো ওপেনিং না করা নাঈমের নতুন অভিজ্ঞতা অবশ্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। জেইডেন সিলসের করা পঞ্চম ওভারে মাত্র ৫ রান করে স্লিপে ব্রেন্ডন কিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ১৩ রানেই প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
বিজ্ঞাপন
এরপর তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। আগের টেস্টে কনকাশন বদলি হিসেবে খেলতে নামা মুমিনুল হক নিয়ম অনুযায়ী এই ম্যাচে খেলতে না পারায় তাঁর জায়গায় ব্যাটিং অর্ডারে ওপরে ওঠেন শান্ত।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমও। জাস্টিন গ্রিভসের বলে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসে বড় শট খেলতে গিয়ে পয়েন্টে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যাম লাফিয়ে উঠে দুর্দান্ত ক্যাচটি তালুবন্দী করেন। ১৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন তানজিদ। এতে ২২ রানেই দ্বিতীয় উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
এরপর শান্ত ও তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে বাংলাদেশ। দুজন মিলে ২৯ রানের জুটি গড়লেও তা বড় করতে পারেননি। শামার জোসেফের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক শান্ত। আউট হওয়ার আগে তাঁর সংগ্রহ ১৮ রান।
বিজ্ঞাপন
এরপর তাওহীদ হৃদয়ের সঙ্গে জুটি বাঁধেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। দুজন সতর্ক ব্যাটিংয়ে দিনের বাকি সময় পার করার চেষ্টা করেন। তবে আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁদের আর মাঠে নামা হয়নি।
দিন শেষে ৮৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে রয়েছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের রান টপকাতে এখনো প্রয়োজন ২৬৮ রান। তৃতীয় দিনে হৃদয় ও মুশফিকের ব্যাটিংয়ের ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে স্বাগতিকদের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা।








