গাজার অসহায় শিশুদের জন্য ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা অনুদান তুললেন হামজা

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার অসহায় শিশুদের চিকিৎসা ও জরুরি সহায়তায় ১ লাখ পাউন্ডের বেশি অনুদান সংগ্রহ করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইংলিশ ফুটবলার হামজা দেওয়ান চৌধুরী। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এই মানবিক উদ্যোগে অংশ নেওয়া দাতা, সমর্থক ও আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
নিজের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ও ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে অনুদান সংগ্রহের তথ্য জানান হামজা। গাজার শিশুদের জন্য এই অর্থ সংগ্রহ করতে পেরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তিনি।
যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিম ক্রীড়াবিদদের মানসিক স্বাস্থ্য ও ধর্মীয় অনুশাসন পালনে সহায়তা করে আসছে নুজুম স্পোর্টস নামের একটি সংস্থা। ব্রিটিশ ফুটবলের বিভিন্ন ক্লাবে মুসলিম খেলোয়াড়দের অধিকার সুরক্ষায় তৈরি ‘মুসলিম অ্যাথলেট চার্টার’-এর জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটি। হামজাও বিভিন্ন দাতব্য উদ্যোগে সংস্থাটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
অনুদান সংগ্রহের উদ্যোগে অংশ নেওয়া সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে হামজা লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমরা গাজার শিশুদের জন্য ১০০০০০ পাউন্ডেরও বেশি অর্থ সংগ্রহ করতে পেরেছি। যারা এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন, অনুদান দিয়েছেন, সমর্থন জুগিয়েছেন এবং এই আয়োজনকে সফল করতে অবদান রেখেছেন, তাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।’
বিজ্ঞাপন
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে নুজুম স্পোর্টসের অবদানের কথাও তুলে ধরেছেন হামজা। তিনি বলেন, ‘এই ইভেন্টের মাধ্যমে আমার পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে যে সময় ও অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে, তার জন্য নুজুম স্পোর্টসকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাই।’
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সংগৃহীত অর্থ ব্যয় করা হবে ‘চিলড্রেন নট নাম্বারস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে সহায়তার জন্য। সংস্থাটি গাজায় সরাসরি উপস্থিত থেকে শিশুদের জরুরি সহায়তা দিয়ে আসছে।
হামজা জানান, গাজার অনেক শিশুর জন্য চিকিৎসার উদ্দেশ্যে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া বা মেডিকেল ইভাকুয়েশনই বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, ‘সংগৃহীত পুরো অর্থ সেসব শিশুদের চিকিৎসার প্রয়োজনে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার কাজে ব্যয় করা হবে, যাদের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি।’
গাজার শিশুদের জন্য এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করলেও হামজা মনে করেন, যুদ্ধের ভয়াবহতা ও মানুষের দুর্ভোগের তুলনায় এই সহায়তা সামান্য।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, ‘খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা যা অর্জন করতে পেরেছি, তার জন্য আমি বিনম্র ও কৃতজ্ঞ। তবে আমি জানি, এত বিপুল দুঃখ-কষ্টের তুলনায় এটি অত্যন্ত সামান্য একটি অবদান মাত্র। এখনও অনেক কিছু করা বাকি, কিন্তু প্রচেষ্টা যত ছোটই হোক না কেন পরিবর্তন আনতে পারে।’
বিজ্ঞাপন
পোস্টের শেষাংশে ফিলিস্তিনের মানুষের জন্য প্রার্থনা করেছেন হামজা। তিনি বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তা আমাদের এই প্রচেষ্টাকে কবুল করুন, ফিলিস্তিনে আমাদের ভাই-বোনদের কষ্ট লাঘব করুন, তাদের শক্তি ও ধৈর্য দান করুন এবং তাদের জীবনে স্থায়ী শান্তি নিয়ে আসুন।’
গাজার শিশুদের চিকিৎসা ও জীবন রক্ষায় হামজার এই উদ্যোগকে মানবিক সহায়তার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।








