হাসান মাহমুদের ৬ উইকেটের তোপে ৩৫৬ রানে অলআউট ওয়েস্ট ইন্ডিজ

সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের বোলারদের দাপটে ৩৫৬ রানেই গুটিয়ে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পেসার হাসান মাহমুদ একাই শিকার করেছেন ৬ উইকেট। তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ের পাশাপাশি তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজের দুটি করে উইকেটে দ্বিতীয় দিনের খেলায় বড় স্বস্তি পেয়েছে স্বাগতিকরা।
বিজ্ঞাপন
শেষ উইকেটে জোমেল ওয়ারিকান ও জেইডেন সিলসের প্রতিরোধে কিছুটা বাড়তি রান পায় ক্যারিবীয়রা। দুজন মিলে ৬৭ বলে ৩৩ রানের জুটি গড়েন। শেষ পর্যন্ত এই জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তাঁর বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ১৫ রান করে ফেরেন সিলস। অন্য প্রান্তে ২৭ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন ওয়ারিকান।
সব মিলিয়ে ১০৬.৪ ওভার ব্যাট করে প্রথম ইনিংসে ৩৫৬ রান সংগ্রহ করে অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের হয়ে ৯০ রান খরচায় ৬ উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তাঁর ষষ্ঠবারের মতো ছয় উইকেট শিকার। তাসকিন ও মিরাজ নেন দুটি করে উইকেট।
এর আগে ২৩৫ রান নিয়ে ৪ উইকেটে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে দিনের শুরুতেই ক্যারিবীয় ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান বাংলাদেশের বোলাররা। প্রথম সেশনেই চারটি উইকেট তুলে নেন তাঁরা। এর মধ্যে হাসান মাহমুদ পূর্ণ করেন নিজের পাঁচ উইকেট।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
৮ উইকেটে ৩২২ রান নিয়ে মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম সেশনে ৮৭ রান যোগ করলেও হারায় চারটি উইকেট।
এর আগে প্রথম দিনের খেলা আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই বন্ধ হয়ে যায়। পরে তৃতীয় সেশনে আলো কিছুটা বাড়লে আবারও মাঠে ফেরে দুই দল। তবে মাত্র পাঁচ ওভার খেলা হওয়ার পর দিনের ইতি টানেন আম্পায়াররা। সব মিলিয়ে প্রথম দিনে খেলা হয়েছিল ৭০ ওভার, নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ২০ ওভার কম।
প্রথম দিন শেষে চার উইকেট হারিয়ে ২৩৫ রান সংগ্রহ করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবীয়দের হয়ে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেছিলেন আমির জাঙ্গু। ১১১ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন তিনি। অন্যদিকে জাস্টিন গ্রিভসের সংগ্রহ ছিল ৩৫ রান।
বিজ্ঞাপন
অথচ ইনিংসের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি সফরকারীদের। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদের গতির সামনে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে তারা। মাত্র ২৭ রানের মধ্যে তিনটি উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা।
ইনিংসের পঞ্চম ওভারের প্রথম বলেই দুর্দান্ত ডেলিভারিতে ব্রেন্ডন কিংয়ের স্টাম্প ভেঙে দেন তাসকিন। ৯ রান করে ফেরেন এই ওপেনার। দলীয় ১৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
পরের ওভারেই হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হন কাভেম হজ। সুইং বুঝতে না পেরে বল ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। শূন্য রানেই সাজঘরে ফেরেন এই ব্যাটার। দলীয় ১৪ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা।
বিজ্ঞাপন
এরপর জশুয়া ডা সিলভাকে ১২ রানে এলবিডব্লিউ করে ফেরান তাসকিন। ২৭ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
সেখান থেকে চতুর্থ উইকেটে আমির জাঙ্গু ও উইকম্যান ১৩১ রানের জুটি গড়ে দলকে বিপর্যয় থেকে টেনে তোলেন। ৬১ রান করা উইকম্যানকে বোল্ড করে এই জুটি ভাঙেন হাসান মাহমুদ।
এরপর জাঙ্গু ও জাস্টিন গ্রিভসের ব্যাটে আসে আরও ১০৬ রান। দ্বিতীয় দিনের শুরুর সেশনেও এই জুটি বাংলাদেশের বোলারদের বেশ কিছুক্ষণ আটকে রাখে। শেষ পর্যন্ত এক ওভারে জোড়া আঘাত হেনে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে নিয়ে আসেন হাসান।
বিজ্ঞাপন
প্রথমে দুর্দান্ত ডেলিভারিতে জাঙ্গুর স্টাম্প উড়িয়ে দেন তিনি। ২১২ বলে ১৩টি চার ও দুটি ছক্কায় ১৩৩ রান করেন এই ব্যাটার। পরের বলেই সুইংয়ে পরাস্ত হন ক্যারিবীয় অধিনায়ক রস্টন চেজ। উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে কোনো রান না করেই ফেরেন তিনি।
এরপর হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি হলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি হাসান। জশুয়া বিশপের বিপক্ষে এলবিডব্লিউর আবেদনে সাড়া দিয়েছিলেন আম্পায়ার। তবে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান ক্যারিবীয় ব্যাটার। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল প্যাডে লাগার আগে ব্যাটে স্পর্শ করেছিল।
তবে শেষ পর্যন্ত বিশপকেও ফিরিয়েছেন হাসান। ২৫ বলে ২৩ রান করা এই ব্যাটারকে লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করে নিজের ফাইফার পূর্ণ করেন তিনি। পরের ওভারেই ৫১ রান করা গ্রিভসকে বোল্ড করে সাজঘরে পাঠান মেহেদী হাসান মিরাজ।
বিজ্ঞাপন
এরপর শেষ উইকেটে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও ৩৫৬ রানের বেশি এগোতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস। ফলে প্রথম ইনিংসে লড়াইয়ে ফেরার ভালো সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের সামনে।








