Logo

উৎসবের বদলে ভোগান্তি নিয়ে শুরু হচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আসর

profile picture
ক্রীড়া প্রতিবেদক
৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬:১১
উৎসবের বদলে ভোগান্তি নিয়ে শুরু হচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আসর
ছবি: সংগৃহীত

‘দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ’ হিসেবে পরিচিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ঘিরে সাধারণত ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। ২০০৩, ২০০৯ ও ২০১৮ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত তিনটি আসরেও সেই উন্মাদনা দেখা গিয়েছিল। তবে এবার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই সাফের ১৫তম আসর শুরু হতে যাচ্ছে, অথচ টুর্নামেন্ট ঘিরে নেই প্রত্যাশিত আগ্রহ কিংবা আয়োজনের জৌলুশ।

বিজ্ঞাপন

আসর শুরুর আগেই নানা ধরনের দুর্ভোগে পড়েছেন অংশগ্রহণকারী দলগুলোর সদস্য, সমর্থক ও গণমাধ্যমকর্মীরা। আয়োজনের অব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক জাহিদ হাসান এমিলির মতে, এবারের সাফের পরিবেশ আগের আসরগুলোর তুলনায় অনেকটাই ম্লান।

তিনি বলেন, ‘আমি নিজে দেশে ও বিদেশে একাধিক সাফ খেলেছি। কোনো সাফই এরকম নিষ্প্রাণ লাগেনি। হামজা (চৌধুরী) বাংলাদেশের হয়ে খেলছে ফুটবলে, নব উন্মাদনায় সাফ ঢাকায় হচ্ছে, একটা বড় উৎসব হতে পারত। এর কিছুই নেই।’

টুর্নামেন্টের ম্যাচের সময়সূচি ও টিকিটের মূল্য নিয়েও ক্ষোভ জানিয়েছেন সমর্থকেরা। বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থক মেহেদী হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশ সাফের স্বাগতিক, অথচ শুক্র-শনিবার কোনো ম্যাচ নেই। যে দিনগুলোতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অফিস ছুটি থাকে। আবার বাংলাদেশের ম্যাচগুলো রাত ৮টায়। এত রাতে ম্যাচ দেখে দর্শকদের বাড়ি ফিরে পরদিন সকালে অফিস-স্কুল-কলেজ যাওয়া কঠিন। এর পাশাপাশি ১০০০ টাকা দামে অতিমূল্যের টিকিট তো আছেই।’

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সাধারণত আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে স্বাগতিক দেশের ফুটবল ফেডারেশন প্রচার, ব্যবস্থাপনা ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। এবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) স্বাগতিক হলেও সাফ আয়োজন ঘিরে তাদের দৃশ্যমান তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। অধিকাংশ দায়িত্ব সাফের ওপর থাকলেও সংস্থাটির কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। টুর্নামেন্টের স্বত্ব কিনে আয়োজনের দায়িত্বে থাকা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান টিএসএর ব্যবস্থাপনায়ও দেখা গেছে নানা অসংগতি।

উদ্বোধনের সময় ঘনিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের ট্রফি উন্মোচন করা হয়নি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিত রাখার ঘোষণা দিয়েছিল টিএসএ। তবে তাঁদের অংশগ্রহণও নিশ্চিত করা যায়নি। দুই ম্যাচের মধ্যবর্তী সময়ে অনুষ্ঠানটি কীভাবে আয়োজন করা হবে, সে বিষয়েও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

সাফকে বরাবরই গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে বাংলাদেশের গণমাধ্যম। কিন্তু এবারের আসরে সংবাদকর্মীদেরও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে। গতকাল ভারতের অনুশীলন কাভার করার সুযোগ পাননি বাংলাদেশি সাংবাদিকেরা। স্বাগতিক গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে ভারতীয় দলের ব্যবস্থাপনার আচরণ নিয়েও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া হোটেলের ছোট একটি কক্ষে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়, আর অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড সংগ্রহ করতেও সাংবাদিকদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড পাওয়ার পরও প্রেস বক্সে প্রবেশের জন্য আলাদা পাস সংগ্রহ করতে হয়েছে সংবাদকর্মীদের। বিকেল সাড়ে ৩টায় খেলা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পাস নিতে তাঁদের দুপুরেই উপস্থিত হতে হয়। পাস বিতরণের সময় ও সংখ্যা নিয়েও অসন্তোষ জানিয়েছেন সাংবাদিকেরা। এর সঙ্গে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে বাফুফে ও সাফের মধ্যে সমন্বয়হীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই আয়োজনের নানা দুর্বলতা নিয়ে আলোচনায় এসেছে এবারের সাফ।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD